লোকসানের ভয়ে সরকারি গুদামে ধান-চাল দিতে চান না কৃষক ও মিলাররা

নিউজ দর্পণ, ঢাকা: বোরোর পর এবার আমন মৌসুমে সরকারের ধান চাল সংগ্রহ অভিযানের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। নির্ধারিত দামের চেয়ে খোলা বাজারে ধানের দাম বেশি হওয়ায় সরকারি খাদ্য গুদাম থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন কৃষক ও চালকল মালিকরা। এ অবস্থায় বেসরকারিভাবে চাল আমদানির পরামর্শ ব্যবসায়ীদের।
চলতি আমন মৌসুমে লালমনিরহাটে ৭ হাজার ৭৫২ মেট্রিক টন চাল ও ৩ হাজার ৬৯৬ মেট্রিক টন ধান কেনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার। কিন্তু দেড় মাসে ধান কেনা হয়েছে ২১ মেট্রিক টন আর চাল সংগ্রহ করা হয়েছে ৮৩ মেট্রিক টন। যা লক্ষ্যমাত্রার এক শতাংশেরও কম।

চালকল মালিকরা বলছেন, বোরোর মত আমন মৌসুমে লোকসান গুনতে চান না তারা। একই অবস্থা ধানের বাজারেও। খোলা বাজারে ধানের দাম অনুযায়ী প্রতি কেজি চাল উৎপাদনে মোট খরচ ৪০ থেকে ৪১ টাকা। অথচ সরকার ৩৭ টাকা কেজি দরে চাল কিনছে। এক মণ ধান সরকার ১০৪০ দরে কিনলেও বিক্রি হচ্ছে ১০৬০ থেকে ১০৮০ টাকা দরে।
এ অবস্থায় খাদ্য মজুদ সংকটের পাশাপাশি চালের বাজার অস্থিতিশীল হওয়ার আশঙ্কা ব্যবসায়ী এবং প্রশাসনের। লালমনিরহাট জেলা চাল কল মালিক সমিতির সভাপতি এসএ হামিদ বাবু বলেন, ‘আমাদের পাশ্ববর্তী দেশ ভারত রযেছে এবং সে চাল আনলে যারা মাঝাম ব্যবসায়ী ও বড় বড় কৃষক আছে তারা কিন্তু ধানটাকে ধরে রাখছে। ওই ফ্লোটা দেখলে তারাও ধানটা ছাড়বে।
লালমনিরহাট জেলা খাদ্য সংগ্রহ কমিটি ও জেলা প্রশাসক সভাপতি আবু জাফর বলেন, ‘সরকারের বিকল্প চিন্তা সবসময় থাকে। সে অনুযায়ী নির্দেশনা আসলে মিল মালিকসহ সকলের সঙ্গে বসে আমাদের সংগ্রহ শতভাগ করার চেষ্টা করবো।’
এদিকে, নাটোরে বাম্পার ফলন হলেও সরকারের কাছে ধান-চাল বিক্রির আগ্রহ নেই কৃষকদের। খাদ্য কর্মকর্তাদের উদাসীনতাসহ নানা হয়রানির কারণে ধান চাল সংগ্রহের ওপরে প্রভাব পড়তে পারে।
জেলার খাদ্য নিয়ন্ত্রক আব্দুস সাত্তার মন্ডল জানান, ‘ধান কাটা-মারা যদি শুরু হয়ে যায় কথন বাজার নিয়ন্ত্রণে এসে যাবে আশা করছি। আমাদের লক্ষ্যমাত্রা যেহেতু কম আশা করছি আমার অর্জন করতে পারবো।
অনদিকে, হাওর অঞ্চলের সবচেয়ে বড় মোকাম ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে ধান কেনা বেচা নেই বললেই চলে। দাম কম হওয়ায় সরকারি গুদামে ধান-চাল না দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জেলা চাতাল মিল মালিক সমিতি। তবে তাদের সতর্ক করেছেন খাদ্য কর্র্মকতা।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া চাতালকল মালিক সমিতির সভাপতি বাবুল আহম্মেদ বলেন, ‘সরকার যদি রেট না বাড়ায় আমরা চুক্তি করবো না। ধানের বাজার কমবে বলে মনে হয়না, যদি সরকার এলসি আনে তাহরে চালের বাজার কমতে পারে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার খাদ্য নিয়ন্ত্রক সুবীর নাথ চৌধুরী বলেন, ‘মিল মালিকরা যদি চুক্তি না করে তাহলে তাদের এক বছর বা ২ বছর ধান সংগ্রহ থেকে বাদিত রাখার কথা নীতিমালায় বলা আছে।
এ অবস্থায় বাজারের সাথে মিল রেখে ধান-চাল সংগ্রহে মূল্য পূনঃনির্ধারণ করার দাবি মিল মালিক ও কৃষকদের।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *