সাগরে মাছ ধরা বন্ধ : চট্টগ্রামের ৫ শতাংশ জেলেও পাননি চাল

নিউজ দর্পণ, চট্টগ্রাম: ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ রক্ষার লক্ষ্যে ১৪ অক্টোবর থেকে টানা ২২ দিন সাগরে মাছ ধরা বন্ধ রেখেছে সরকার। এ সময়ে সরকারের প থেকে প্রতিটি জেলে-পরিবারের সহায়তায় ২০ কেজি করে চাল বরাদ্দ দেয়া হয়। কিন্তু চট্টগ্রাম উপকূলের অধিকাংশ জেলেই সে চাল এখনও পাননি।

আজ বৃহস্পতিবার সকালে চট্টগ্রামের ফিশারিঘাট এলাকায় গিয়ে সরেজমিনে দেখা যায়, গতকাল (বুধবার) থেকে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হলেও চট্টগ্রাম উপকূলে মাছ ধরেন এমন অধিকাংশ জেলে এখনও কর্ণফুলী নদীতে ট্রলারেই অবস্থান করছেন।

জেলেরা জানান, আজ-কালের মধ্যেই তারা বাড়ি ফিরবেন। কিন্তু এসব জেলেদের পরিবার চট্টগ্রামের বাঁশখালী, আনোয়ারা, কক্সবাজারের কুতুবদিয়া, মহেশখালী, নোয়াখালীর হাতিয়া, ভোলার মনপুরা, লক্ষ্মীপুরের আলেকজেন্ডার, চাঁদপুরের মেঘনা তীরবর্তী অঞ্চলে বসবাস করেন। চট্টগ্রামে থাকা জেলেরা তাদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে জেনেছেন- অধিকাংশই এখনও কোনো সরকারি সহায়তা পাননি।
স্থানীয় মেম্বার-চেয়ারম্যানরা তাদের পরিচিতদের এসব চাল দিয়ে দিচ্ছেন; যারা কোনোভাবেই প্রকৃত জেলে নন। এ অবস্থায় আগামী একমাস কীভাবে দিন পার করবেন এ নিয়েই অনিশ্চয়তায় রয়েছেন জেলেরা।

ভোলা মনপুরার বাসিন্দা তমিজউদ্দিন বলেন, ‘চারমাস আগে বাড়ি থেকে আসছি। এবার তেমন মাছ নেই, তাই আয় উপার্জনও ছিল না। কক্সবাজারে থাকতে কিছু টাকা বাড়িতে পাঠিয়েছিলাম, এখন হাত পুরোই খালি। মহাজন বেতন দেবে আরও কিছু দিন পরে, এর মধ্যে দাদনের টাকাও আছে। ট্রলারে থাকলে তো খাইতে পাই, এখন সেটাও বন্ধ। সবমিলিয়ে, আগামী একমাস কীভাবে চলব? বাড়ি গিয়েই বা কী খাব তা বুঝতে পারছি না।’

সরকারি সহায়তার চাল পেয়েছেন কি না- জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘না, আমি কেন? এখানে অনেক জেলের পরিবারই কোনো চাল পায়নি। গুটি কয়েকজন জেলের কার্ড আছে, ওরাও সবাই চাল পায়নি। আসলে সরকারেতো দেয়, চেয়ারম্যান-মেম্বাররা খেয়ে ফেলেন।’

এ সময় পাশ থেকে মহেশখালীর এক জেলে বলে উঠেন, ‘আপনাদের মতো যারা প্যান্ট পরে এলাকায় নেতার পেছনে ঘোরেন, চাল তারাই নিয়ে যান। জেলেদের কপালে ওই চাল নেই। ১০ বছর সাগরে মাছ ধরে এখনও জেলে হতে পারিনি; কার্ড নেই। আর যারা নেতার পেছন পেছন ঘোরে ওরা বড় জাইল্লা।’

লক্ষ্মীপুর জেলার চর আলেকজেন্ডারের জেলে হান্নান বলেন, ‘গত বৈশাখে সাগরে আসছি। ৭ মাস পর বাড়ি যামু। এ কয়দিনে যা আয় হইছে, তা আগামী একমাসে খাওয়া হয়ে যাবে। এলাকায় দেনাপাওনা আছে ওসবও মেটাতে হবে। সরকারে নাকি চাল দেবে, কিন্তু আমরা কোনো কার্ড পাইনি। আমরা যারা ফিশিং বোটে থাকি, চট্টগ্রাম এলাকায় মাছ ধরি তাদের মধ্যে শতকরা ৫ জনও চাল পায়নি। ভালো ভালো লোকেরা পাইছে, আমরা পাইনি।’

এ সময় লক্ষ্মীপুরের আরেক জেলে হাছি মিয়া বলেন, ‘কার্ডতো মেম্বার-চেয়ারম্যানরা বাইরে বিক্রি করে ফেলেন।’

হান্নান বলেন, ‘শতকরা ৫ জন হয়তো কার্ড পেয়েছে, এর বাইরের কেউ পায়নি। মেম্বার-চেয়ারম্যান ও মৎস্য অফিসার টাকা চাইয়া চাইয়া কয়েকজনরে কার্ড করায় দিছে। আমরাতো সারা বছর সাগরে থাকি, ওসব নিয়ে মাথা ঘামানোর সময় কই?’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *