লালমনিরহাটে লাশ নিয়ে সড়ক অবরোধ

নিউজ দর্পণ, লালমনিরহাট: লালমনিরহাটের কালীগঞ্জে খলিল নামে এক শ্রমিকের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে সড়ক অবরোধ করেছেন স্থানীয় লোকজন।
আজ মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে কালীগঞ্জ বাসষ্টান্ড এলাকায় খলিলের লাশ নিয়ে প্রায় ৩ ঘণ্টা সড়ক অবরোধ করে কয়েক’শ বিক্ষোভকারী। এ সময় খলিলের মৃত্যুর জন্য উত্তরবাংলা কলেজের প্রভাষক এস তাবাস্সুম রায়হান মুস্তাযীর তামন্নাকে দায়ীকে তাকে গ্রেফতার এবং কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরজু মো. সাজ্জাদ হোসেনের প্রত্যাহারের দাবি করা হয়।
দুপুর পৌনে ১টায় অবরোধ স্থলে আসেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদ। তিনি অবরোধ প্রত্যাহারের জন্য অনুরোধ করলেও অবরোধ প্রত্যাহার করেনি বিক্ষোভকারীরা। এ সময় মন্ত্রী প্রায় ৪৫ মিনিট অবরোধস্থলে অবস্থান করেন। অবরোধের কারণে সড়কের দু’পাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে যায়।
স্থানীয়রা জানান, কালীগঞ্জ কাশিরাম এলাকার বাসিন্দা ও কাকিনা উত্তরবাংলা কলেজের ইংরেজী বিভাগের প্রভাষক এস তাবাস্সুম রায়হান মুস্তাযীর তামন্না ওই এলাকায় স্থানীয় লোকজনের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা করে দীর্ঘদিন ধরে হয়রানী করে আসছে। সম্প্রতি সময় তার দায়ের করা মামলায় লালমনিরহাটে আদালতে হাজিরা দিয়ে গিয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে সোমবার মারা যান খলিল নামে এক শ্রমিক। অভিযোগ উঠে, ওই শ্রমিক খলিলকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। আর এ হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত ওই প্রভাষক তামান্না।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রভাষক এস তাবাস্সুম রায়হান মুস্তাযীর তামান্নাকে এসব কাজে সহযোগিতা করে আসছেন কালীগঞ্জ থানার ইনচার্জ (ওসি) আরজু মো. সাজ্জাদ হোসেন।
এসব ঘটনার প্রতিবাদে মঙ্গলবার সকালে কালীগঞ্জে সমাজকল্যাণ মন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদের বাসার সামনে খলিলের লাশ নিয়ে সড়ক অবরোধ করেন কয়েক শত বিক্ষুব্ধ জনতা। অবরোধ থেকে দাবি তোলা হয়, ওই কলেজ প্রভাষক এস তাবাস্সুম রায়হান মুস্তাযীর তামন্নাকে গ্রেফতার, কালীগঞ্জ থানার ওসি আরজু মো. সাজ্জাদ হোসেনকে প্রত্যাহার ও স্থানীয়দের বিরুদ্ধে তামান্নার দায়ের করা সকল মামলা প্রত্যাহার করতে হবে।
অবরোধস্থলে প্রথমে এসিল্যান্ড জাহাঙ্গীর আলম পরে ইউএনও রবিউল হাসান আসেন। তারা অবরোধ তুলতে ব্যর্থ হলে সব শেষ পৌনে ১টায় অবরোধস্থলে আসেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদ। এ সময় মন্ত্রী প্রায় ৪৫ মিনিট অবরোধস্থলে অবস্থান করেন। প্রথমে অবরোধকারীরা মন্ত্রীকে ফিরে দিলেও পরে দুপুর দেড়টায় মন্ত্রীর আশ্বাসে অবরোধ তুলে নেয় বিক্ষুব্ধরা। কালীগঞ্জের ইউএনও রবিউল হাসান বলেন, পুরো বিষয়টি তদন্তকরে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *