সবজির বাজারে আগুন

নিউজ দর্পণ, ঢাকা: সকালে হাতিরপুল বাজারে বাজার করতে এসেছিলেন এলাকার প্রবীণ বাসিন্দা আব্দুর রউফ। মাছ ও মাংসের দাম বেশি ভেবে তিনি সেগুলোই আগে কিনেছেন। আর শেষে সবজি কিনতে গিয়ে টান পড়েছে তার পকেটে।
কথা হলে আব্দুর রউফ বলেন, সবজির এত দাম বেড়েছে তা ভাবিনি। মাছ-মুরগির দাম একটু বেশি দেখে এগুলো আগে নিয়ে সবজি পরে নেব ভেবেছিলাম। এখন তো দেখি মাংসের তুলনায় সবজির দাম বেশি। মুরগি ১৩৫ টাকা, মাছ ১৫০ টাকা আর শিমের কেজি ১৬০। বলতে গেলে সবজি কিনতেই এখন পকেটে টান পড়ছে।

আজ শুক্রবার  রাজধানীর বিভিন্ন কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা যায়, সব সবজিরই চড়া দাম। দুই-তিন দিন আগেও যেসব সবজি বিক্রি হয়েছে ৪০ থেকে ৪৫ টাকায়, এখন তার কেজি ছাড়িয়েছে ৬০ টাকা।

সকালে রাজধানীর কারওয়ান বাজার, হাতিরপুল কাঁচাবাজার ও ধানমন্ডির বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে এমন চিত্র। এদিন বাজারে বেশির ভাগ সবজির কেজি প্রতি দাম ছিল ৫০ টাকা বা তার চেয়েও বেশি।

রাজধানীর কারওয়ান বাজার ও হাতিরপুল বাজারে ৫০ টাকা কেজির নিচে সবজি নেই বললেই চলে। বাজার ঘুরে দেখা যায়, করলা ১০০ টাকা কেজি। ঢেঁড়শ, লাউ, কাঁকরোল, বরবটি ও কচুর মুখি ৭০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। বেগুন ও চিচিঙ্গার দাম প্রতি কেজি ৯০ টাকা। পটল ও মুলা ৭০ টাকা এবং কাঁচা পেঁপে ৫০ টাকা।

দামের একই ধারা লক্ষ্য করা গেছে বিভিন্ন শাকে। এদিন প্রতি আঁটি লাউ শাক বিক্রি হয়েছে ৫০ টাকায়, পুই শাক ৩০ টাকা, কচুর শাক ১৫ টাকা, লাল শাক ১৫ টাকা, শাপলা ১০ টাকা এবং কলমি শাক ১৫ টাকা প্রতি আঁটিতে বিক্রি হয়েছে। টমেটো প্রতি কেজি ১১০ টাকা ও শসা ৮০ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। আর কাঁচা মরিচের কজি ২৮০ টাকা।

সবজির দাম এমন বৃদ্ধির কারণ জানতে চাইলে বিক্রেতা আব্দুল আলিম বলেন, তিন-চার দিন আগে পাইকারি বাজারে দাম কম ছিল। এখন একটু বেড়ে গেছে। তাই তার প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারেও।

বাজার মোটামুটি স্থিতিশীল আছে মাছ, মুরগি ও ডিমের দামে। হাঁসের ডিম ১৮০ টাকা ডজন, লেয়ার মুরগির ডিম ১১৫ টাকা ডজন, দেশি মুরগির ডিম ১৫০ টাকা ডজন বিক্রি হচ্ছে। আর গরুর মাংস ৬০০ টাকা এবং খাসির মাংস বিক্রি হয় ৯০০ টাকা কেজি দরে। পেঁয়াজ আগের মতোই ৯০ থেকে ১০০ টাকা কেজি।

এছাড়া ব্রয়লার মুরগির দাম প্রতি কেজি ১৩৫ টাকা, দেশি মুরগি প্রতি কেজি ৪৫০ টাকা, ফার্মের কক বা সোনালি মুরগি প্রতি কেজি ২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কারওয়ান বাজারে মাঝারি সাইজের প্রতি কেজি রুই-কাতলা ২২০ থেকে ২৫০ টাকা, আইড় ৬০০, কাচকি ৫০০, শিং ৬৫০ এবং ইলিশ ৭৫০ থেকে ৯০০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা যায়।

এদিকে চট্টগ্রামের বাজারগুলোতে চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে সব ধরনের সবজি। দাম তো কমছেই না, উল্টো এখন নতুন করে বাড়ছে সবজির দাম। ফলে বেশিরভাগ সবজি কেজি প্রতি বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকার ওপরে। এমনকি ৩০ টাকার কাঁচামরিচ ডাবল সেঞ্চুরি পার করেছে। দেশিয় কাঁচামরিচ কেজি প্রতি বিক্রয় হচ্ছে ২০০ থেকে ২২০ টাকায়। পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে চারজনের সংসারের জন্য একদিনেই লাগছে একশ টাকার সবজি। এমন চড়া দাম বেশ অস্বস্তিতে ফেলেছে নিম্ন আয়ের মানুষকে। এমনকি মধ্যবিত্তরাও অস্বস্তিতে ভুগছেন।

বৃষ্টির কারণে চট্টগ্রামের বাজারগুলোতে সবজি না আসায়। একই সঙ্গে অতিরিক্ত গরমের কারণে সবজির চাহিদা বেড়ে যাওয়া দাম বাড়ার কারণ বলে জানিয়েছে বিক্রেতারা।

আজ বৃহস্পতিবার  নগরীর রিয়াজউদ্দিন বাজার, বহদ্দারহাট, কাজীরদেউড়ি, কর্ণফুলী বাজারসহ বিভিন্ন কাঁচাবাজার ঘুরে এমন চিত্রের দেখা মিলে।

বাজারে শসা বিক্রি হচ্ছে কেজি প্রতি ৫০ থেকে ৭০ টাকা দরে, গাঁজর কেজি প্রতি ১২০ টাকা, বেগুন প্রতি কেজি ৬০ টাকা, টমেটো ৯০ থেকে ১০০ টাকা, চিচিঙ্গা ৭০ থেকে ৮০ টাকা, পটল ৬০ থেকে ৮০ টাকা, কাঁচা পেঁপে ৫০ থেকে ৫৫ টাকা, করলা ৮০ থেকে ৯০ টাকা, বরবটি ৭০ টাকা কেজি, ঝিঙা ৬০ থেকে ৭০ টাকা, তিতকরলা ৫০ থেকে ৬০ টাকা, মিষ্টিকুমড়া ৪০ টাকা, লম্বা বেগুন ৮০ টাকা, লাউ ৫০ টাকা, ঢেঁড়স ৮০ টাকা, কচুর ছড়া ৪৫ টাকার বিক্রি হচ্ছে। বাঁধাকপি ৯০ টাকা ও সিম ১৬০ টাকা কেজি।

কচুরশাকের আটি বিক্রি হচ্ছে ১৫ থেকে ২০ টাকা, লালশাক ২০ টাকা, মুলার শাক ১৫ টাকা, পালংশাক ২০ টাকা, লাউ ও কুমড়ার শাক ৩০ থেকে ৪০ টাকা ও পুঁইশাক ৩০ টাকা মোড়া প্রতি বিক্রি হচ্ছে।

এদিকে বাজারে ৩০ টাকার কাঁচামরিচ ডাবল সেঞ্চুরি পার করেছে। দেশিয় কাঁচামরিচ কেজি প্রতি বিক্রয় হচ্ছে ২০০ থেকে ২২০ টাকায়। ধনেমরিচ বিক্রয় হচ্ছে কেজি প্রতি ২২০ থেকে ২৩০ টাকায়।

মাংসের বাজারে ব্রয়লার মুরগী বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকা, সোনালী ২১০ টাকা ও দেশী ৩৮০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। গরুর মাংস ৭৫০ থেকে ৭৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর খাসির মাংসের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৮০০ থেকে ৮৫০ টাকা।

এছাড়া দেশি পেঁয়াজ প্রতি কেজি বিক্রয় হচ্ছে ৮০ থেকে ৯০ টাকায়। রসুন কেজি প্রতি ৯০ টাকা ও আদা ১৬০ টাকা।

নগরীর কর্ণফুলী বাজারে ক্রেতা মো. সেকান্দরের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, কাঁচাবাজারগুলোতে সবজি দাম প্রচুর বেড়েছে। বেশিরভাগ সবজির দাম ৮০ থেকে ১০০ টাকা। আগে ১০০ টাকা দিয়ে তিন ধরনের সবজি কিনলেও এখন শুধু যেকোন একটা সবজি নিয়ে বাড়িতে ফিরতে হয়। সবজি বাজারেই মধ্যম আয়ের মানুষের হিমসিম খেতে হচ্ছে। দাম এভাবে বাড়তে থাকলে গরীব দুঃখী মানুষের কি হবে? এধরণের দাম বাড়াটা কি পেঁয়াজের সিন্ডিকেট ব্যবসার মত?

কাঁচাবাজারগুলোতে সবজি বিক্রেতারা বলছে, বৃষ্টির কারণে বাজারে সবজি আসছে না। এছাড়া করোনাভাইরাসের কারণে লকডাউনে সবজির উৎপাদনে কৃষকেরা যে ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে, তা পুষিয়ে নিতে বেশি দাম সবজি বিক্রি করছে বলে জানান তারা। এছাড়া অতিরিক্ত গরমের কারণে সবজির চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় দামও বেশি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *