প্রধান নিউজরাজধানী

ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা মালিক-শ্রমিকদের ১০ দফা দাবি

নিউজ দর্পণ, ঢাকা: ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা বন্ধ না করে আধুনিকায়ন, নিবন্ধন, ফিটনেস সনদ, চালকদের প্রশিক্ষণ, বৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ ও নির্ধারিত রুটের আওতায় এনে একটি সুশৃঙ্খল পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলার দাবিতে সরকারের কাছে ১০ দফা দাবি জানিয়েছে ঢাকা মহানগর ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদ।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবের আব্দুস সামাদ হলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের পক্ষ থেকে এসব দাবি জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের ঢাকা মহানগর ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা মালিক শ্রমিক ঐক্য পরিষদের সভাপতি মাওলানা এস এম আবু বক্কর বলেন, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাকে সম্পূর্ণভাবে বন্ধ বা উচ্ছেদ করার পরিবর্তে আধুনিকায়ন, নিবন্ধন, ফিটনেস সার্টিফিকেশন, চালকদের প্রশিক্ষণ, বৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ, নির্ধারিত রুট এবং সড়ক ব্যবস্থাপনার আওতায় আনা প্রয়োজন। এতে একদিকে যাত্রী ও অন্যান্য সড়ক ব্যবহারকারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে, অন্যদিকে এই খাতের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত চালক, মালিক ও শ্রমজীবী মানুষের জীবিকা ও অধিকারও সুরক্ষিত থাকবে।

সংগঠনের পক্ষ থেকে সরকারের কাছে উত্থাপিত ১০ দফা দাবিগুলো হলো—
১. বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অনুমোদিত ডিজাইন অনুযায়ী ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার আধুনিকায়ন এবং ফিটনেস সার্টিফিকেট প্রদান।
২. ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার জন্য বাণিজ্যিক লাইসেন্স ও জোনভিত্তিক রুট পারমিট চালু করা।
৩. চালকদের ট্রাফিক আইন ও সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিয়ে বিশেষ ড্রাইভিং লাইসেন্সের ব্যবস্থা করা।
৪. প্রতিটি অটোরিকশা গ্যারেজে ডি-৩ (D3) ক্যাটাগরির বৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ নিশ্চিত করা।
৫. গ্যারেজগুলো থেকে সরকারের প্রাপ্য বিদ্যুৎ বিল ও রাজস্ব যথাযথভাবে আদায় এবং বিদ্যুৎ সাশ্রয় নিশ্চিত করা।
৬. সিটি করপোরেশনের প্রধান সড়কগুলোতে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার জন্য পৃথক ‘লো-স্পিড লেন’ নির্ধারণ করা।
৭. জাতীয় মহাসড়কের সঙ্গে সংযুক্ত ঢাকা শহরের প্রধান সড়কগুলোর বাম পাশে স্থায়ী প্লাস্টিক বা কংক্রিট ডিভাইডারের মাধ্যমে অটোরিকশার জন্য পৃথক লেন নির্ধারণ করা।
৮. বিদ্যমান জোনভিত্তিক ব্যবস্থার পরিবর্তে ঢাকা উত্তর ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় প্রধান ও ফিডার সড়ক বিবেচনায় নিয়ে বৈজ্ঞানিকভাবে সর্বোচ্চ পাঁচ লাখ অটোরিকশার সিলিং নির্ধারণ করা।

৯. দেশের পরিবহন ব্যবস্থার আইনি কাঠামোর মধ্যে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাকে অন্তর্ভুক্ত করা।
১০. সড়ক ব্যবস্থাপনা ও নীতিনির্ধারণের ক্ষেত্রে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার মালিক-শ্রমিক প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা।
সংবাদ সম্মেলনে নেতারা বলেন, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা খাতের সমস্যার স্থায়ী সমাধান কেবল নিষেধাজ্ঞা বা উচ্ছেদের মাধ্যমে সম্ভব নয়।

প্রযুক্তিগতভাবে আধুনিক, নিরাপদ, নিবন্ধিত এবং আইনসম্মত কাঠামোর মধ্যে এ খাতকে নিয়ে আসার মাধ্যমে একই সঙ্গে সড়ক নিরাপত্তা, সরকারি রাজস্ব এবং শ্রমজীবী মানুষের জীবিকার বিষয়টি বিবেচনা করা সম্ভব।

তারা আরও বলেন, বর্তমানে অটোরিকশা বন্ধের অন্যতম কারণ হিসেবে এর ব্রেকিং সিস্টেম ও অনিরাপদ বডি স্ট্রাকচারের বিষয়টি তুলে ধরা হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে বুয়েট অনুমোদিত আধুনিক ব্রেকিং সিস্টেম ও নিরাপদ ডিজাইনের ই-রিকশা দেশীয় প্রযুক্তিতে উৎপাদনের সুযোগ দিতে হবে। সরকার নির্ধারিত উৎপাদন কর ও অন্যান্য বিধিবদ্ধ রাজস্ব পরিশোধের মাধ্যমে স্থানীয়ভাবে এসব যানবাহন তৈরি করা যেতে পারে। একই সঙ্গে দেশের প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর চূড়ান্ত সার্টিফিকেশনের পর সড়কে চলাচলের অনুমতি দেওয়ার প্রস্তাব করেন তারা।
পুরোনো অটোরিকশাগুলো আধুনিক ও নিরাপদ প্রযুক্তিতে রূপান্তরের জন্য তিন থেকে পাঁচ বছরের নির্দিষ্ট সময়সীমা দেওয়ার দাবিও জানানো হয় সংবাদ সম্মেলনে।

সংগঠনের পক্ষ থেকে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলা হয়, ১০ দফা দাবি নিয়ে চালক-মালিক প্রতিনিধিদের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক আলোচনা করে একটি বাস্তবসম্মত ও দীর্ঘমেয়াদি নীতিমালা প্রণয়ন করতে হবে। চালক-মালিকরা আইন মেনে নিরাপদ পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত।

নেতারা বলেন, তাদের প্রত্যাশা ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা বন্ধ নয়, বরং আধুনিকায়ন ও নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে বৈধ ও নিরাপদ পরিবহন ব্যবস্থার অংশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা। একই সঙ্গে চালকদের জীবিকা সুরক্ষা এবং যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তারা।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা-ইজিবাইক মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের সভাপতি এস এম আবু বকর, সেক্রেটারি মো: আবু বকর ছিদ্দিক, কেন্দ্রীয় নেতা দেলাওয়ার হোসাইন, শরিফুল ইসলাম।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *