সিনহা হত্যায় তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দেব: সুপারিশ বাস্তবায়ন করব

নিউজ দর্পণ, ঢাকা: পুলিশের গুলিতে মেজর (অবসরপ্রাপ্ত) সিনহা নিহত হওয়ার ঘটনায় তদন্ত কমিটির সুপারিশ আমরা বাস্তবায়ন করা হবে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘পুলিশের গুলিতে অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ নিহত হওয়ার ঘটনা তদন্তে যে কমিটি করা হয়েছে, সে কমিটি আমাদের কাছে রিপোর্ট দিয়েছে। আমরা এটা এখনো খুলে দেখিনি। আমরা এ তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দেব। আদালত এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন।’ এর আগে কমিটির প্রধান মিজানুর রহমান প্রতিবেদনটি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হাতে তুলে দেন।

এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা কমিটিকে কিছু গাইডলাইন দিয়েছি। হত্যার কারণ উদঘাটন করে এ ধরনের ঘটনা যাতে আর না ঘটে, তার জন্য সুপারিশ দিতে বলা হয়েছে। কমিটির সুপারিশ আমরা বাস্তবায়ন করব।’

এর আগে আজ বেলা ১১টা ৪০ মিনিটে তদন্ত কমিটির সদস্যরা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যান। পরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল আসার পর তাঁর কাছে তদন্ত প্রতিবেদন হস্তান্তর করেন কমিটির প্রধান।

চার সদস্যের এ কমিটির অন্যরা হলেন সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রতিনিধি লেফটেন্যান্ট কর্নেল এস এম সাজ্জাদ হোসেন, বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীর প্রতিনিধি অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক জাকির হোসেন খান ও কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের প্রতিনিধি অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ শাজাহান আলী।

এ সময় ৮০ পৃষ্ঠার মূল প্রতিবেদনের সঙ্গে ৫৮৬ পৃষ্ঠার সংযুক্তিও জমা দেওয়া হয়। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে প্রতিবেদনে ১৩টি সুপারিশ করেছে এ কমিটি।

এ বিষয়ে তদন্ত কমিটির প্রধান চট্টগ্রাম বিভাগীয় অতিরিক্ত কমিশনার মিজানুর রহমান বলেন, ‘মেজর (অব.) সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খানের নিহতের ঘটনা তদন্ত করতে গিয়ে ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ৬৮ জনের সঙ্গে কথা বলার পর তাঁদের বক্তব্য গ্রহণ করেছে কমিটি। এসব কথা ও বক্তব্য এবং প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্ত যাচাই-বাছাই ও বিশ্লেষণ করে কমিটির সব সদস্যের সর্বসম্মতিক্রমে প্রতিবেদনটি চূড়ান্ত করা হয়েছে। ঘটনার ৩৫ দিনের মাথায় রিপোর্ট জমা দেওয়া হয়েছে।’

এর আগে মিজানুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমাদের কমিটির তদন্ত কার্যক্রমের পাশাপাশি এ ঘটনায় আদালতে হত্যা মামলা করা হয়েছে। মামলা বর্তমানে বিচারাধীন। আইনি প্রক্রিয়ায় ঘটনার তদন্ত কার্যক্রম চালাচ্ছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা। এ হত্যার ঘটনার জন্য কারা দোষী, তা আদালত নির্ধারণ করবেন। দায়ী ব্যক্তিদের শাস্তি দেওয়ার এখতিয়ারও আদালতের। আমাদের কমিটির তদন্ত প্রতিবেদন প্রয়োজন মনে করলে বিচারকাজে ব্যবহার করার এখতিয়ার আছে আদালতের। তদন্ত প্রতিবেদন সম্পূর্ণ লেখা হয়ে গেছে। তদন্তে পাওয়া তথ্য-উপাত্তে সংবলিত প্রতিবেদনটির ৮০ পৃষ্ঠা হয়েছে। প্রতিবেদনের সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা আর যাতে না ঘটে, সে জন্য করণীয় সম্পর্কে ১৩টি সুপারিশ করা হয়েছে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *