সরকারের বিদায় ঘন্টা বেজে গেছে : মান্না

নিউজ দর্পণ, ঢাকা: সরকারের বিদায় ঘন্টা বেজে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন নাগরিক ঐক্যের আহবায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না।
আজ বুধবার দুপুরে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এই মন্তব্য করেন। জাতীয় প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে ‘জাতীয় সংহতি মঞ্চে’র উদ্যোগে এই মতবিনিময় সভা হয়। মূলত ১০টি ইসলামী দলগুলোকে নিয়ে এই মঞ্চ গঠিত হয়।
মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, আমি আপনাদের খুব দৃঢ় কন্ঠে বলতে চাই-এই সরকারের মৃত্যু ঘন্টা বেজে গেছে। এই সরকার এতো অন্যায় করেছে.. ওই যে কবিতা ছিলো না বা আছে এখনো- আসিছে শুধু দিন, দিনে দিনে বহু বাড়িয়েছে দেনা, শুধিতে হইবে ঋণ। এতোই চুরি করেছেন, এতোই লুট করেছেন ওইগুলো ফেরত দিতে হবে। যত অত্যাচার করেছেন তার বদলে আপনাদেরও বিচারও হবে। সেজন্য আমাদের সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলনের পথেই নামতে হবে। মানুষজন যদি একবার দেখে রাজপথে হিন্দু-মুসলমান-বৌদ্ধ-খৃষ্ট্রানের পার্থক্য নেই, ডান-বামের মধ্যে পার্থক্য নেই, জাতীয়তাবাদী এবং আন্তররজাতিকতাবাদী তাদের মধ্যে পার্থক্য নেই। গণতন্ত্রের পক্ষে সমস্ত মানুষ এক সাথে কথা বলছে। তাহলে রাস্তার চেহারাও বদলাবে, তাহলে দেশের চেহারাও বদলাবে। সেই ঐক্যের পক্ষে আপনারা আছে বলে মনে করেই আমি আজকের এই মতবিনিময় সভায় যোগ দিয়েছি।
দেশের বর্তমান সংকট উত্তরণে ইসলামী দলগুলোর ভুমিকার প্রসঙ্গ টেনে মান্না বলেন, আমি মনে করি, আপনাদের নিজেদের যে ঈমানী শক্তি, সেই শক্তি নিয়ে পথে নামেন, ডাক দেন। আমরা সবাই আপনাদের সাথে আছি। আমরাও ডাক দেবো। যদি করেন, এই ডাক যৌক্তিক। তাহলে আপনারাও আমাদের সাথে আসবেন সবাই।
সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, কিছুদিন আগেও কেউ কেউ বলতেন না যে, শেখ হাসিনা এতো শক্তিশালী- কিছু করতে পারবেন না। এখন কি মনে হচ্ছে আপনাদের? দেশে-বিদেশে সর্বত্র উনার বদনাম হয়েছে। নিজের কাজের কারণে, নিজের অত্যাচার-নির্যাতনের কারণে এখন নিজেরাই ভয় পাচ্ছেন। এজন্য বিরোধী দলের কথা বলছেন। কেনো? তারা জানেন, পরিস্থিতি বদলে যাচ্ছে। এই অত্যাচার-নির্যাতন করে বেশিদিন পারা যাবে না।
জাতীয় পার্টির(কাজী জাফর) চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দার বলেন, আজকে দেশে একটি স্বাধীন নিরপেক্ষ অবাধ নির্বাচনের দাবিতে আমাদের ঐক্য গড়ে তোলা প্রয়োজন অত্যন্ত জরুরী হয়ে পড়েছে। কিন্তু গ্রাম-বাংলায় একটা কথা আছে না, ঘর পোড়া গরু সিঁদুরে মেঘ দেখলে ভয় পায়।আজকের প্রধানমন্ত্রী যখন বলেন, একটি শক্তিশালী বিরোধী দল গঠন করতে হবে। আমি যেন গন্ধ পাই, আমি যেন ইঙ্গিত পাই, খুব বেশি বিলম্বে হয়ত প্রয়োজন হবে না তিনি একটা নির্বাচন দিয়েও দিতে পারেন। আমি একই সঙ্গে বলতে চাই, সেই নির্বাচন অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন না হয় তাহলে অর্থ কী? সেই নির্বাচন যদি অতীতের মতো সাউথ ব্লকের নিয়ন্ত্রিত একটি নির্বাচন হয় সেই নির্বাচনের সুফল এদেশের মানুষ কিছুতেই ভোগ করতে পারবে না। সেইজন্য বাস্তবতার নিরিখে আমাদেরকে রাজপথেই নামতে হবে
বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি শওকত মাহমুদ বলেন, আমাদের এক নাম্বার দাবি হতে হবে স্বৈরাচার ফ্যাসিবাদী এই সরকারের বিদায়। বাংলাদেশের মানুষের দৃষ্টিতে এই মুহুর্তে এক নাম্বার জালেম কে? আমি মনে করি, শেখ হাসিনার সরকার হচ্ছে এই নাম্বার জালেম সরকার। জাতীয় সংহতি মঞ্চকে সুস্পষ্ট উচ্চারণ করতে হবে যে, এক নাম্বার জালেম হচ্ছে হাসিনা সরকার। আপনাদের পক্ষ থেকে সাহসী উচ্চারণ আমরা চাই যে, এই সরকারকে জালেম ঘোষণা করুন এবং তাদেরকে অপসারণের জন্য আ্পনারা আন্দোলনের নেমে আসুন, আমরা আপনাদের সঙ্গে আছি।
তিনি বলেন, আলেম সমাজকে জালেমদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে হবে। আজকে আপনি প্রতিবাদ করছেন না, কালকে আপনার ওপর আসবে নির্মম হামলা। আমাদের প্রতিবাদ করতে হবে, রাজপথে নামতে হবে। আজকে জাতীয়তাবাদী ও ইসলামী শক্তির সম্মিলন ঘটাতে হবে এবং ঐক্যের মধ্য দিয়েই আমাদের এগুতে হবে। এই ঐক্য রাপজপথের ঐক্য হতে হবে, কোনো চাইনিজ হোটেলের ঐক্য আমাদের কাজে আসবে কিনা আমি জানি না। ঐক্যটা রাজপথেই হতে হবে। মানুষ চায় এই ঐক্য হোক।
আয়োজক সংগঠনের প্রধান সমন্বয়কারী মাওলানা একেএম আশরাফুল হকের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক সদস্য সচিব সিদ্দিকুর রহমানের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় আরো বক্তব্য রাখেন, এবি পার্টির মুজিবুর রহমান মঞ্জু, বিকল্পধারা‘র একাংশের অধ্যাপক নুরুল আমিন ব্যাপারী, বাংলাদেশ নেজামে ইসলামী পার্টির মুফতি মজিবুর রহমান, ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের একাংশের এম আবদুল্লাহ, দৈনিক ইনকিলাবের সহকারি সম্পাদক ওবায়দুর রহমান খান নদভী, শিক্ষক-কর্মচারি ঐক্যজোটের জাকির হোসেন, মাদ্রাসা শিক্ষক সমিতির মাওলানা দেলোয়ার হোসেন প্রমুখ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *