সংগীতশিল্পী জানে আলমের মৃত্যু খবরে ফকির আলমগীরের স্ট্যাটাস

নিউজ দর্পণ, ঢাকা: করোনামুক্তি হওয়ার পরও পৃথিবী ছেড়ে বিদায় নিতে হলো কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী জানে আলমের ।

মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এ সংগীতশিল্পী। (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্নাইলাইহি রাজিউন)।

তার মৃত্যুর খবরের দেশের সংগীতভূবনে শোকের ছায়া নেমে আসে ।সদ্যপ্রয়াত সংগীতশিল্পীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল ফোকশিল্পী ফকির আলমগীরের। জানে আলমের মৃত্যুর খবরের পর পরই প্রয়াত শিল্পীর স্মরণে ফকির আলমগীর দীর্ঘ স্ট্যাটাস দিয়েছেন। যেখানে জানে আলম সম্পর্কে বিস্তারিত বর্ণনা দেন তিনি।

পাঠকের উদ্দেশে ফকির আলমগীরের সেই স্ট্যাটাসটি তুলে ধরা হলো :

‘একটি গন্ধমের লাগিয়া আল্লাহ বানাইছে দুনিয়া’ খ্যাত গানের পপ শিল্পী জানে আলমের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করছি। এদেশে মাইজভান্ডারী গানসহ শাহ আব্দুল করিম এবং অন্যান্য লোকগানের শিল্পীদের গান সংগ্রহ করে তিনি পরিবেশন করে খ্যাতি অর্জন করেছিলেন। তার লেখা এবং সুর করা গান অনেক জনপ্রিয় শিল্পী পরিবেশন করেছেন। দোয়েল প্রোডাকশনের ব্যানারে অনেক শিল্পীর অ্যালবাম প্রকাশ করে তিনি অডিও প্রকাশনা জগতে অবদান রেখেছিলেন। এছাড়া আমাদের পরবর্তী প্রজন্মের কাছে একজন পপ শিল্পী হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেছিলেন।কিছুদিন আগে তিনি তার সহধর্মিনীকে হারিয়েছেন। আর আজ ভক্ত-শ্রোতাদের কাঁদিয়ে নিজেই পরপারে পাড়ি জমালেন। খ্যাতিমান গীতিকার হাসান মতিউর রহমান তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু। দুজনে মিলেই লোকসঙ্গীতের বলয়ে একটি গোষ্ঠী গড়ে তুলেছিলেন যে কথা এখানে স্মরণ করা যেতে পারে। ফোক সম্রাজ্ঞী মমতাজের ঘনিষ্ঠ জানে আলম ছিল তারই মতো মানিকগঞ্জের সন্তান।স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশে আমরা যারা বাংলাদেশের পপ সঙ্গীতের সূচনা করেছিলাম, যার ধারাবাহিকতায় আজকের ব্যান্ড সংগীত। সেক্ষেত্রেও পরবর্তী পর্যায়ে তিনি সংগীত সংগ্রহ করে পরিবেশন করে অবদান রেখেছিলেন।মঞ্চে জমিয়ে সংগীত পরিবেশন করতে পারতেন। তার ব্যবহারও ছিল অমায়িক। ছোটদের আদর করত বড়দের শ্রদ্ধা করত। অনেক যন্ত্র শিল্পীদের মধ্যে তিনি জনপ্রিয় ছিলেন। সম্প্রতি আমেরিকা সফরের মধ্য দিয়ে উত্তর আমেরিকায় ভক্ত-শ্রোতা গড়ে তুলেছিলেন। তার পরিবেশনার মধ্যে অগ্রজদের অনুকরণ অনুসরণের ছাপ লক্ষ্য করা যায়। আজম খান, ফেরদৌস ওয়াহিদ, ফিরোজ সাঁই, পিলু মমতাজ প্রমুখদের অনুসরণ করে তিনি বহুবছর দাপটের সঙ্গে সারাদেশে অনুষ্ঠান করেছেন।মাইজভান্ডারীসহ লোকগান তিনি জমিয়ে পরিবেশন করতেন। অনেক অনুষ্ঠান তিনি অ্যারেঞ্জ করতেন। সেই কারণেই তার বিদায় বেলায় অনেক শিল্পী ও কলাকুশলী একটু হলেও চোখের জল ফেলবে।কারণ তিনি অনেক শিল্পীকে সহযোগিতা করতেন। আমার এবং আমার পরিবারের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। আমার পারিবারিক সমস্ত অনুষ্ঠানে তিনি অংশগ্রহণ করতেন। সদালাপী জানে আলম ভক্ত-শ্রোতা হৃদয়ে অনেকদিন বেঁচে থাকবেন তার সুন্দর ব্যবহারের জন্য। আল্লাহ তাকে বেহেশত নসিব করুক।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *