রায়হান হত্যায় কনস্টেবল টিটু চন্দ্র ৫ দিনের রিমান্ডে

নিউজ দর্পণ, সিলেট: সিলেট নগরের বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে নির্যাতনে রায়হান আহমদের মৃত্যুর ঘটনায় সাময়িক বরখাস্তকৃত কনস্টেবল টিটু চন্দ্র দাসের পাঁচদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

আজ মঙ্গলবার বিকেল ৩টার দিকে টিটু চন্দ্রকে সিলেটের অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে পিবিআই। পরে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মাহিদুল ইসলাম তার সাতদিনের রিমান্ড আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালতের বিচারক জিয়াদুর রহমান পাঁচদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করে আদালতের বেঞ্চ সহকারী আইয়ুব আলী বলেন, পিবিআইয়ের তদন্ত কর্মকর্তা সাতদিনের রিমান্ড আবেদন করলে টিটুর পাঁচদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালতের বিচারক।

মঙ্গলবার দুপুর আড়াইটার দিকে সিলেট পুলিশ লাইন থেকে টিটুকে গ্রেফতার করে পিবিআই। এর আগে এ ঘটনায় তিন পুলিশ সদস্য আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) বিকেলে সিলেটের অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতের বিচারক মো. জিয়াদুর রহমানের আদালতে প্রত্যদর্শী সাী হিসেবে তারা এ জবানবন্দি দেন।

জবানবন্দি দেয়া পুলিশ সদস্যরা হলেন- বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ির কনস্টেবল দেলোয়ার হোসেন, সাইদুর রহমান ও শামীম আহমদ। আদালত তাদের জবানবন্দি রেকর্ড করে নিজ জিম্মায় যেতে দেন।

প্রসঙ্গত, গত ১০ অক্টোবর দিবাগত মধ্যরাতে রায়হানকে তুলে নিয়ে সিলেট মহানগর পুলিশের কোতোয়ালি থানাধীন বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে আটকে রেখে নির্যাতন করা হয় বলে অভিযোগ করে তার পরিবার। সকালে তিনি মারা যান। নির্যাতন করার সময় তৌহিদ মিয়া নামে এক পুলিশ সদস্যের মুঠোফোন থেকে রায়হানের পরিবারের কাছে ফোন দিয়ে টাকা চাওয়া হয়। পরিবারের সদস্যরা সকালে ফাঁড়ি থেকে হাসপাতালে গিয়ে রায়হানের মরদেহ শনাক্ত করেন।

ঘটনার শুরুতে ওই ফাঁড়ির পুলিশ সদস্যরা ছিনতাইকারী সন্দেহে নগরের কাস্টঘর এলাকায় গণপিটুনিতে রায়হান নিহত হয়েছেন বলে প্রচার চালান। কিন্তু গণপিটুনির স্থান হিসেবে যে কাস্টঘর এলাকার কথা বলেছিল পুলিশ- সেখানে সিটি কর্পোরেশনের স্থাপন করা সিসিটিভির ক্যামেরায় ওই সময়ে এমন কোনো দৃশ্য দেখা যায়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *