সচিবালয়েই ভুয়া চাকরির ইন্টারভিউ: প্রতারকদের সহায়তা করেন কারা

নিউজ দর্পণ, ঢাকা: সাক্ষাতকার নেয়া হয়েছে সচিবালয়ে, তারপর মিলেছে নিয়োগপত্র। সরকারি চাকরি পেয়ে খুশি যুবক পরে জানলো পুরো প্রক্রিয়াটিই বানোয়াট। আর এই চাকরি পেতে তার খরচ প্রায় ৭ লাখ টাকা। হাতেনাতে ধরার পরও জোর গলায় অভিযোগ অস্বীকার করলেন দুই যুগ্ম সচিবের ব্যক্তিগত কর্মকর্তা। এরই মধ্যে প্রতারণা চক্রের মূল হোতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
পদ্মা মেঘনা টিভি। সামাজিক মাধ্যমে চলছে হরদম প্রচার। স্যাটেলাইট টিভির লাইসেন্স পেতেও নাকি চলছে জোর প্রচেষ্টা, তাই নিয়োগও দেয়া হচ্ছে। এমনই আশায় প্রতিষ্ঠিত একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলের সম্প্রচার বিভাগের এক কর্মী যোগ দেন পদ্মা মেঘনা টিভিতে। কিন্তু দেখা গেলো, এক মাসে অফিস পাল্টেছে চারবার। বেতনের সময় ফোন ধরেন না ব্যবস্থাপনা পরিচালক।
অনুসন্ধানে সামনে আসে ভুমি অধিদপ্তরের একটি নিয়োগপত্র। অফিস সহায়ক পদে গত বছরের অক্টোবরে নিয়োগ পান সালাহ উদ্দিন নামের এক যুবক। তার আগে সেপ্টেম্বরে সচিবালয়ে নেয়া হয় তাকে। সাক্ষাতকার নেন দুই বড় অফিসার। তারপর নিয়োগপত্র পেয়ে খোজঁ নিয়ে জানতে পারেন, পুরো বিষয়টিই ভুয়া।
এরপর দুজনের বাসায়ই অভিযান চালায় গোয়েন্দা রমনা বিভাগ। রিপনের বাসা থেকে মেলে অন্তত দুইশ চাকরীপ্রার্থী মানুষের জীবনবৃন্তান্ত। বিভিন্ন সরকারি দপ্তর ও কর্মকর্তাদের সিলসহ নানা দ্রব্য। মানুষজনের কাছ থেকে নেয়া নানা অংক বসানো চেকও পায় পুলিশ।
প্রশ্ন জাগে, সচিবালয়ের মতো স্থানে এসব প্রতারকদের সহায়তা করেন কারা। সালাহ উদ্দিনের সাক্ষাতকার যারা নিয়েছিলেন তাদের বিষয়ে খোঁজ নিলে অর্থ মন্ত্রনালয়ের বাজেট শাখায় পাওয়া যায় দুই যুগ্ম সচিবের অভিযুক্ত দুই ব্যক্তিগত কর্মকর্তার কক্ষ। একজনের নাম মাহবুব আরেকজনের নাম হাতিম। ছুটিতে থাকায় হাতিম ফোনে দাবি করেন, সালাহউদ্দিনের নামে সচিবালয় পাশ ইস্যুর কারণ তার সহকর্মী মাহবুব।
প্রথমে কোন কিছুই মনে করতে পারছিলেন না মাহবুব। পরে সালাহউদ্দিনকে ভিডিও কলে আনা হলে, বদলে যায় তার কথার সূর।
অধীনস্তদের এমন প্রতারণায় বিষয়ে জানানোর পর ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিলেন অর্থবিভাগের যুগ্ম সচিব। এ ঘটনায় মামলার পর জেলে পাঠানো হয়েছে দুইজনকে। আরো কারা জড়িত তা নিয়েও কাজ করছে পুলিশ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *