২ সন্তানসহ পুকুরে মায়ের লাশ, চিরকুটে রহস্য

নিউজ দর্পণ, ঢাকা:ঠাকুরগাঁও জেলার রাণীশংকৈলে পুকুর থেকে দুই সন্তানসহ গৃহবধূর লাশ উদ্ধারের ঘটনায় এখনো কোন মামলা হয়নি। এদিকে নিহত গৃহবধূর বাড়ি থেকে তিন পাতার একটি চিরকুট উদ্ধার করা হয়েছে।

চিরকুটের সত্যতা নিশ্চিত করে রাণীশংকৈল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকার্ত (ওসি) এসএম জাহিদ ইকবাল কামাল হোসেন বলছেন, গৃহবধূর হাতের লেখা চিরকুটে পারিবারিক কলহ ও ঋণের বিষয়টি উল্লেখ আছে। এটি পর্যালোচনা করে দেখা হবে। আর ময়নাতদন্তের পর, হত্যা না আত্মহত্যা তা নিশ্চিত হয়েই সিদ্ধান্ত হবে মামলার বিষয়টি। ঘটনার রহস্য উদঘাটনে কাজ করছে পিবিআই, সিআইডিসহ আইনশৃঙ্খলা রাকারী বাহিনীর চারটি দল।

পুলিশ জানায়, দুই শিশুসহ মায়ের লাশ উদ্ধারের পর তাদের বাড়ি থেকে দুই পৃষ্টার একটি চিরকুট মিলেছে। যাতে লেখা ছিল- নিজেই আত্মহত্যা করিলাম- আমার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নই।

তবে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে চিরকুট অনুযায়ী যদি এটি আত্মহত্যা হয়। তাহলে লাশগুলো বাড়ি থেকে মাত্র ১৫ হাত দূরে কিভাবে ডোবায় গেলো?

ওসি বলেন, উদ্ধারকৃত দুই পৃষ্ঠার চিঠিতে নিহত আরিদা বেগম লিখে গেছেন, আহারে জীবন, সংসারের অভাব, অশান্তি আর ভালো লাগে না। আমি একাই চলে যেতাম, কিন্তু আমি একা গেলে আমার বাচ্চারা মা মা বলে হাহাকার করবে। এজন্য ওদের নিয়েই চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলাম। তবে আমরা মারা যাওয়ার পরে আমাদের তিনজনের কবর এক সাথে দিও বলে চিরকুটে উল্লেখ করেন।

ওসি চিরকুটের বরাতে জানান, আমার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী না। আমি নিজেই আত্মহত্যা করিলাম। এটা সত্যি একশ বার, একশবার, একশ বার। চিরকুটে নিহত আরিদার স্বামী আকবরকে উদ্দেশ্যে করে লেখা হয়, স্বামী তোমার প্রতি আমার কোনো অভিযোগ নাই। আমার বিয়ের মোহরানা মাফ করে দিলাম। তুমি ভালো থেকো। শ্বশুড়বাড়ির লোকজনকে উদ্দেশ্যে করে আরিফা আরও লিখে গেছেন, আপনাদের সঙ্গে অনেক খারাপ আচরণ করেছি, এজন্য মাফ চাই।

ওসি আরো জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা অভাব অনটন ও সংসারে অশান্তি ছিলো আরিদার। এ কারণে দীর্ঘদিন ধরে হতাশা ও বিষন্নতায় ভুগছিলেন তিনি। তাই মেয়ে ও ছেলেকে বিষাক্ত কোনো কিছু খাইয়ে পরে নিজে আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন। তবে আমরা নিশ্চিত না। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পেলেই, মৃত্যুর আসল রহস্য জানা যাবে।

ধর্মগড় ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি সদস্য মাইনুদ্দিন হোসেন ও স্থানীয়রা জানান, আরিদার স্বামী আকবর ফেরি করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। কোভিড-১৯ এর কারণে বেশ কয়েক মাস ব্যবসা বন্ধ ছিল। বর্তমানে তাঁর ব্যবসা ভালো যাচ্ছিলো না। এতে সংসারে অভাব দেখা দেয়। অভাব-অনটনের কারণে আকবর ঋণগ্রস্থ হয়ে পড়েন। এসব নিয়ে তাদের মধ্যে ঝগড়া-ঝাটি হতো।

ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. রকিবুল আলম চয়ন বলেন, আরিফা বেগম, তার দুই সন্তান আখলিমা আখতার ও আরাফাত হোসেনের লাশের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। প্রতিবেদনের জন্য সংগ্রহকৃত নমুনাগুলো রাজশাহীর ক্রাইম ইনভেশটিকেশন ডিপার্টমেন্টে পাঠানো হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *