ঈদের আগে বাড়ল মুরগি-চিনির দাম

নিউজ দর্পণ, ঢাকা: আর এক সপ্তাহ পরেই ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব ঈদুল ফিতর। এর আগে রাজধানীর বাজারগুলোতে মুরগি ও চিনির দাম বেড়ে গেছে। সপ্তাহের ব্যবধানে ব্রয়লার মুরগির দাম কেজিতে ১০-১৫ টাকা ও চিনির দাম ২ থেকে ৫ টাকা বেড়েছে।

এর আগে গত সপ্তাহে বোতল ও খোলা উভয় ধরনের সয়াবিন তেল এবং পাম সুপার তেলের দাম বাড়ে। বোতলের সয়াবিন তেলের দাম লিটারে বাড়ে ৫ টাকা। আর খোলা সয়াবিন ও পাম সুপারের দাম কেজিতে ৪ টাকা পর্যন্ত বাড়ে। সেই সঙ্গে কেজিতে ৫ টাকা বাড়ে পেঁয়াজের দাম। এগুলোর দাম সপ্তাহের ব্যবধানে অপরিবর্তিত রয়েছে।

মুরগি, তিনি, তেল ও পেঁয়াজের দাম বাড়লেও অনেকটাই স্থিতিশীল রয়েছে সবজির দাম। সপ্তাহের ব্যবধানে বেশিরভাগ সবজির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। আজ শুক্রবার রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।

অঞ্চল ও বাজার ভেদে ব্রয়লার মুরগির কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ১৫৫ টাকায়, যা গত সপ্তাহে ছিল ১৪০ টাকা। ব্রয়লার মুরগির পাশাপাশি দাম বেড়েছে লাল লেয়ার মুরগির। গত সপ্তাহে ২০০ থেকে ২২০ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া লেয়ার মুরগির দাম বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ২৩০ থেকে ২৩৫ টাকা। তবে অপরিবর্তিত রয়েছে সোনালী বা পাকিস্তানি কক মুরগির দাম। আগের মতো ২৪০ থেকে ২৮০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে সোনালী মুরগি।

মুরগির দামের বিষয়ে খিলগাঁওয়ের ব্যবসায়ী শহীদুল বলেন, বাস চলাচলের সংবাদে গ্রাম থেকে অনেকে ঢাকায় ফিরে এসেছে। পাশাপাশি বাইরে মানুষের চলাচল বেড়েছে। এসব কারণে ব্রয়লার মুরগির চাহিদা বেড়েছে। আর চাহিদা বাড়ার কারণে দাম একটু বেড়েছে। আমাদের ধারণা, ঈদের আগে দাম আরও একটু বাড়বে।

রামপুরার ব্যবসায়ী কালাম বলেন, ঈদের আগে মুরগির দাম বাড়বে এটা স্বাভাবিক ঘটনা। এখন ব্রয়লার মুরগি দাম কিছুটা বেড়েছে। ঈদের দুই দিন আগে দেখবেন সব ধরনের মুরগির দাম আরও বেড়ে গেছে। কারণ ঈদে মুরগির চাহিদা বেড়ে যাবে।

মুরগির পাশাপাশি খোলা ও প্যাকেট উভয় ধরনের চিনির দাম বেড়েছে। খোলা চিনির কেজি বিক্রি হচ্ছে ৭৫ থেকে ৭৬ টাকা, যা গত সপ্তাহে ছিল ৭২ থেকে ৭৪ টাকা। আর ৭৫ টাকা বিক্রি হাওয়া প্যাকেট চিনির দাম বেড়ে ৭৮ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে।

চিনির দামের বিষয়ে মালিবাগ হাজীপাড়ার ব্যবসায়ী মো. আফজাল বলেন, চিনির দাম আগে থেকেই বেশি। হঠাৎ করে কোম্পানি আবার চিনির দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। এ কারণে আমাদের বাড়তি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।

এদিকে সবজি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বাজারে আগের মতো ফুলকপির পিস বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকা। এর সঙ্গে চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে সব ধরনের সবজি। বেগুনের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৬০ টাকা। মানভেদে শসার কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৪০ টাকা। পটলের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৪০ টাকা বরবটি ৪০ থেকে ৫০ টাকা, ঢ়েঁড়স ৩০ থেকে ৪০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। সপ্তাহের ব্যবধানে এ সবজিগুলোর দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

এছাড়া ঝিঙে আগের মতো ৪০ থেকে ৫০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। লাউয়ের পিস বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৭০ টাকা। পাকা টমেটোর কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৪০ টাকা। এক কেজি কচুর লতি বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৮০ টাকা। কাঁচকলার হালি বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৪০ টাকা।

সবজির দামের বিষয়ে কারওয়ান বাজারের ব্যবসায়ী সফেদ আলী বলেন, ঈদের আগে সবজির দাম বাড়া বা কমার সম্ভাবনা কম। ঈদ পর্যন্ত সবজি এমন দামেই বিক্রি হবে। তবে ঈদের পর কিছু কিছু সবজির দাম বাড়তে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *