জাতীয়লীড

উন্মুক্ত হলো জিয়ার সমাধিস্থল: চলছে খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত


নিউজ দর্পণ, ঢাকা: শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিস্থল সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) দুপুরে সর্বসাধারণের প্রবেশের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়।
বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত করতে জিয়া উদ্যানে সাধারণ মানুষের ঢল নেমেছে। সকাল থেকেই রাজধানী ও দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ সমাধিস্থলের আশপাশে জড়ো হন। শোক আর শ্রদ্ধার আবহে অনেকে দোয়া ও মোনাজাতে অংশ নিচ্ছেন।

সকালের দিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রবেশপথ বন্ধ রাখায় বেশিরভাগ মানুষ বাইরে দাঁড়িয়েই দোয়া করছেন। তবে সাড়ে ১২টার পর থেকে ধাপে ধাপে কিছু মানুষকে ভেতরে প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। পুলিশ ও নিরাপত্তা কর্মকর্তারা দীর্ঘ সময় ধরে ভিড় নিয়ন্ত্রণ করছেন।

জিয়া উদ্যানে উপস্থিত ব্যক্তিরা জানান, তারা কেবল রাজনৈতিক নেত্রী হিসেবে নয়, বরং দেশের মানুষের মমতাময়ী নেত্রী হিসেবে খালেদা জিয়াকে শ্রদ্ধা জানাতে এসেছেন। কবরের পাশে কিছু মানুষ নীরবে হাত তুলে দোয়া করছেন, কেউ কেউ কোরআন তেলাওয়াত করছেন। বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীরাও স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে উপস্থিত থেকে সারিবদ্ধভাবে ভিড় নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করছেন। পুলিশ জানিয়েছে, পর্যায়ক্রমে সীমিত সংখ্যক মানুষকে প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে যাতে শৃঙ্খলা বজায় থাকে।

এদিকে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত জিয়া উদ্যানের প্রবেশমুখে দীর্ঘ সারি তৈরি হয়েছে। অনেকেই পরিবারসহ এসেছেন, কেউ একা দাঁড়িয়ে মোনাজাতে অংশ নিচ্ছেন। পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণ রাখতে সব পক্ষ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, আগামী দিনগুলোতেও সাধারণ মানুষের কবর জিয়ারতের আগমন অব্যাহত থাকতে পারে। ধাপে ধাপে প্রবেশের ব্যবস্থা বজায় থাকলে আরও মানুষ কবর জিয়ারত করতে পারবেন।

গত মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) ভোর ৬টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বেগম খালেদা জিয়া মারা যান।

উল্লেখ্য, গত ২৩ নভেম্বর ফুসফুসের সংক্রমণজনিত শ্বাসকষ্ট নিয়ে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরবর্তীতে নিউমোনিয়া দেখা দেয় এবং কিডনি, লিভার, আর্থ্রাইটিস ও ডায়াবেটিসসহ পুরোনো জটিলতা আরও বেড়ে যায়। শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে তাকে হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) নেওয়া হয়, যেখানে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি চিকিৎসাধীন ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *