স্মৃতিসৌধে নুরের সমর্থকদের সঙ্গে,চবিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের সময় ছাত্রলীগের হামলায় আহত ২০

নিউজ দর্পণ ডেস্ক : স্মৃতিসৌধে ফুল দেয়া নিয়ে নুরের সমর্থকদের সঙ্গে ছাত্রলীগের হাতাহাতি, আহত ১০, চবিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের সময় ছাত্রলীগের হামলায় ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদকসহ আহত ১০।

মহান বিজয় দিবসে স্মৃতিসৌধে ফুল দেয়াকে কেন্দ্র করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাবেক সহ-সভাপতি (ভিপি) নুরুল হক নুরের সমর্থকদের সঙ্গে ছাত্রলীগের হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে।

আজ বুধবার সকাল ৯টার দিকে জেলা শহরের ফারুকী পার্কের স্মৃতিসৌধ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।এ সংঘর্ষে অন্তত ১০ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছেন ছাত্র ও যুব অধিকার পরিষদের নেতারা।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, সকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ছাত্র ও যুব অধিকার পরিষদের ব্যানারে ভিপি নুরের সমর্থকরা স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন করতে যান।

এ সময় জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের কর্মী বলে তাদের শ্রদ্ধা নিবেদনে বাধা দেন জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি রবিউল হোসেন রুবেল ও তার কর্মী-সমর্থকরা।

পরে ফুল দিয়ে স্মৃতিসৌধ এলাকা ত্যাগ করার সময় ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা ছাত্র ও যুব অধিকার পরিষদ নেতাকর্মীদের ধাওয়া দেয়। এ সময় ছাত্র ও যুব অধিকার পরিষদ নেতাকর্মীদের সঙ্গে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় স্মৃতিসৌধ এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে ছাত্র ও যুব অধিকার পরিষদ নেতাকর্মীদের হাত থেকে ছিনিয়ে নেয়া জাতীয় পতাকা নিয়ে স্মৃতিসৌধের সামনের সড়কে মিছিল করে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা।

ছাত্র অধিকার পরিষদের ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. জুয়েল মিয়া বলেন, আমরা ৩০-৪০ জন স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন করতে যাই। ছাত্রলীগ নেতারা আমাদের বাধা দিয়ে বলেন, ৪-৫ জনকে নিয়ে স্মৃতিসৌধে ফুল দিতে। আমরা তাদের কথামত ৪-৫ জন নিয়ে ফুল দিয়ে স্মৃতিসৌধ ত্যাগ করি।।

পরে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা আমাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এতে আমাদের জেলা কমিটির সভাপতি আশরাফুল হাসানসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, আমাদের সঙ্গে কোনো শিবিরকর্মী ছিলেন না। মাদরাসা ১০/১৫ জন ছাত্র ছিলেন।

জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি রবিউল হোসেন রুবেল বলেন, ছাত্র অধিকার পরিষদের সঙ্গে আমাদের কোনো হাতাহাতি বা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেনি। তারা শিবিরকর্মীদের নিয়ে স্মৃতিসৌধে ফুল দিতে গিয়েছিল।

এ সময় তারা স্মৃতিসৌধে উস্কানিমূলক স্লোগান দিয়ে পরিবেশ নষ্ট করে। পরে ছাত্র সমাজের লোকজন তাদের বিতাড়িত করে। পরবর্তীতে আমরা স্বাধীনতাবিরোধী চক্রের বিরুদ্ধে মিছিল করেছি।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানা পুলিশের পরিদর্শক (অপারেশন্স) ইশতিয়াক আহমেদ বলেন, স্মৃতিসৌধের অভ্যন্তরে কিছু হয়নি। বাইরে কিছু হয়েছে কি-না সেটি বলতে পারব না। এ ব্যাপারে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আনিসুর রহমান জানান, বিষয়টি আমি জেনে আপনাকে জানাচ্ছি।

চবিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের সময় ছাত্রলীগের হামলায় ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদকসহ আহত ১০: বিজয় দিবস উপলক্ষ্যে ক্যাম্পাসে পুষ্পস্তবক অর্পণ করতে গিয়ে বেধড়ক মারধরের শিকার হয়েছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলামসহ ১০-১২ জন নেতাকর্মী। বুধবার (১৬ ডিসেম্বর) দুপুর ২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে অতর্কিত এ হামলা চালানো হয়। এসময় মোবাইল ও মানিব্যাগ ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ করেছে ছাত্রদল।

এ বিষয়ে চবি ছাত্রদলের সহ-সভাপতি মোহাম্মদ ইয়াছিন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে ফুল দিতে গেলে ছাত্রলীগের ২৫-৩০ জন কর্মী আমাদের উপর অতর্কিতে হামলা করেছে। পাঁচজনের কাছ থেকে মোবাইল ও মানিব্যাগ ছিনিয়ে নিয়েছে তারা। আমরা হাটহাজারীর আলিফ হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছি। সবাইকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম ও অর্থ সম্পাদক হাসান আহমেদ মুমূর্ষু অবস্থায় আছে। এছাড়াও আমি, যুগ্ম সম্পাদক আরাফাত খান, জসিম উদ্দিনসহ মোট ১০-১২ জননেতাকর্মী গুরুতর আহত হয়েছি। এ বিষয়ে জানতে চাইলে শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসাইন টিপু বলেন, ছাত্রদল ফুল দেওয়ার নামে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড সংগঠিত করতে এসেছিল। আমাদের নেতাকর্মীরা তাদের প্রতিহত করেছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর ড. আতিকুর রহমান বলেন, বিষয়টি আমরা শুনেছি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নিতে পারব।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *