সাত মামলায় দোষী মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাক

নিউজ দর্পণ ডেস্ক: রাষ্ট্রীয় তহবিল ওয়ান মালয়েশিয়া ডেভলপমেন্ট রেবহাদের(১এমডিবি) আর্থিক কেলেঙ্কারিতে সাতটি মামলায়ই দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাক। দুর্নীতির দায়ে তাকে দোষী সাব্যস্ত করেছে দেশটির আদালত। রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগ তহবিলের (ওয়ানএমডিবি) অর্থ কেলেঙ্কারির প্রথম মামলায় কুয়ালালামপুর হাই কোর্টের বিচারক মোহাম্মদ নাজিম মোহাম্মদ গাজ্জালি আজ মঙ্গলবার এই রায় ঘোষণা করেন।

বিচারপতি মোহাম্মদ গাজ্জালি বলেন, “এ মামলার সমস্ত তথ্যপ্রমাণ বিচার করে দেখা গেছে, প্রসিকিউশন তাদের অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে।”

মামলার বিষয়ে বিবিসি এক প্রতিবেদনে বলেছে, এ মামলায় নাজিব রাজাকের বিরুদ্ধে বিশ্বাসভঙ্গ, অর্থ পাচার, ক্ষমতার অপব্যবহারসহ সাত ধরনের অভিযোগ আনা হয়েছিল। রায়ে এর সবগুলো ধারাতেই সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। যদিও নাজিব রাজাক দুর্নীতিতে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ অস্বীকার কর মামলার শুনানিতে নিজেকে ‘নির্দোষ’ দাবি করেছিলেন; বলেছিলেন, আর্থিক উপদেষ্টারা তাকে ভুল বুঝিয়েছেন।

তবে বিচারক তার রায়ে সবগুলো ধারাতেই সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীকে দোষী সাব্যস্ত করেছেন। এই সাত ধারার প্রত্যেকেটিতে নাজিব রাজাকের ১৫ থেকে ২০ বছরের কারাদণ্ড এবং জরিমানা হতে পারে মালয়েশিয়ার আইনে। তবে তার আইনজীবীরা সাজা ঘোষণা পিছিয়ে দেওয়ার আবেদন করেছেন। আর নাজিব রাজাক বলেছেন, তিনি এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবেন।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোতে এই মামলার বিচারকে মালয়েশিয়ায় দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই এবং আইনের শাসনের জন্য একটি ‘পরীক্ষা’ হিসেবে বর্ণনা করা হচ্ছিল। একইসাথে এই রায়ের প্রভাব দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার এই দেশটির রাজনীতিতেও সুদূরপ্রসারী হবে।

২০০৯ সালে প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য ওয়ানএমডিবি নামে এই সার্বভৌম ফান্ড প্রতিষ্ঠা করেছিলেন নাজিব। কিন্তু ২০১৫ সালে ব্যাংক ও বন্ডহোল্ডারদের পাওনা অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হওয়ার পর ওই তহবিল নিয়ে প্রশ্ন শুরু হয়।

আন্তর্জাতিক অর্থ পাচার সংক্রান্ত অভিযোগগুলোর তদন্তকারী অন্যতম দেশ যুক্তরাষ্ট্র এ বিষয়ে তদন্ত শুরু করে। তদন্তের পর তারা জানায়, এই তহবিলের সাড়ে চারশ কোটি ডলার আত্মসাৎ করা হয়েছে।

সে সময় জানান মার্কিন তদন্তকারীরা জানান, ‘মালয়েশিয়ার এক নম্বর কর্মকর্তা’ হিসেবে চিহ্নিত এক ব্যক্তি ওয়ানএমডিবি থেকে ৬৮ কোটি ১০ লাখ ডলার গ্রহণ করেছেন। পরে জানা যায়, ওই ‘ব্যক্তি’ নাজিব রাজাক।

এর মধ্যে ওই তহবিলের ৪ কোটি ২০ লাখ রিংগিত (১ কোটি ডলার) নাজিবের ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে স্থানান্তরের ঘটনায় গতবছর ৩ এপ্রিল এ মামলার বিচার শুরু করে মালয়েশিয়ার আদালত।

২০১৮ সালে মাহাথির মোহাম্মদের কাছে ঐতিহাসিক নির্বাচনে হেরে গিয়ে ক্ষমতা হারানো নাজিব রাজাকের বিরুদ্ধে আরো বেশ কিছু দুর্নীতির মামলা এখনও বিচারাধীন।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স লিখেছে, মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) নাজিব রাজাক যখন রায়ের আগে আদালতে প্রবেশ করছিলেন, সেখানে জড়ো হওয়া কয়েকশ সমর্থক তার দীর্ঘায়ু কামনায় স্লোগান দিচ্ছিলেন। এ সময় দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে নিয়ে মাস্ক পরিহিত রাজাক আদালতের বাইরে দাঁড়িয়ে মোনাজাতেও অংশ নেন।

এ মামলার শুনানিতে তার আইনজীবীরা বলেছেন, এ মামলায় নাজিব রাজাকের অ্যাকাউন্টে আসা যে ৪ কোটি ২০ লাখ রিংগিত নিয়ে অভিযোগ তোলা হয়েছে, সেটা যে ওয়ানএমডিবির টাকা, সেটা জানা ছিল না নাজিব রাজাকের। তার আর্থিক উপদেষ্টা জো লো তাকে বলেছিলেন, সৌদি রাজ পরিবারের অনুদান থেকে এসেছে ওই অর্থ।

পলাতক জো লোর বিরুদ্ধে মালয়েশিয়ার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রেও দুর্নীতির মামলা হয়েছে। তবে তিনি কোনো ধরনের অনিয়মে জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেছিলেন এর আগে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *