৯ প্রতিশ্রুতি, ৫১ দফা পরিকল্পনার ইশতেহার ঘোষণা বিএনপির
নিউজ দর্পণ, রফিক মৃধা: কল্যাণমুখী সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ইশতেহার ঘোষণা করছে বিএনপি। ইশতেহারে ৯টি প্রধান প্রতিশ্রুতি ও ৫১ দফা পরিকল্পনা কথা জানান বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এই ইশতেহার কেবল নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি নয়, এটি একটি নতুন সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় চুক্তির ঘোষণা। বিএনপি প্রতিশোধ নয়, ন্যায় ও মানবিকতার রাজনীতিতে বিশ্বাস করে। ক্ষমতা নয়, জনগণের অধিকারই বিএনপির রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু। লুটপাট নয়, উৎপাদন; ভয় নয়, অধিকার; বৈষম্য নয়, ন্যায্যতা এই নীতিতেই রাষ্ট্র পরিচালিত হবে। বিএনপি বলছে, জনগণের রায়ে দায়িত্ব পেলে তারা এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলবে, যেখানে ভোটের মর্যাদা থাকবে। সন্ত্রাস, দুর্নীতি ও বৈষম্যের অবসান হবে। আইনের ঊর্ধ্বে কেউ থাকবে না। প্রত্যেক নাগরিক গর্ব করে বলতে পারবেন, সবার আগে বাংলাদেশ।
আজ শুক্রবার বিকালে রাজধানীর হোটেল প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁওয়ে বলরুমে আনুষ্ঠানিকভাবে এ ইশতেহার ঘোষণা করেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। পবিত্র কুরআন তিলাওয়াতের পর জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণার অনুষ্ঠান শুরু হয়। ইশতেহার উপস্থাপনের পর দলের কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান ধন্যবাদ জানান। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। ইশতিয়ার অনুষ্ঠানে স্বাগত ভাষণ দেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এরপরপরই নির্বাচনি ইশতেহার উপস্থাপন করতে স্টেজে আসেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ৪৪ পৃষ্ঠার এই ইশতেহার বাংলা ও ইংরেজি কপি অতিথিদের সরবারহ করা হয়। ইশতেহারের মৌলিক ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ১৯ দফা রাষ্ট্রদর্শন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ভিশন-২০৩০ এবং চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঘোষিত রাষ্ট্র মেরামতের ৩১ দফা।
শুভেচ্ছা জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, বিএনপি প্রতিষ্ঠার পর থেকে আজ পর্যন্ত আদর্শ থেকে বঞ্চিত হয় নাই। তলাবিহীন ঝুড়ির দুর্নাম ঘুচিয়ে দেশকে সমৃদ্ধ করেছেন জিয়াউর রহমান। পরবর্তিতে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াও সেই পথ ধরে এগিয়ে নিয়েছেন। ভাষণের একপর্যায়ে তারেক রহমান বলেন, বিএনপি নির্বাচিত হয়ে রাষ্ট্রক্ষমতায় গেলে ‘জুলাই সনদ অবশ্যই বাস্তবায়ন করবে।
অনুষ্ঠানে স্বাগত ভাষণ দেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল আজ এক নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করতে যাচ্ছে। আজ এক নতুন ইতিহাস, আজকে নতুন নেতৃত্ব। সেই নেতা বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বর্তমান জটিল ভূরাজনৈতিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতায় তারেক রহমান নতুন বার্তা নিয়ে আসছেন। তার নেতৃত্বে বাংলাদেশে একটি নতুন সূর্যোদয় হবে এমন আশায় আজ সমগ্র জাতি উন্মুখ।
বিএনপির ইশতেহারে যে ৯টি প্রধান প্রতিশ্রুতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে, সেগুলো হলো: ১. প্রান্তিক ও নিম্ন আয়ের পরিবারকে সুরক্ষা দিতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করে প্রতি মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা অথবা সমমূল্যের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে। অর্থসেবার এই পরিমাণ পর্যায়ক্রমে বাড়ানো হবে। ২. কৃষকের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে ‘কৃষক কার্ড’-এর মাধ্যমে ভর্তুকি, সহজ ঋণ, কৃষিবিমা ও রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় বাজারজাতকরণ জোরদার করা হবে। মৎস্যচাষি, পশুপালনকারী খামারি ও কৃষি খাতের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরাও এই সুবিধা পাবেন। ৩. দুর্নীতিমুক্ত ও মানবিক স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে দেশব্যাপী এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ করা হবে। জেলা ও মহানগর পর্যায়ে মানসম্মত চিকিৎসা, মা ও শিশুর পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্যসেবাসহ রোগ প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হবে। ৪. আনন্দময় ও কর্মমুখী শিক্ষাব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বাস্তব দক্ষতা ও মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষানীতি প্রণয়ন করা হবে। প্রাথমিক শিক্ষায় সর্বাধিক গুরুত্ব, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তি সহায়তা ও ‘মিড-ডে মিল’ চালু করা হবে। ৫. তরুণদের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, কারিগরি ও ভাষা দক্ষতা উন্নয়ন, স্টার্টআপ ও উদ্যোক্তা সহায়তা, বৈশ্বিক ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মে যুক্তকরণসহ মেধাভিত্তিক সরকারি নিয়োগ নিশ্চিত করা হবে। ৬. ক্রীড়াকে পেশা ও জীবিকার মাধ্যম হিসেবে গড়ে তুলতে জেলা–উপজেলা পর্যায়ে ক্রীড়া অবকাঠামো ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা সম্প্রসারণ করা হবে। ৭. পরিবেশ রক্ষা ও জলবায়ু সহনশীলতা জোরদারে দেশপ্রেমী জনগণের স্বেচ্ছাশ্রম ও সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে ২০ হাজার কিলোমিটার নদী–খালখনন ও পুনঃখনন, ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ ও আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা চালু করা হবে। ৮. ধর্মীয় ও সামাজিক সম্প্রীতি সুদৃঢ় করতে সব ধর্মের উপাসনালয়ের ধর্মীয় নেতৃবৃন্দের জন্য সম্মানী ও প্রশিক্ষণভিত্তিক কল্যাণ ব্যবস্থা চালু করা হবে। ৯. ডিজিটাল অর্থনীতি ও বৈশ্বিক সংযোগ বাড়াতে আন্তর্জাতিক পেমেন্ট সিষ্টেম (পেপাল) চালু, ই-কমার্সের আঞ্চলিক হাব স্থাপন ও ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ পণ্যের রপ্তানি সম্প্রসারণ করা হবে।
ইশতেহারের শুরুতেই তারেক রহমান বলেন, আপনাদের সামনে আমি যত প্ল্যান-প্রোগ্রাম-কর্মসূচি-পরিকল্পনা উপস্থাপন করেছি তার কোন কিছুই করা সম্ভব হবে না যদি না আমরা তিনটি বিষয়ের উপরে সর্বোচ্চ অগ্রিতিকার না দেই। আমি ব্যক্তিগতভাবে একজন মানুষ হিসেবে একজন রাজনীতিকর্মী হিসেবে আমি মনে করি দুর্নীতি, আইনের শাসন এবং জবাবদিহিতা। যারাই সরকার গঠন করবেন আমরা যদি এই তিনটির ব্যাপারে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ না করি, তাহলে আমরা আমাদের কোনো পরিকল্পনাকে সফল করে গড়ে তুলতে পারবো না। আজকে এখানে দাঁড়িয়ে আমার দলের পক্ষে আমি আপনাদেরকে এতটুকু বলতে চাই যে, আমার দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল আগামী ১২ তারিখে নির্বাচনে জয়ী হয়ে ইনশাআল্লাহ সরকার গঠনে সক্ষম হলে আমাদের সর্বাধিকার সর্বোচ্চ অগ্রধিকার থাকবে এই তিনটি বিষয়ের উপর গুরুত্ব আরোপ করা। দুর্নীতি আইনের শাসন এবং জবাবদিহিতা যে কোন মূল্যে আমরা এটিকে সর্বোচ্চ অধিকার দেবো। বিএনপি চেয়ারম্যান এর থেকে সংক্ষিপ্ত আকারে চৌম্বুক বিষয়গুলো উপস্থাপন করেন। এজন্য দেড় ঘন্টার সময়ের মধ্যে দেশবাসীর উদ্দেশ্যে তলে ধরেন।
ইশতেহারের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, আমরা যখন প্রথম দেশের মানুষের সামনে ৩১ দফা, ২০২৩ সালে ২৭ দফা উপস্থাপন করেছিলাম। তখন ৩১ দফা বা জুলাই সনদের বিষয়টি তখন ছিল না। যেহেতু এটি আমাদের জাতির জন্য সবকিছু মিলে একটি অত্যন্ত জরুরি বিষয় সেজন্য এটিকে আমরা সামনে নিয়ে এসেছি। কাজেই আমাদের জাতি গঠন এবং গণতন্ত্রের ভিত্তিকে যদি আমাদের শক্তিশালী করতে হয় আমরা বিশ্বাস করি যে, ৩১ দফা এবং জুলাই সনদের যেটি আছে সেটিকে অবশ্যই আমরা বাস্তবায়ন করব।কারণ জুলাই সনদের যে প্রধান বিষয়গুলো আছে সেগুলোর সাথে আমাদের ৩১ দফার অনেক কিছুর মিল আছে যা আমরা অনেক আগেই জাতির সামনে উপস্থাপন করেছিলাম। তিনি বলেন, ২০২৪ সালে যে গণঅভ্যুত্থান হয়েছে সেই গণঅভ্যুত্থান হয়েছিল ফাঁসিবাদের বিরুদ্ধে এবং এই মুহূর্তে আমরা বাংলাদেশের যেকোন প্রান্তরে যেকোন মানুষের সাথে যদি কথা বলি যারা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে, যারা দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বে বিশ্বাস করেৃ এরকম জ্ঞান সম্পন্ন যেকোন মানুষের সাথে কথা বলি, তারা একবাক্যে বলবে যে অবশ্যই আমরা ফ্যাসিবাদের পুনরাবৃত্তি চাই না এবং যেহেতু আমরা ফ্যাসিবাদের পুনরাবৃত্তি চাই না। দলমত নির্বিশেষে প্রত্যেকটি মানুষ এই কথা বলবে। সেজন্যই আমরা এটিকে গুরুত্ব আরোপ করেছি এবং এই ফ্যাসিবাদের পুনরাবৃত্তি যদি না চাই অবশ্যই আমাদেরকে ডেমোক্রেটিক প্রসেস বা গণতন্ত্রের চর্চা অব্যাহত রাখতে হবে। আমরা জনগণের শাসনের কথা বলি, জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার কথা বলি। আমি ব্যক্তিগতভাবে একজন রাজনীতিকর্মী হিসেবে মনে করি বিশ্বাস করি দীর্ঘভাবে যে জনগণের শাসনের যদি আমাদের প্রতিষ্ঠিত করতে হয় জনগণের যদি আসলেই আমরা ভাগ্যের পরিবর্তন করতে চাই। তবে একটি বিষয় আমাদেরকে নিশ্চিত করতে হবে সেটা হচ্ছে জবাবদিহিতা বা একাউন্টেবিলিটি। আমাদের সমাজের প্রত্যেকটি স্তরে, রাষ্ট্র পরিচালনার প্রত্যেকটি স্তরে, সরকার পরিচালনার প্রত্যেকটি স্তরে ধীরে ধীরে আমাদেরকে একাউন্টেবিলিটি বা জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। অর্থাৎ যারা যে দায়িত্বে থাকবেন তাদেরকে অবশ্যই জনগণের কাছে কোন না কোন ভাবে তাদের কাজের জন্য জবাবদিহিতা করতে হবে।
সংবিধানে আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা পূণঃস্থাপন করা হবে জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যখন দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পান যেহেতু আমাদের দেশের অধিকাংশ মানুষ মুসলমান সংবিধানে বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম এবং আল্লাহর উপরে সর্বশক্তিমান আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস এই কথাটি সংযোজন করেছিলেন। দুর্ভাগ্যবশত আমরা দেখেছি স্বৈরাচারের সময় সর্বশক্তিমান আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস এই কথাটিকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। ইনশাআল্লাহ ১২ তারিখে নির্বাচনে বাংলাদেশের জনগণের সমর্থনে বিএনপি সরকার গঠনে সক্ষম হলে আমরা সংবিধান সর্বশক্তিমান আল্লাহর প্রতিপূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস এই রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি হিসেবে আমরা সংবিধানে এটিকে পুনঃস্থাপন করতে চাই।
‘সংবিধান সংস্কার প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, আমাদের ৩১ দফার মাধ্যমে একটি প্রস্তাব জাতির সামনে অনেক আগেই দিয়েছিলাম। সেই প্রস্তাবটি হচ্ছে যে, এক ব্যক্তি প্রধানমন্ত্রী হবেন তার দুই মেয়াদ বা ১০ বছরের বেশি হবেন না। পরবর্তীতে সরকার কর্তৃক গঠিত যে রিফর্ম কমিশন সেখানে অন্যান্য অনেক দল আলোচনা করেছে। বাট এই কথাটি সর্বপ্রথম বিএনপি করেছিল। এটি ডকুমেন্টেড। কাজেই এটির ক্রেডিটও আমরা অবশ্যই গ্রহণ করতে চাই। আমরা ইনশাল্লাহ সরকার গঠনে সক্ষম হলে আমরা অবশ্যই দেশের আইনের মধ্যে এই বিষয়টি প্রবর্তন করব যে একজন ব্যক্তি ম্যাক্সিমাম ১০ বছর তার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তার কার্যকাল থাকবে। তিনি বলেন, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ এটি নিয়ে অনেক তর্ক-বিতর্ক ডিবেট অনেক কিছু ছিল। ৩১ দফা যেদিন আমরা উপস্থাপন করি আমরা সেই ৩১ দফার মধ্যে বলেছিলাম, যে অবশ্যই আমরা এই ৭০ অনুচ্ছেদ বিষয়টিকে আমরা ধীরে ধীরে পর্যায়ক্রমিকভাবে আমরা একটি অবস্থানে নিয়ে আসতে চাই। দুই একটি বিষয় ছাড়া এটি সম্পূর্ণভাবে ধীরে ধীরে আমরা ওপেন করে দিতে চাই। আমরা সকল সময়ই মনে করি, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল মনে করে আমরা আমাদের ৩১ দফার মাধ্যমে সেটি উপস্থাপন করেছিৃ আমরা মনে করি আমরা যারা প্রতিদিনকার রাজনীতি করি, এই যে সংসদে তিন শ আসনে যারা সদস্য নির্বাচিত হবেন তারা প্রতিদিনকার রাজনীতি করছেন। কিন্তু এই প্রতিদিনকার রাজনীতির বাইরেও সমাজে অনেক মানুষ আছেন চিকিৎসক হতে পারেন, আইনজীবী হতে পারেন, সাংবাদিক হতে পারেন, সিভিল সোসাইটির বিভিন্ন পর্যায়ের মেম্বার হতে পারেন যাদেরও দেশের সম্পর্কে বা দেশ গঠন সম্পর্কে তাদের মূল্যবান মতামত বা উপদেশ অবশ্যই থাকতে পারে, দেশ গঠনে কন্ট্রিবিউট করার মতন তাদেরও অবস্থান অবশ্যই থাকতে পারে আমরা সেজন্যই চেয়েছি যে এই মানুষগুলোর মধ্যে থেকেও যারা চান তাদেরকে আমরা দেশ পুনর্গঠন বা রাষ্ট্র পুনর্গঠন প্রসেসের মধ্যে ইনভল্ভ করব। সেজন্যই আমরা যখন প্রথম ৩১ দফা উপস্থাপন করেছি সেই সময় অন্য আর কোন দল বলার আগে আমরা সেই সময় বলেছিলাম যে দেশে আমরা সংসদে উচ্চকক্ষ প্রবর্তন করতে চাই। আমরা চাই বাংলাদেশে সমাজের সকল শ্রেণী-পেশার শুধু রাজনীতিবিদ নয়, রাজনীতিবিদদের বাইরেও যে সকল ব্যক্তি আছেন যারা কন্ট্রিবিউট করতে পারেন সকলের মতামতের ভিত্তিতে সকলের পরামর্শের ভিত্তিতে আমরা ধীরে ধীরে দেশকে সামনের দিকে পুনর্গঠন করতে চাই। রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য আনার কথাও নির্বাচনি ইশতেহারে বলা হয়েছে সুস্পষ্টভাবেই।
দলের অঙ্গীকার ব্যক্ত করে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, আগামী ১২ তারিখের নির্বাচনে আমরা বাংলাদেশের মানুষের সমর্থনে ইনশাল্লাহ সরকার গঠনে সক্ষম হলে অবশ্যই আমাদের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য থাকবে যে কোন মূল্যে সুশাসন নিশ্চিত করা। এর ভিতরে অবশ্যই আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আছে। আমাদের অন্যতম লক্ষ্য ন্যায়পাল নিয়োগ করা। যার মাধ্যমে আমরা আমাদের সুশাসনকে নিশ্চিত করার একধাপ এগিয়ে যাব। গণঅভ্যুত্থানের শহীদ পরিবার ও যোদ্ধাদের কল্যাণার্থে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে আলাদা বিভাগ প্রতিষ্ঠা, শহীদদের নামে সরকারি স্থাপনার নামকরণ, শহীদ ও আহতদের পরিবারকে সহায়তা প্রদানের করার কথা বলেন তিনি।
‘প্রতিশোধ নয় বলে উল্লেখ্য করে তারেক রহমান বলেন, বিগত ১৬ বছর ধরে রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপি একটি দল যেই দলের নেতা কর্মী সমর্থকসহ বহু মানুষ গুম খুন অত্যাচারের শিকার হয়েছে, নির্যাতনের শিকার হয়েছে। এটি রাজনৈতিক দলের সদস্য হিসেবে আজকে এখানে আমন্ত্রিত সকল অতিথির সামনে আমরা বলতে চাই অবশ্যই আমরা চাই না যে বিভীষিকার ভিতর দিয়ে বিএনপি গিয়েছে সেই ঘটনার আবার পুনরাবৃত্তি বাংলাদেশে হোক। কারণ এই ঘটনার যদি পুনরাবৃত্তি হয় তাহলে কোনভাবেই শান্তি প্রতিষ্ঠিত করা সম্ভব না। আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি, আমাদের নেতাকর্মীরা পঙ্গুত্ব বরণ করেছে, সহায় সম্পত্তি হারিয়েছে। কিন্তু প্রতিশোধ কখনো শান্তি এনে দিতে পারে না, প্রতিশোধ কখনোই ভালো কিছু এনে দিতে পারে না। সেজন্যেই আমরা মনে করি সর্বস্তরে সর্বস্তরে যত দ্রুত সম্ভব দ্রুততার সাথে সর্বস্তরে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত করার মধ্য দিয়েই একমাত্র এই দেশ এবং জাতিকে রক্ষা করতে পারে। ইশতেহারে বৈষ্যম দূর করে মেরিটোক্রেসি বাংলাদেশ বিনির্মাণ করা, মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি সংরক্ষন, মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস তুলে ধরা, বিচার বিভাগের স্বাধীরনতা নিশ্চিত করা, সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের ধারাবাহিকতা রক্ষা, ঐক্যবদ্ধ জাতি গঠন, ট্রুথ অ্যান্ড হিলিং কমিশন গঠন,স্থানীয় সরকার শক্তিশালীকরণ.প্রশাসনিক সংস্কার কমিশন গঠন, শক্তিশালী পাবলিক সার্ভিস কমিশন গঠন,রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে পেশাদারিত্ব বৃদ্ধি ও দলীয়করণ রোধ,জুডিশিয়াল কমিশন গঠন,সেবাবান্ধব পুলিশ গঠন,নারীর ক্ষমতায় বাড়ানো, পিতা-মাতার ভরণ-পোষন আইনের কার্যকর বাস্তবায়ন,বেসরকারি ব্যক্তিদের জন্য পেনসন ফান্ড গঠন,কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি, নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ নিশ্চিত করতে বিদ্যুৎ খাতের উৎপাদন ও সঞ্চালনের সক্ষমতা বৃদ্ধি , নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের উন্নয়ন, সবার জন্য নির্ভরযোগ্য ও দ্রুত ইন্টারনেট সুবিধা প্রদান, রেল পরিবহন ব্যবস্থার সম্প্রসারণ, আঞ্চলিক সুষম উন্নয়ন, চট্টগ্রামকে বানিজ্যিক রাজধানী করা, উত্তরাঞ্চলে কৃষি ভিত্তিক শিল্প প্রতিষ্ঠায় উদ্যোক্ততাদের সহায়তা প্রদান, রেলওয়ের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন করে রাজধানীর পাশ-পাশে স্যাটেলাইট শহর তৈরি করে রাজধানীর ওপর চাপ কমানো, ইকো টুরিজমের বিকাশ, কক্সবাজার ছাড়াও সুন্দরবন, উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন ঐতিহাসিক স্থানকে ঘিরে পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলা, তথ্য ও প্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষনের মাধ্যমে ১০ লক্ষ নতুন কর্মসংস্থান, গ্রামীন অর্থনীতির উন্নয়ন প্রভৃতি বিষয়ে বিএনপির অবস্থান ও করণীয় তুলে ধরেন তারেক রহমান।
রাষ্ট্রের প্রত্যেক স্তরে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা: গণতন্ত্র চর্চার মাধ্যমে জবাবদিহিতার সংস্কৃতি গড়ে তোলা হবে। রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মুক্তির সঙ্গে জবাবদিহিতাকে অবিচ্ছেদ্য করে তুলে রাষ্ট্রের প্রতিটি স্তরে। জনগণের কাছে দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করা হবে। সরকার, বিরোধী দল, রাজনৈতিক দল, রাজনৈতিক কর্মী, মেয়র, চেয়ারম্যান, কাউন্সিলর, মেম্বার, যেই হোক না যেন প্রত্যেকের জবাবদিহিতা থাকতে হবে জনগণের কাছে। ‘জনকল্যাণমূলক সরকার’ গঠন। গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার সংগ্রামে অংশগ্রহণকারী রাজনৈতিক দলসমূহকে সঙ্গে নিয়ে জনকল্যাণমূলক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সরকার গঠন করা হবে। গণমাধ্যম ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা। এমন একটি উলার ও অন্তর্ভুক্তিমূলক গণতান্ত্রিক সমাজ বিনির্মাণ করা হবে, যেখানে কোনো মত, বিশ্বাস বা পরিচয় অবমূল্যায়িত হবে না। মুক্ত ও নিরাপদ। মতপ্রকাশ, স্বাধীন গণমাধ্যম এবং বাধাহীন চিন্তার পরিবেশ নিশ্চিত করা হবে।
মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের তালিকা প্রণয়ন এবং রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ও স্বীকৃতি নিশ্চিতকরণ: রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে নিবিড় জরিপের ভিত্তিতে মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের তালিকা প্রণয়ন করা হবে এবং তাঁদের যথাযথ রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ও স্বীকৃতি প্রদান নিশ্চিত করা হবে। শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের কল্যাণার্থে নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করা হবে। মূল্যস্ফীতির সাথে সামঞ্জস্য রেখে মুক্তিযোদ্ধা ভাতা বৃদ্ধি এবং এই ভাঙা ব্যবস্থাপনাকে দুর্নীতি ও ত্রুটিমুক্ত করা হবে।
গণঅভ্যুত্থান ও ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে শহীদদের নামে সরকারি স্থাপনার নামকরণ: জুলাই গণঅভ্যুত্থানে এবং ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে সকল শহীদের তালিকা প্রস্তুত করে নিজ-নিজ এলাকায় তাদের নামে সরকারি স্থাপনার নামকরণ করা হবে। শহীদ পরিবারগুলোকে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও অর্থনৈতিক সহায়তা প্রদান করা হবে।
গণঅভ্যুত্থান ও ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে শহীদদের সার্বিক সহায়তা প্রদান: গণঅভ্যুত্থখানে ও ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে যেসব গণতন্ত্রকামী ব্যক্তি পঙ্গু হয়েছেন, চোখ হারিয়েছেন তাদেরকেও স্বীকৃতি, সুচিকিৎসা ও কর্মসংস্থানে সহায়তা প্রদান করা হবে।
গণ-অভ্যুত্থানের শহীদ পরিবার ও যোদ্ধাদের কল্যাণার্থে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীন আলাদা বিভাগ প্রতিষ্ঠা: জনগণের সমর্থনে বিএনপি সরকার গঠন করতে পারলে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদ পরিবার ও যোদ্ধাদের দেখভালের জন্য মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীন একটি আলাদা বিভাগ প্রতিষ্ঠা করা হবে। এই বিভাগ শহীদ ও আহতদের দায়েরকৃত মামলার বিচার দ্রুততর করা, সম্মানজনক জীবিকা এবং তাদের অসহায় সন্তানদের লেখাপড়ার দায়িত্ব নেবে। এই বিভাগে শহীদ পরিবারের সদস্য ও আহতদের মধ্য থেকে যোগ্যদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে।
বিএনপি বিশ্বাস করে-জাতি গঠন মানে কেবল রাষ্ট্র পরিচালনা নয়, বরং বিভাজন অতিক্রম করে একটি অভিন্ন জাতীয় সত্ত্বা নির্মাণ। বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে ধর্ম, অঞ্চল, নৃ-গোষ্ঠী, শ্রেণি ও লিঙ্গ নির্বিশেষে সকল নাগরিককে এক সূত্রে গেঁথে একটি ঐক্যবদ্ধ, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সম্প্রীতিমূলক জাতি গড়ে তোলা হবে। ফলস্বরূপ, বাংলাদেশ একটি বৈচিত্র্যসমৃদ্ধ কিন্তু ঐক্যবদ্ধ জাতিরাষ্ট্র হিসেবে অগ্রসর হবে। বিএনপি চায় বিভক্ত হয়ে পড়া এ জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করতে। বাংলাদেশের মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান, পাহাড়ের মানুষ, সমতলের মানুষ, ধনী-দরিদ্র্য নির্বিশেষে সকলে মিলে আমরা গড়ে তুলব জাতীয় ঐকা ও অখণ্ড জাতীয় সত্ত্বা। তাই সকল মতাদর্শের ঐকতান রচনার জন্য অব্যাহত আলোচনা, মতবিনিময় এবং পারস্পরিক বোঝাপড়ার সেতুবন্ধ রচনাই হবে বিএনপি’র প্রয়াস।
সুশাসন: রাষ্ট্রের সর্বস্তরে আইনের শাসন ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হবে। বিএনপি মনে করে, সুশাসন হলো গণতন্ত্র ও উন্নয়নের মূল ভিত্তি। শাসন ও বিচার ব্যবস্থার ভিত্তি হবে ইনসাফ। সকল রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে মেধাভিত্তিক, স্বচ্ছ, দক্ষ ও জনবান্ধব জনপ্রশাসন গড়ে তোলা হবে। দুর্নীতি ও অর্থপাচার দমন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার পাশাপাশি মহান মুক্তিযুদ্ধের মূলমন্ত্র সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচার প্রতিষ্ঠা করা বিএনপির সুশাসন দর্শনের মূল।
সরকারি ব্যয় ও প্রকল্পের ‘পারফরম্যান্স অডিট’ বাস্তবায়ন: সরকারি ব্যয় ও প্রকল্প ব্যয়ের কেবল আর্থিক অডিটই নয়, ‘পারফরম্যান্স অডিট’ বাস্তবায়ন করা হবে। এতে সরকারি ব্যয়ের ক্ষেত্রে জবাবদিহিতা বাড়বে এবং সুনির্দিষ্টভাবে প্রকল্পের ইস্পিত লক্ষ্য অর্জিত হবে।
অর্থপাচার রোধ ও ফ্যাসিষ্ট আমলের পাচারকৃত অর্থ দেশে ফেরত আনা: বিগত ফ্যাসিষ্ট আওয়ামী আমলে সংঘটিত অর্থপাচার ও দুর্নীতির অনুসন্ধান করে একটি পূর্ণাঙ্গ শ্বেতপত্র প্রকাশ এবং এতে চিহ্নিত দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পাচারকৃত অর্থ দেশে ফেরত আনার প্রয়োজনীয় রাজনৈতিক, কূটনৈতিক, প্রশাসনিক ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বিএনপি আইনের শাসন বাস্তবায়নে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। একই সাথে বিএনপি মানবিক মূল্যবোধ ও মানুষের মর্যাদায় বিশ্বাসী। অবশ্যই আইনের শাসনের নামে কোনো প্রকার কালা-কানুনের শাসন কিংবা বেআইনি নিপীড়ন গ্রহণযোগ্য হবে না। বিশেষ ক্ষমতা আইন ১৯৭৪ বাতিল করা হবে। জুলাই-আগষ্ট-২০২৪ গণ-অভ্যুত্থানসহ ফ্যাসিষ্ট আমলের মানবতাবিরোধী অপরাধের সুবিচার নিশ্চিতকরণ: বিগত জুলাই-আগষ্ট-২০২৪ গণ-অভ্যুত্থানে এবং ফ্যাসিষ্ট সরকার কর্তৃক গত দেড় দশক যাবত গণতান্ত্রিক আন্দোলনের সময় সংঘটিত গুম, খুন, অপহরণ, ধর্ষণ, মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা, নির্মম শারীরিক নির্যাতন, ক্রসফায়ারের নামে বিচারবহির্ভূত নির্মম হত্যাকাণ্ডসমূহের চলমান বিচার প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে। গুম প্রতিরোধ ও আন্তর্জাতিক কনভেনশন অনুযায়ী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ: গুম মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন। আজ পর্যন্ত একটি গুমের ঘটনারও ন্যায়বিচার হয়নি। ভবিষ্যতে বাংলাদেশে আর কোনো ব্যক্তি যেন গুম না হয়, সেটি নিশ্চিত করার জন্য বিএনপি জাতিসংঘ কর্তৃক গৃহীত শুম প্রতিরোধ সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক কনভেশন (আইসিপিপিইডি) অনুসারে দ্রুত যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
জুলাই স্মৃতিসৌধঃ জুলাই স্মৃতিসৌধকে ‘কেন্দ্রীয় জুলাই স্মৃতি সৌধ’-এর সরকারী স্বীকৃতি দেয়া হবে। মানবাধিকার সুরক্ষা নিশ্চিতকরণ: মানবাধিকারের সার্বজনীন ঘোষণাপত্র অনুযায়ী মানবাধিকার সুরক্ষা নিশ্চিত করা হবে। সুনির্দিষ্ট মানদণ্ডের ভিত্তিতে মানবাধিকার কমিশনে নিয়োগ প্রদান করা হবে। বিচার বিভাগের কার্যকর স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণ: বাংলাদেশের সংবিধান ও মাসদার হোসেন মামলার রায়ের আলোকে বিচার বিভাগের কার্যকর ও স্বতন্ত্র স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হবে। দুর্নীতিমুক্তকরণে বিচারসেবার আধুনিকায়ন: দুর্নীতিমুক্ত, স্বচ্ছ ও দায়বদ্ধ বিচার ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য বিচার প্রশাসন ও বিচার প্রক্রিয়াকে পূর্ণ ইলেকট্রনিক/অনলাইন ব্যবস্থাপনায় রূপান্তর করা হবে। ‘বিচারপতি নিয়োগ আইন’ প্রণয়ন: দলীয় বিবেচনার উর্ধ্বে উঠে কেবলমাত্র জ্ঞান, প্রজ্ঞা, নীতিবোধ, বিচারবোধ ও সুনামের কঠোর মানদণ্ডে যাচাই করে বিচারক নিয়োগ করা হবে। সুপ্রীম কোর্টের বিচারপতি নিয়োগের জন্য সংবিধানের ৯৫(২) (গ) অনুযায়ী ‘বিচারপতি নিয়োগ আইন’ প্রণয়ন করা হবে। সেবাবান্ধব পুলিশ গঠন: পুলিশ বাহিনীকে একটি স্বাধীন ও গণতান্ত্রিক সমাজের উপযোগী ও শক্তিশালী করে গড়ে তোলা হবে। জনবান্ধব ও সেবাবান্ধব পুলিশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে পুলিশের মোটিভেশন, ট্রেইনিং ও নৈতিক উন্নয়নে যথাযথ কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে। সিআরপিসি, পিআরবি, পুলিশ আইন এবং সংশ্লিষ্ট আইন ও বিধি অনুযায়ী পুলিশের উপর বিচার বিভাগীয় তদারকি নিশ্চিত করে জবাবদিহি, দায়িত্বশীল ও কল্যাণমূলক পুলিশ প্রশাসন গড়ে তোলা হবে।
বিএনপি বিশ্বাস করে, স্থানীয় সরকার হল গণতন্ত্র ও উন্নয়নের প্রাণকেন্দ্র। ক্ষমতা ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন শুধুমাত্র রাজধানী-কেন্দ্রিক না রেখে গ্রাম ও শহরের স্থানীয় নেতৃত্বের হাতে দায়িত্ব প্রদান করা হলে জনমুখী, কার্যকর ও টেকসই উন্নয়ন সম্ভব। উন্নয়ন কার্যক্রম, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা কার্যক্রমসহ জনগণের জন্য পরিষেবা প্রদানে স্থানীয় সরকার প্রশাসনকে ক্ষমতায়িত করে স্থানীয় সমস্যা স্থানীয় পর্যায়েই সমাধান করা এবং জনগণকে স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক সেবা প্রদানই বিএনপির লক্ষ্য।
দারিদ্র্য নিরসন ও সামাজিক সুরক্ষা: বাংলাদেশের চার কোটি ১৭ লাখ মানুষ চরম দারিদ্র্যের কবলে নিপতিত। দারিদ্র্যের হার প্রায় ২৮ শতাংশ, অতি দারিদ্র্য প্রায় দ্বিগুণ। বিএনপি মনে করে, দারিদ্র্য কোনো ব্যক্তিগত ব্যর্থতা নয়; এটি একটি রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও কাঠামোগত সংকট। দেশের প্রায় ৫৩ লাখ বিধবা নারী, ৪৬ লাখ প্রতিবন্ধী, অসংখ্য নারীপ্রধান পরিবার, ঋণে নিমজ্জিত পরিবার, দীর্ঘস্থায়ী রোগে আক্রান্ত জনগোষ্ঠী এবং খাদ্য-নিরাপত্তাহীন মানুষের উপস্থিতি প্রমাণ করে যে বর্তমান সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা যুগোপযোগী ও টেকসই নয়। এজন্য বিএনপি মানবিক, ন্যায়সঙ্গত ও মর্যাদাভিত্তিক সামাজিক সুরক্ষা কাঠামো গড়ে তোলার অঙ্গীকার করছে, যেখানে রাষ্ট্র প্রতিটি নাগরিকের জীবন ও জীবিকা রক্ষায় দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখবে। বিএনপি পর্যায়ক্রমে দেশের প্রতিটি পরিবারকে দিবে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ এবং কৃষক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, মৎস্যচাষী ও প্রাণিসম্পদ খামারীদের ‘কৃষক কার্ড’ প্রদান করবে।
পিতামাতার ভরণপোষণ আইনের কার্যকর বাস্তবায়ন: জন্মদাতা মা-বাবাকে নির্যাতন ও বৃদ্ধাশ্রমে পাঠানোর দুঃখজনক প্রবণতা নিরোধকল্পে পিতা মাতার ভরণপোষণ আইন, ২০১৩ পর্যালোচনা করে এর দুর্বলতাগুলি দূর করা ও কার্যকর প্রয়োগ নিশ্চিত করা হবে।
নারীর ক্ষমতায়ন: বিএনপি নারীদের তৃণমূল থেকে জাতীয় পর্যায়ে নেতৃত্ব, কর্মসংস্থান, শিক্ষা ও সুরক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণের মাধ্যমে সমাজে তাদের সম্পৃক্ততা এবং ক্ষমতাকে দৃঢ় করবে। দেশের সুষম উন্নয়নের জন্য বিএনপি সকল কর্মকাণ্ডে নারী সমাজকে প্রত্যক্ষভাবে সম্পৃক্ত করবে। পরিবারের নারী প্রধানের নামে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ প্রদান: প্রায় ৪ কোটি প্রান্তিক পরিবারের মধ্যে প্রাথমিকভাবে ৫০ লাখ দরিদ্র গ্রামীণ পরিবারের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করা হবে। এই কার্ড মূলত পরিবারের নারী প্রধান যথা আমাদের মা ও বোনদের নামে ইস্যু করা হবে। এই কার্ডের মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে দেশের প্রতিটি পরিবারকে বিএনপি সরকার দিবে প্রতি মাসে ২,০০০- ২,৫০০ টাকার আর্থিক সহায়তা অথবা খাদ্য সুবিধা যথা: চাল, ডাল, তেল, লবণ সহ নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য। অর্থ সেবার এই পরিমাণ পর্যায়ক্রমে বৃদ্ধি করা হবে। এই কার্ড হবে দারিদ্র্য বিমোচন, ক্ষুধামুক্তি ও নারীর স্বাবলম্বী হওয়ার নিশ্চয়তা। বেগম খালেদা জিয়া নারীদের শিক্ষার ব্যবস্থা নিশ্চিত করেছিলেন, এখন বিএনপি তাদের অর্থনৈতিক মুক্তি নিশ্চিত করতে চায়। নারী শিক্ষার্থীদের জন্য স্নাতকোত্তর পর্যন্ত বিনামূল্যে পড়ালেখার সুযোগ সৃষ্টি করা হবে। মেয়েদের জন্য একাডেমিক ও কারিগরি শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করা হবে, যাতে গ্রাম বা শহর, যেখানেই হোক, প্রতিটি মেয়ে দক্ষতা অর্জন করে নিজের ভবিষ্যৎ গড়তে পারে। উল্লেখ্য যে, বেগম খালেদা জিয়া এদেশে নারী শিক্ষা উন্নয়নে বিশেষ ভূমিকা রেখেছিলেন।
ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি বাস্তবায়ন: নারীর নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। নারী নির্যাতন, যৌতুক প্রথা, এসিড নিক্ষেপ, যৌন হয়রানি, ধর্ষণ, নারী ও শিশু পাচাররোধে কঠোর কার্যকর আইনী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ধর্ষক ও নির্যাতনকারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।
কৃষক কার্ড ও কৃষকের সার্বিক সুরক্ষা: কৃষকের জন্য নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য কৃষক কার্ড প্রদান করা হবে। এই কার্ডের মাধ্যমে ন্যায্য মূল্যে সার, বীজ, কীটনাশক, সরকারি ভর্তুকি ও প্রণোদনা এবং স্বল্প মূল্যে কৃষি যন্ত্রপাতি সুবিধা পাওয়া যাবে। পাশাপাশি, স্বল্প ব্যয়ে সেচ সুবিধা, সহজ শর্তে কৃষি ঋণ, কৃষি বীমা সুবিধা, ন্যায্য মূল্যে কৃষি পণ্য বিক্রয়ের সুবিধা ও কৃষি বিষয়ক প্রশিক্ষণ পাওয়া যাবে। তাছাড়া, কৃষক কার্ড দিয়ে মোবাইলে আবহাওয়া ও বাজার তথ্য, মোবাইলে ফসলের চিকিৎসা সুবিধা পাওয়া যাবে। মৎস্যচাষী ও প্রাণিসম্পদ খামারীরাও কৃষক কার্ডের সুবিধা পাবেন। এর পাশাপাশি, কৃষি খাতের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরাও এই সহায়তা পাবেন। প্রত্যেক ইউনিয়ন পরিষদে উন্মুক্ত আলোচনার মাধ্যমে স্বাচ্ছ প্রক্রিয়ায় ডাটা বেইস গড়ে তুলে রাষ্ট্রীয় সমর্থন পাওয়ার যোগ্য প্রকৃত কৃষকদের তালিকা প্রণয়ন করা হবে। ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত সুদসহ কৃষি ঋণ মওকুফঃ সার, বীজ, তেল, বিদ্যুৎ, সেচের পানিসহ কৃষি উপকরণের দাম বেড়েই চলছে। কিন্তু খেটে খাওয়া কৃষক ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন না। অন্যদিকে নিত্য প্রয়োজনীয় সকল জিনিষপত্রের দাম ফ্যাসিষ্ট আমল থেকে দ্রুনত বেড়েই চলেছে। জনজীবনে কোনো স্বস্তি নাই। জনগণের সরকার হিসাবে শস্য, ফসল, মৎস্য, ও পশুপালন খাতে গৃহীত ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ সুদ সহ মওকুফ করা হবে। উল্লেখ্য যে, বেগম খালেদা জিয়ার শাসনামলে ৫০০০ টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণের সুদ-আসন মওকুফ করা হয়েছিল, যা কৃষকদের কষ্ট লাঘব করে কৃষিতে উৎপাদন বৃদ্ধি করতে কার্যকর ভূমিকা পালন করেছিল
জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবেলা: জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবেলায় কৃষিকে টেকসই, আধুনিক ও জলবায়ু-সহিষ্ণু ভিত্তিতে পুনর্গঠনের জন্য সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলায় গবেষণা, উদ্ভাবন, প্রশিক্ষণ ও সম্প্রসারণ কার্যক্রমকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
প্রাণিসম্পদ খাত উন্নয়ন: হাঁস-মুরগী ও মৎস্য খামারের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত ‘ফিড’ উৎপাদন ও সরবরাহ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে। প্রতি উপজেলায় পর্যাপ্ত পশু-রোগ প্রতিষেধক ঔষধের যোগান নিশ্চিত করা এবং পশু-রোগ চিকিৎসক নিয়োগ দেয়া হবে।
মৎস্য খাত উন্নয়ন: জলমহাল, উপকূলীয় খাল ও হাওরের ইজারা প্রথা বিলুপ্ত করে এগুলো ‘জাল যার জলা তার’ এই নীতির ভিত্তিতে স্থানীয় মৎস্যজীবী ও দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য উন্মুক্ত করা হবে। জেলেদের মৎস্য আহরণের নিষিদ্ধ মৌসুমে বিকল্প কর্মসংস্থান ও খাদ্য সহায়তা জোরদার করা হবে। উন্নত মাছের প্রজাতি উদ্ভাবন, মানসম্মত ফিড উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাত শিল্প সম্প্রসারণে গুরুত্ব দেওয়া হবে।
নিরাপদ খাদ্য: বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিকের নিরাপদ খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কৃষি ও নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বিপণন হবে জাতীয় অগ্রাধিকার খাত। ভেজাল প্রতিরোধ: ভেজাল প্রতিরোধ, বিশেষ করে খাদ্যে ও ঔষধে ভেজাল রোধে মনিটিরিং ব্যবস্থা জোরদার ও আইনি ব্যবস্থার কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করা হবে।
দেশব্যাপি কর্মসংস্থান: বেকারত্ব বর্তমান বাংলাদেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা। বর্তমানে দেশে বেকারের সংখ্যা প্রায় ২৭ লাখের বেশি, যার মধ্যে প্রায় ৯ লাখ স্নাতক ডিগ্রীধারী উচ্চশিক্ষিত বেকার রয়েছেন। এর মধ্যে প্রায় ২২৯ তরুণ-তরুণী কোনো প্রকার শিক্ষা, চাকুরি ও প্রশিক্ষনে সম্পৃক্ত নয়। এই বিশাল সংখ্যক বেকারের অধিকাংশই ১৫-২৯ বছর বয়সের তরুণ-তরুণী। ‘করবো কাজ, গড়বো দেশ’ নীতির ভিত্তিতে বিভিন্ন খাতভিত্তিক কর্মসংস্থান সৃষ্টির পরিকল্পনা বাস্তবায়ন বিএনপি’র প্রথম ও প্রধান অগ্রাধিকার। ধারাবাহিকভাবে, দেশের অর্থনীতির সার্বিক সংস্কার, যাত ও অঞ্চলভিত্তিক অর্থনীতিকে চাঙ্গা করে এবং শিল্পে-বাণিজ্যে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি করে দেশব্যাপী এক কোটি কর্মসংস্থান তৈরির লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা হবে।
বেকারভাতা প্রদান: শিক্ষিত তরুণ-তরুণীদের জন্য ছয় মাস থেকে সর্বোচ্চ এক বছর পর্যন্ত অথবা কর্মসংস্থান না হওয়া পর্যন্ত (যা আগে ঘটবে ভিত্তিতে) বিশেষ আর্থিক ভাতা প্রদান করা হবে।
বিদেশে কর্মসংস্থানের জন্য ভাষা ও দক্ষতা প্রশিক্ষণ: দেশব্যাপী বিদেশি ভাষা শিক্ষা ও প্রয়োজনীয় দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য স্বল্পমেয়াদি প্রশিক্ষণ চালু করা, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বছরে ২০ লক্ষ মানুষের কর্মসংস্থানের পথ তৈরি করা, এবং বিদেশ গমনের জন্য বিনাসুদে সহজ শর্তে ঋণ সহায়তা প্রদান করা হবে।
তথ্যপ্রযুক্তিতে নতুন শিল্প: সাইবার নিরাপত্তা, আউটসোর্সিং, ডাটা প্রসেসিং, আর্টিফিসিয়াল ইন্টিলিজেন্স, সেমিকন্ডাক্টরসহ আইটি সেক্টরে নতুন শিল্প গড়ে তুলে প্রতি বছর সরাসরি দুই লক্ষ, এবং ফ্রিল্যান্সিং, ক্রিয়েটিভ ইন্ডাষ্ট্রি ও কনটেন্ট ক্রিয়েশনের মাধ্যমে পরোক্ষভাবে আট লক্ষ কর্মসংস্থান তৈরির লক্ষ্যে ব্যাপক প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।
শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ উৎসাহ: দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ সহজ করতে প্রক্রিয়া সরলীকরণ, বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষায় সিন্ডিকেট ভেঙে স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণ, জেলা পর্যায়ে বিনিয়োগ সেন্টার গড়ে তোলা, প্রবাসীদের জন্য বিশেষ বিনিয়োগ সুবিধা, এবং তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য দেশব্যাপী বিনিয়োগ শিক্ষা চালু বৃদ্ধি হবে।
প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য কর্মসংস্থান: গ্রামের শিক্ষাহীন, গৃহিনী, প্রবীণ, ও দীর্ঘমেয়াদী বেকারদের জন্য লক্ষ্যভিত্তিক কর্মসংস্থান প্রোগ্রাম চালু করা হবে, যার মধ্যে থাকবে হাঁস, মুরগী ও পশুপালন, হস্তশিল্প, কুটিরশিল্প, ক্ষুদ্র ব্যবসা, কম্পিউটার ও ডিজিটাল দক্ষতা প্রশিক্ষণ, এবং তাদের সুলভ হারের মাইক্রো-ক্রেডিট ও সরঞ্জাম সহায়তা প্রদান করা হবে।
অপ্রাতিষ্ঠানিক অর্থনীতিতে সহযোগিতা: রিকশাচালক, দিনমজুর, হকার, ফুটপাথ ব্যবসায়ী, পরিবহন শ্রমিক, নিরাপত্তাকর্মী, হরিজন, ইত্যাদি তথ্য অপ্রাতিষ্ঠানিক খাত ও প্রাইভেট সেক্টরে কর্মরত সকলের জন্য নিরাপদ কর্মপরিবেশ, সামাজিক নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য সেবা ও যৌক্তিক মজুরি নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগের মাধ্যমে দৈনন্দিন আয়ের সুযোগ বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে।
যুব উন্নয়ন: বিএনপি বিশ্বাস করে, দেশের ভবিষ্যৎ এবং জাতীয় উন্নয়ন নির্ভর করছে দক্ষ, স্বাবলম্বী ও দায়িত্বশীল যুবশক্তির উপর। বিএনপি তরুণ ও যুবকদের এমনভাবে যোগ্য করে গড়ে তুলতে চায়, যেন তারা আত্মবিশ্বাসী, উৎপাদনশীল ও নাগরিক দায়িত্ববোধসম্পন্ন হয়ে দেশের অর্থনীতি ও সমাজে অবদান রাখতে পারে। যুব উন্নয়নে বিএনপি মূলত কারিগরি শিক্ষা, ডিজিটাল দক্ষতা, উদ্যোক্তা উদ্ভাবন ও বৈশ্বিক প্রশিক্ষণ সুযোগ সম্প্রসারণে অগ্রাধিকার দেবে।
জাতীয় ডিজিটাল স্কিলস অথরিটি গঠন: ডিজিটাল কর্মশক্তির উন্নয়ন এবং ডিজিটাল দক্ষতা উন্নয়নে ‘জাতীয় ডিজিটাল ভিলস অথরিটি গঠনের উদ্যোগ নেয়া হবে। বিদেশে ব্যাপক চাহিদা রয়েছে এমন। সব সম্ভাবনাময় খাতগুলোতে খাত-ভিত্তিক কোর্স বা পাঠ্যক্রম চালু করা হবে। পাশাপাশি, ঘাত-ভিত্তিক স্কিলস কাউন্সিল গঠন (গার্মেন্টস, আইসিটি, লজিষ্টিকস, পর্যটন, কেয়ারগিভিং) করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
শিক্ষা ও মানব সম্পদ উন্নয়ন: বিএনপি দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে আধুনিক, কর্মমুখী, উৎপাদনমুখী এবং সময় উপযোগী করে গড়ে তুলবে। বিএনপি’র শিক্ষানীতি হবে জীবনমুখী। শিক্ষার সকল স্তরে জোর প্রদান করা হবে, তবে প্রাথমিক শিক্ষায় জোর দেওয়া হবে বেশি। মৌলিক মূল্যবোধ শিক্ষায় গুরুত্বারোপ করা হবে।
অনুষ্ঠানে সম্পাদক শফিক রেহমান,মতিউর রহমান, মতিউর রহমান চৌধুরীসহ বিভিন্ন গণমাধ্যম ও মিডিয়ার সম্পাদক-সিনিয়র সাংবাদিক, বিভিন্ন শ্রেনী-পেশার নাগরিকগণ এবং বিভিন্ন দেশের কুটনীতিরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে রয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আবুল মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান শাসমুজ্জামান দুদু, ড. আসাদুজ্জামান রিপন, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য ইসমাইল জবিহউল্ল্হা, অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল ফজলে এলাহী আকবর, গোলাম আকবর খন্দকার, মাসুদ আহমেদ তালুকদার, অধ্যাপক সুকোমল বড়ুয়া, নজমুল হক নান্নু, নাজিম উদ্দিন আলম, সুজা উদ্দিন, এস এম ফজলুল হক, বিজন কান্তি সরকার, আমিনুর রশিদ ইয়াছিন, বেবি নাজনীন, বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, গণফোরামের সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, জাগপার সভাপতি খন্দকার লুৎফুর রহমান, এনসিপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান মাওলানা আবদুর রব ইউসুফীসহ সিনিয়র নেতারা। শিক্ষাবিদ অধ্যাপক মাহবুবউল্লাহ, অধ্যাপক আনম ইউসুফ হায়দার,অধ্যাপক কামরুল আহসান, অধ্যাপক এবিএম ওবায়দুল ইসলাম, ঋঅধ্যাপক মামুন আহমেদ, অধ্যাপক নজরুল ইসলামসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-গবেষকরাও উপস্থিত ছিলেন।

