টঙ্গীতে অটোচালককে হাসপাতালে এনে পেটালেন চিকিৎসক

নিউজ দর্পণ, গাজীপুর : গাজীপুর নগরীর টঙ্গীতে শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. মাসুদ রানা এক অটোরিকশা চালককে পিটিয়ে আহত করেছেন। এ ঘটনায় বাধা দেওয়ায় গাজীপুর মহানগর পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের এটিএসআই সাইফুল ইসলামকেও কিলঘুষি মেরেছেন তিনি।

গতকাল মঙ্গলবার দুপুর ২টার দিকে শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালের ফটকের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হাসপাতালের ডিউটি শেষে ডা. মাসুদ রানা নগরীর আরিচপুর জামাই বাজার এলাকায় তার বাসায় ফিরছিলেন। এ সময় হাসপাতাল ফটকের সামনে একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার সঙ্গে ধাক্কা লাগে তার। এ ঘটনায় ক্ষিপ্ত হয়ে ডা. মাসুদ রানা রিকশাচালক নাসিরকে হাসপাতালের ভিতরে নিয়ে বেধড়ক মারধর করতে থাকেন।

ওই ঘটনার একপর্যায়ে অটোরিকশাচালককে বালিতে ফেলে দিয়ে ডা. মাসুদ ওই অটোচালকের মাথায় পা দিয়ে চেপে ধরে রাখেন। এই দৃশ্য দেখে ঘটনাস্থলের কাছে কর্তব্যরত ট্রাফিক পুলিশের এটিএসআই সাইফুল ইসলাম এগিয়ে আসলে ডা. মাসুদ রানা উত্তেজিত হয়ে পুলিশ সদস্যকেও ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে দেন।

পুলিশ সদস্যকেও কিলঘুষি মেরে আহত করেন উত্তেজিত চিকিৎসক মাসুদ। মুহূর্তের মধ্যে খবরটি পুলিশ সদস্যদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়লে ট্রাফিক পুলিশ ও টঙ্গী পূর্ব থানা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন।

অটোরিকশাচালক নাসির বলেন, আমার অটোরিকশার সঙ্গে ধাক্কা লেগে ডা. মাসুদ রানা পড়ে যান। পরে আমি তার কছে ক্ষমা চাইলেও তিনি আমাকে গেঞ্জির কলার চেপে ধরে হাসপাতালের ভিতরে নিয়ে বেধড়ক মারধর করে। তিনি আমাকে বালির মধ্যে ফেলে দিয়ে পা দিয়ে মাথা চেপে ধরলে আমার নিঃস্বাস বন্ধ হয়ে আসে।
ট্রাফিক পুলিশের এটিএসআই সাইফুল ইসলাম বলেন, এক বাচ্চা ছেলেকে নির্মমভাবে পেটানো দেখে আমি এগিয়ে গিয়ে ড. মাসুদ রানাকে শান্ত করার চেষ্টা করি। এ সময় তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে আমাকে ধাক্কা মেরে রাস্তায় ফেলে দেন। তার কিলঘুষিতে আমার ইউনিফর্ম ছিঁড়ে যায়। পরে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে আমাকে উদ্ধার করেন।

এ বিষয়ে ডা. মাসুদ রানা বলেন, আমি রিকশাচালককে মারধর করা অবস্থায় হঠাৎ পুলিশ সদস্য সাইফুল এসে আমাকে তার হাতে থাকা লাঠি দিয়ে আঘাত করেন। পরে আমি তাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেই।

টঙ্গী পূর্ব থানার ওসি মো. জাভেদ মাসুদ জানান, বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা হচ্ছে। যেহেতু উভয়ে সরকারী কর্মচারী তাই সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *