শুধু গণজাগরণের অপেক্ষায় আছি: গয়েশ্বর চন্দ্র

নিউজ দর্পণ,ঢাকা: ভোটারবিহীন বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারকে ক্ষমতার মসনদ থেকে নামাতে ‘গণজাগরণের’ প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। তিনি বলেন, ‘শুধু একটা সুযোগ একটা পরিবেশের অপেক্ষায় আছি। একটি গণজাগরণের মধ্য দিয়ে এই সরকারকে বিদায় কওে একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র একাত্তরের যে স্বপ্ন সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় আমরা বদ্ধপরিকর। গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা হলে আমাদের নেতা তারেক রহমান সুন্দর পরিবেশে দেশে ফিরে আসতে পারবেন। গণতন্ত্র ফেরাতে পারলে জনগণের স্বপ্ন তথা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার স্বপ্ন তা বাস্তবায়ন করতে পারব। আজ শুক্রবার জুমার জুমার নামাজের আগে দক্ষিণ দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির উদ্যোগে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের জন্মদিন উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। এতে উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট নিপুণ রায় চৌধুরীর সভাপতিত্বে আরো বক্তব্য রাখেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, কেন্দ্রীয় নেতা সরাফত আলী সপু, ফুটবলার আমিনুল হক, ঢাকা জেলা সভাপতি ডা. দেওয়ান সালাউদ্দিন বাবু। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোজাদ্দে আলী বাবু। এই অনুষ্ঠানে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ বিএনপির পক্ষ থেকে এক সপ্তাহের কর্মসূচি ঘোষণা করে নিপুণ রায় বলেন, আমরা আগামী সাতদিন নিজ নিজ পরিবারের সদস্যদের নিজ নিজ ধর্মীয় রীতি অনুযায়ি দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সুস্থ্যতা ও দীর্ঘায়ু কামনায় দোয়া মাহফিল ও প্রার্থণা করব।
গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘আমাদের নেতা তারেক রহমানের অক্লান্ত পরিশ্রম, আপনাদের সাথে যোগাযোগের মাধ্যমে আন্দোলন সংগ্রামের মাধ্যমে তিনি যে নির্দেশনা দিচ্ছেন, আামি আশা করব, আপনারা তার সাথে প্রতারণা করবেন না, তাকে মিথ্যা বলবেন না এবং তাকে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সহযোগিতা করবেন। নিজেদের জাহির করা নয়; তারেক রহমানের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের মধ্যদিয়ে, গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার মধ্যদিয়ে আজকে তার জন্মদিনে শুধু বলত চাই শুভ শুভ দিন তারেক রহমানের জন্মদিন।’ গয়েশ্বর চন্দ্র রায় তার বক্তব্য শেষ করে উপস্থিত নেতৃবৃন্দকে নিয়ে ৫৬ পাউন্ডের কেক কেটে তারেক রহমানের জন্মদিন উদযাপন করেন তিনি।
এর আগে সকালে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বিএনপির উদ্যোগে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ৫৬তম জন্মদিন উপলক্ষে এ দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে সংক্ষিপ্ত আলোচনায় গয়েশ্বর চন্দ্র বলেন, ‘আজকের তরুণ সমাজকে বলবেকা, আগামী দিনটা আপনারদের। আপনাদের বয়সে আমরা ‘বাংলাদেশ কেমন দেখব’ সেই কারণে একাত্তর সালে যুদ্ধ করেছিলাম। কিন্তু যে বাংলাদেশ দেখতে চেয়েছিলাম সেই বাংলাদেশ দেখতে পারি নাই এখনো। সেই বাংলাদেশ দেখার যে লড়াই সেই লড়াইয়ে আপনাদের পাশে আমরা আছি। আমরা সামনে থাকতে বললেও আছি, পিছে থাকতে বললেও আছি। অর্থাৎ আমরা কখনোই আপনাদের ছেড়ে যাবো না।’
১৯৬৫ সালের ২০ জানুয়ারি বগুড়ার বাগবাড়িতে জন্মগ্রহণ করেনে সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রয়াত জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া দম্পতির জেষ্ঠ্য সন্তান তারেক রহমান। করোনাকালীন এ বছর দিবসটি উপলক্ষে দলের দোয়া মাহফিল ছাড়া আনুষ্ঠানিক কোনও কর্মসূচি নেই। তারেক রহমানের দীর্ঘায়ু কামনা করে বিশেষ মোনাজাত হয়। মোনাজাত পরিচালনা করেন উলামা দলের আহবায়ক শাহ নেছারুল হক।
গয়েশ্বর বলেন, ‘আমাদের নিষেধ আছে- যার জন্মদিন পালন করছি স্বয়ং তার পক্ষ থেকেও আহ্বান আছে যে, কেক কাটা নয়। দোয়া এবং পারলে গরিবদের মাঝে কিছু সাহায্য সামগ্রী দেয়া। কিন্তু আবেগ তো এই নিষেধ মানে না।‘ আজকে কম হলেও ১০ হাজার কেক কাটা হবে। কারণ আবেগের জায়গায় কিন্তু বাস্তবতা পরাজিত হয়।’
তিনি বলেন, ‘জাতীয়তাবাদের একমাত্র ঠিকানা তারেক রহমান। খালেদা জিয়া আজকে জেলবন্দি থেকে গৃহবন্দি। এই যে একটি অবস্থা এই অবস্থার অতিক্রম করতে পারে এই তরুণ সমাজ ও যুব সমাজ, যারা যুগে যুগে পরিবর্তন ঘটিয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আগামী দিনটা কিন্তু আজকের যুবকদের, আজকের তরুণদের। সেকারণে আগামী বাংলাদেশটা কেমন হবে, কেমন দেখতে চান তার জন্য আপনারা সক্রিয় হয়ে আপনারা আগামী বাংলাদেশটা বিনির্মাণের প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে। যার অগ্রভাগে নেতৃত্ব দেবেন অত্যন্ত সাহসিকতার সাথে সেটা তারেক রহমান। আজকে থেকে আমরা চেষ্টা করি আগামী দিন যেন আমাদের তার নেতুত্বে, তার উপস্থিতিতে জন্মদিন পালন করতে পারি।’
কেন্দ্রীয় দফতরের দায়িত্বপ্রাপ্ত দলের সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্সের পরিচালানায় দোয়া মাহফিলে দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আমানউল্লাহ আমান বক্তব্য রাখেন। দোয়া মাহফিলে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য হাবিবুর রহমান হাবিব, যুগ্ম মহাসচিব মজিবুর রহমান সারোয়ার, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবির খোকন, হাবিব উন নবী খান সোহেল, কেন্দ্রীয় নেতা হাবিবুল ইসলাম হাবিব, আমিনুল হক, মীর সরফত আলী সপু, শহিদুল ইসলাম বাবুল, হারুনুর রশীদ, অঙ্গসংগঠনের কাজী আবুল বাশার, সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, মোরতাজুল করীম বাদরু, সাদেক আহমেদ খান, কাজী মনিরুজ্জামান মুনির, নজরুল ইসলাম তালুকদার, এসকে সাদী, মেহিদী হাসান পলাশ, আবদুর রহিমসহ কয়েক‘শ নেতাকর্মী অংশ নেন।
“মহানগরের ৫৬ পাউন্ডের ৩ কেক”
নয়াপল্টনে মহানগর বিএনপি কার্যালয়ে তারেক রহমানের জন্মদিন উপলক্ষে তিনটি কেক কাটেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। এতে উপস্থিত ছিলেন ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য হাবিবুর রহমান হাবিব ও মহানগর দক্ষিণের সভাপতি হাবিব-উন-নবী খান সোহেল ও সাধারণ সম্পাদক কাজী আবুল বাশার, সহ-সভাপতি ইউনুস মৃধা।

এদিন প্রথম প্রহরে সভারে জেলা যুবদলের উদ্যোগে কেক কাটেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু ও যুগ্ম সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়ন। প্রথম প্রহরে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের পক্ষে নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে কেক কাটেন সংগঠনের সভাপতি ফজলুর রহমান খোকন, সিনিয়র সহ-সভাপতি কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবন, সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হাসান শ্যামল, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আমিনুর রহমান আমিন, সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফ মাহমুদ জুয়েল। আজ বিকেল সাড়ে ৩টায় সুপ্রিম আইনজীবী সমিতির মিলনায়তনে জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের উদ্যোগে দুঃস্থদের মধ্যে বস্ত্র বিতরণ করবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *