রাষ্ট্রীয় দুঃশাসনের পায়ের তলে অশ্রুপাত করছে মানবতা: রিজভী

নিউজ দর্পণ, ঢাকা: রাষ্ট্রীয় দুঃশাসনের পায়ের তলে মানবতা অশ্রুপাত করছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

আজ বুধবার দুপুরে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক ভিডিও কনফারেন্সে তিনি এসব কথা বলেন।

রুহুল কবির রিজভী বলেন,বর্তমানে এক শাসরুদ্ধকর দুঃসহ পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে অতিবাহিত হচ্ছে মানুষের জীবন। রাষ্ট্রীয় দুঃশাসনের পায়ের তলে অশ্রুপাত করছে মানবতা। একদিকে স্বেচ্ছাচারী একনায়ক শাসকের শোষণে নিষ্পেষিত জনগণ, অপরদিকে করোনা ভাইরাসের ভয়াল মহামারীর সর্বগ্রাসী থাবা। বহু জেলায় বন্যায় সর্বস্বহারা মানুষের হাহাকারের মধ্যে দেশজুড়ে চলছে এক নীরব দুর্ভিক্ষ পরিস্থিতি। লাগামহীন বেড়েই চলেছে চাল-ডাল-আটা-তেল, কাঁচা মরিচসহ নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য। দেশ নিপতিত হয়েছে ভয়ংকর বিপদের মধ্যে। নিশিরাতে ভোট ডাকাতি করে এখন ‘যে কোন মুল্যে’ ক্ষমতায় থাকার জন্য আগ্রাসী মনোভাব, দমন-দলন, প্রতিহিংসা ও নির্মুলের রাজনীতিতে মত্ত তারা। এটা সর্বজনবিদিত যে, হিংসা, মিথ্যাচার, কূটকৌশল আর প্রতিহিংসার অসুস্থ রাজনীতি আওয়ামী লীগের মজ্জাগত। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে বিনা ভোটের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তাদের নেতা-মন্ত্রীদের বক্তব্য বিএনপি, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং দেশনায়ক তারেক রহমানের বিরুদ্ধে ঘৃণা উদগীরণ, কুৎসা রটনা, অসহিষ্ণুতা ও প্রতিহিংসার বহিঃপ্রকাশ প্রকট হয়ে উঠেছে। সরকার সমস্ত গণমাধ্যমকে কব্জা করে নতুন প্রজন্মকে বিভ্রান্ত করার জন্য জিয়া পরিবারের বিরুদ্ধে নির্জলা মিথ্যাচার-প্রপাগান্ডা ছড়াচ্ছে। এই প্রেক্ষপটে গতকাল মঙ্গলবার  বাংলাদেশ সময় সকাল দশটায় লন্ডন থেকে প্রদত্ত এক ভিডিও বক্তৃতায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দেশনায়ক তারেক রহমান বিএনপির ৪২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর শুভলগ্নে দেশ এবং জনগণের স্বার্থে ক্ষমতাসীনদের প্রতি আহবান জানিয়ে বলেছেন, মিথ্যাচার, প্রতিহিংসা এবং কুটতর্কের রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসুন, ব্লেমগেমের রাজনীতির পরিবর্তে জনগণের আস্থা অর্জনের চেষ্টা করুন। স্বাধীনতার ঘোষকের বিরুদ্ধে মিথ্যাচার বন্ধ করে বরং তাঁর যুগান্তকারী ভালো কাজের মতো আপনারাও ভালো কাজ করার চেষ্টা করুন। দেশনায়কের এই আহবানে সাড়া দেয়ার জন্য আমরা ক্ষমতাসীনদের প্রতি আহবান জানাচ্ছি।

তিনি বলেন, এই ভয়াল মহাক্রান্তিকালে দেশবাসী, সরকার, সাধারণ জনগণ ও বিএনপির নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান এর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্যের প্রতি সকলের মনোযোগ আকর্ষণ করছি। তিনি বলেন, ‘গত এক যুগের বেশি সময় ধরে বিএনপিকে ক্ষমতা থেকে দূরে রাখার অপচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে, দেশে এখন সরকারি বয়ানের বাইরে জনগণের কিছু বলার কিংবা গণমাধ্যমে স্বাধীন মত প্রকাশের স্বাধীনতা নেই। অবৈধ বর্তমান ক্ষমতাসীন সরকারটি একাধারে প্রায় এক যুগ ধরে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করে আছে। একটি রাজনৈতিক দলের একটানা এতদিন ক্ষমতায় থাকার পর, প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে মিথ্যাচারের পরিবর্তে, এতদিন তাদের নিজেদের সাফল্যের কথা বলার মতো সক্ষমতা অর্জন করার কথা ছিল। অথচ গণতন্ত্র হত্যা, মানুষ খুন, গুম, দুর্নীতি আর টাকা পাচার ছাড়া গর্ব করে বলার মতো এই সরকারের কোনো সাফল্য নেই। তিনি বলেন, ‘গণমাধ্যমে এতদিন তারা ‘উন্নয়ন’ ‘উন্নয়ন’ জিগির তুলতো। অথচ দেখা যাচ্ছে এরা এতদিন জনগণের সঙ্গে শুধু প্রতারণাই করেছে।
বাস্তবতা হলো, প্রতিটি মন্ত্রণালয়, প্রতিটি দপ্তর-অধিদপ্তর, প্রতিটি সেক্টর, প্রতিটি বিভাগ সরকারি বেসরকারি প্রতিটি প্রতিষ্ঠানই দুর্নীতি-লুটপাট-অবিচার-অনাচার আর প্রতারণায় নিমজ্জিত। সর্বক্ষেত্রে এমন পাহাড়সম দুর্নীতি-প্রতারণা আর ব্যর্থতা আড়ালের জন্য মিথ্যাচারের আশ্রয় নিয়েছে আওয়ামী লীগের রাজনীতি। মানুষের দৃষ্টিকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে অত্যন্ত দৃষ্টিকটুভাবে মরহুম শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকান্ডের ঘটনাটিকে হঠাৎ করেই আবারো দাবার গুটি হিসেবে ব্যবহার করছে। জনাব তারেক রহমান বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে শেখ মুজিবুর রহমান হত্যাকান্ডের বিচার করেছে। বিচারের রায় কার্যকর করতে গিয়ে অভিযুক্তদের একের পর এক ফাঁসির রায়ও কার্যকর করছে। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আরো বলেন, শেখ মুজিবুর রহমান হত্যাকান্ডের বিচারের পরও প্রায়শ:ই আওয়ামী লীগ এবং তাদের দোসর জাসদ নিজেরাই একে অপরের সঙ্গে ঝগড়ায় লিপ্ত। শেখ মুজিব হত্যাকান্ডের সময়কার সেনাপ্রধান এবং ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি জেনারেল শফিউল্লাহ প্রকাশ্যেই বলেছেন, শেখ মুজিব হত্যাকান্ডের সঙ্গে শেখ সেলিম জড়িত। পাল্টা জবাবে, শেখ সেলিম খোদ জেনারেল শফিউল্লাহর দিকেই অভিযোগের আঙ্গুল তুলেছেন। অপরদিকে আওয়ামী লীগের অভিযোগ শেখ মুজিব হত্যাকান্ডের জন্য জাসদ দায়ী। আবার জাসদের অভিযোগ শেখ মুজিব হত্যাকান্ডের দায় আওয়ামী লীগের। তারা প্রমান দিয়ে বলেন, শেখ মুজিব হত্যাকান্ডের পর গঠিত সরকারের মন্ত্রিসভায় সবাই ছিলেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা। শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকান্ড নিয়ে একদিকে তারা নিজেদের মধ্যে বাগযুদ্ধে লিপ্ত অপরদিকে চলছে নিজেদের মধ্যে ক্ষমতার ভাগ-বাটোয়ারা। জনাব তারেক রহমান বলেন, এমন পরিস্থিতির মধ্যেই সম্প্রতি দেখলাম শেখ হাসিনা এবার হঠাৎ করেই শেখ মুজিবুর রহমান হত্যাকান্ডের সঙ্গে স্বাধীনতার ঘোষকের নাম জড়িয়ে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির অপচেষ্টায় লিপ্ত হয়েছেন। আমরা মনে করি, শেখ মুজিব হত্যাকান্ডের বিচার সম্পন্ন হয়েছে। এই ঘটনার সঙ্গে কোনোভাবেই স্বাধীনতার ঘোষকের সংশ্লিষ্টতার কোনই তথ্য প্রমান পাওয়া যায়নি। ফলে, শেখ হাসিনা কিংবা আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মিথ্যাচারের জবাব দিয়ে ভিত্তিহীন একটি অভিযোগের গুরুত্ব বাড়ানোর প্রয়োজন আছে বলে বিএনপি মনে করেনা। কারণ, শেখ হাসিনা কিংবা ওবায়দুল কাদের সাহেবের কথায় ইতিহাস রচিত হয় না, ইতিহাস উদ্ভাসিত হয় তার আপন আলোয়। ফলে শেখ হাসিনা কিংবা ওবায়দুল কাদের সাহেবের কথায় আওয়ামী লীগ আনন্দিত হতে পারে, কিন্তু মানুষের কাছে শেখ হাসিনা কিংবা ওবায়দুল কাদেরের কথার গুরুত্ব নেই, জনগণ তাদের কথা বিশ্বাসও করেনা। জনগণ যদি তাদের কথা বিশ্বাস করতো তাহলে বারবার তাদেরকে বিনা ভোটে কিংবা নিশিরাতের হিসাব নিকাশে ক্ষমতা আঁকড়ে থাকতে হতোনা।
রিজভী বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, আওয়ামী অপশক্তির অতীত কার্যকলাপে প্রমাণিত-যখনি আওয়ামী লীগ তাদের কোনো ব্যর্থতা আড়াল করতে চায়, গণবিরোধী কোনো অসৎ উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন করতে চায় কিংবা দেশের স্বার্থ বিরোধী কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করে তখনি তারা একটি অহেতুক ইস্যু সামনে এনে জনগণকে ব্যস্ত রাখার চেষ্টা করে। তাই এবারও হঠাৎ করেই ‘স্বাধীনতার ঘোষক’ এবং ‘মাদার অফ ডেমোক্রেসি’র বিরুদ্ধে মিথ্যাচার ও অপপ্রচার উস্কে দিয়ে আওয়ামী লীগ হয়তো দেশ এবং জনগণের স্বার্থবিরোধী কোনো অপতৎপরতায় লিপ্ত। এ ব্যাপারে জনাব তারেক রহমান দেশপ্রেমিক জনগণকে সতর্ক ও সজাগ দৃষ্টি রাখার আহবান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘স্বাধীনতা পরবর্তী আওয়ামী লীগ সরকার এবং বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার, দুটি সরকারেরই একই চরিত্র। দলটির শুধু নেতৃত্ব পরিবর্তন হয়েছে, চরিত্র পরিবর্তন হয়নি। শেখ মুজিবুর রহমান আওয়ামী লীগকে বলেছিলেন ‘চোরের খনি’ আর সেই ‘চোরের খনি’ এখন শেখ হাসিনার আমলে ‘ডাকাতের খনি’তে পরিণত হয়েছে।’
তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশের মানুষের ঐক্যের প্রতীক দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ১২ বছর পূর্বে ‘দেশ বাঁচাও-মানুষ বাঁচাও’ যে শ্লোগান দিয়েছিলেন তা সাধন করার জন্য দলের নেতাকর্মীদের প্রতি আহবান জানিয়ে জনাব তারেক রহমান বলেছেন, আমাদের উদ্দেশ্য আমাদের শ্লোগান আমাদের লক্ষ্য হোক একটিই, দেশনেত্রীর সেই আহবান ‘দেশ বাঁচাও-মানুষ বাঁচাও’। তাই দেশ বাঁচাতে মানুষ বাঁচাতে কারো আদেশের জন্য অপেক্ষা করার প্রয়োজন নেই, সময় পরিস্থিতি বিবেচনা করে যার যার নিজ নিজ এলাকায় নিজ নিজ অবস্থান থেকে ঐক্যবদ্ধভাবে গুম, খুন, অপহরণ-দুর্নীতি-অন্যায়-অবিচার-অনিয়মের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে রুখে দাঁড়ান। তিনি প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে বলেছেন, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে বিভিন্ন সময়ে যারা আত্মত্যাগ করেছেন নির্যাতন নিপীড়ণের শিকার হয়েছেন, জনগণের সমর্থনে আগামী দিনে বিএনপি আবারো রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পেলে গণতন্ত্রের জন্য তাদের ত্যাগ ও অবদান অবশ্যই শ্রদ্ধার সঙ্গে মূল্যায়ন করা হবে’। সারাদেশে দলের বিভিন্ন পর্যায়ের অনেক নেতাকর্মী সমর্থক শুধুমাত্র বিএনপি করার কারণে এই অবৈধ সরকার এবং তাদের লেলিয়ে দেয়া সন্ত্রাসীদের দ্বারা নির্যাতিত হয়েছেন, বছরের পর বছর ধরে হামলা কিংবা মিথ্যা মামলায় হয়রানির শিকার হয়েছেন তিনি তাদের সবার প্রতি আন্তরিক সহানুভূতি প্রকাশ এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের প্রতি সহমর্মিতা জানিয়েছেন।
সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দেশের প্রতিটি মানুষকে বিনামূল্যে করোনা ভাইরাসের টিকা প্রদানের উদ্যোগ গ্রহণের জন্য সরকারের প্রতি আহবান জানিয়েছেন। তার এই আহবান কার্যকর করার জন্য আমরা সরকারকে আহবান জানাচ্ছি।
তিনি বলেছেন, শহীদ জিয়া যেভাবে ‘প্রত্যেক শিশুর জন্য বিনামূল্যে ‘বিসিজি টিকা’ দানের ব্যবস্থা নিয়েছিলেন. একইভাবে বর্তমানেও দেশের প্রতিটি নাগরিকের জন্য বিনামূল্যে করোনা ভাইরাসের টিকার ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। কারণ বিনামূল্যে করোনা ভাইরাসের টিকা পাওয়া সকল নাগরিকের অধিকার। এটি নাগরিকদের মৌলিক মানবাধিকার। কোভিড-১৯ পরিস্থিতি মোকাবেলায় ক্ষমতাসীন সরকারের সামনে এই মুহূর্তে সবচেয়ে অগ্রাধিকার ইস্যু হওয়া উচিত দেশের মানুষের জন্য করোনা ভাইরাসের ভ্যাকসিন প্রাপ্তি নিশ্চিত করা। কয়েকটি দেশ করোনা ভাইরাসের ভ্যাকসিন ট্রায়ালের প্রায় শেষ ধাপে রয়েছে। তাই করোনা ভাইরাসের ভ্যাকসিন প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে, বাংলাদেশে ভ্যাকসিনের থার্ড ফেজের ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের অনুমতি দেয়ার পাশাপাশি সম্ভাব্য সকল বিকল্প সম্পর্কে সজাগ থাকতে হবে। ‘গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর ভ্যাকসিন অ্যান্ড ইমিউনাইজেশন’/জি-এ-ভি-আই এর সদস্য হতে হবে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং ভ্যাকসিন গবেষণা ও উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গেও নিবিড় যোগাযোগ রাখতে হবে, যাতে যথাসময়ে করোনা ভাইরাসের ভ্যাকসিন পেতে বাংলাদেশকে সমস্যায় পড়তে না হয়। তিনি সরকারকে সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, ‘দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন শেখ হাসিনা সরকারকে সতর্ক করে দিয়ে বলতে চাই, করোনা ভাইরাসের ভ্যাকসিন সংগ্রহে দুর্নীতির আশ্রয় নেবেন না’। ‘মানুষের জীবনকে নিয়ে দুর্নীতি করবেন না’। করোনা টেস্ট ট্রেসের সময় দুর্নীতির প্রসঙ্গ তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, নির্বাচন কমিশন রাতের অন্ধকারে যেভাবে নিশিরাতের সরকারের এমপিদের পাশ ফেলের সার্টিফিকেট দিয়েছিলো, একইভাবে নিশিরাতের সরকারের অনুসারীরা শতাব্দীকালের আতঙ্ক করোনা ভাইরাস টেষ্ট না করেও ইস্যু করছিলো ভুয়া সার্টিফিকেট। ক্ষমতাসীন দলের দুর্নীতিবাজ ও প্রতারকদের কারণে বিশ্বের দরবারের বাংলাদেশের মর্যাদা ক্ষুন্ন হয়েছে। দেশে দেশে বাংলাদেশের নাগরিকদের বিব্রতকর পরিস্থিতির মধ্যে পড়তে হয়েছে। সুতরাং করোনা-ভ্যাকসিন প্রাপ্তির ক্ষেত্রে যাতে আর কোনো কেলেংকারী না ঘটে সে ব্যাপারে এই দুর্নীতিবাজ সরকারকে সতর্ক করে দিয়ে তিনি বলেন, স্বাস্থ্যখাতে সীমাহীন দুর্নীতি এবং অব্যবস্থাপনার কারণে জনগণ বিশ্বাস করে একমাত্র সেনাবাহিনীই পারে কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন সঠিকভাবে প্রতিটি মানুষের কাছে সঠিকভাবে পৌঁছে দিতে।
ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, ডিপথেরিয়া, হুপিং কফ, ধনুষ্টংকার, পোলিও, হাম এবং যক্ষ্মা, বাংলাদেশে প্রতিটি শিশুকে এইসব রোগের টিকা দেয়া হয়।
১৯৭৯ সালের ৭ এপ্রিল তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো প্রতিটি শিশুকে বিনামূল্যে সার্বজনীন ‘বিসিজি টিকা’ দান বাধ্যতামূলক করেছিলেন। শহীদ জিয়ার দূরদর্শী সেই সিদ্ধান্তটি ছিল রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে নাগরিকদের জন্য একটি বিনিয়োগ। এ প্রসঙ্গে তারেক রহমান আরো বলেন, সুতরাং এটি প্রমাণিত বিনামূল্যে বাধ্যতামূলকভাবে ‘বিসিজি টিকা’ দেয়ার ব্যাপারে শহীদ জিয়ার সেই দূরদর্শী সিদ্ধান্তটির সুফল পাচ্ছে বাংলাদেশ।
স্বাধীনতার ঘোষকের বিরুদ্ধে মিথ্যাচার বন্ধ করে বরং তাঁর অন্যতম একটি যুগান্তকারী ভালো কাজের মতো আপনারাও একটি ভালো কাজ করার চেষ্টা করুন।
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন, মিয়ানমার থেকে আশ্রয় নেয়া প্রায় ১১ লক্ষ রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী সম্পর্কে জনাব তারেক রহমান বলেন, রোহিঙ্গা পরিস্থিতি ক্রমেই জাতীয় সংকটে রূপ নিচ্ছে। গত তিন বছরেও বাংলাদেশ একজন রোহিঙ্গাকেও তাদের জন্মভূমি মিয়ানমারে ফেরত পাঠাতে পারেনি। নিশিরাতের সরকারের নতজানু কূটনীতির কারণে রোহিঙ্গা ইস্যু মোকাবেলায় আন্তর্জাতিক বিশ্বে একা হয়ে পড়েছে বাংলাদেশ। তারেক রহমান সাহেব বলেন, প্রতিটি ঘটনাকেই সরকার হীন দলীয় স্বার্থে ব্যবহার করতে গিয়ে বারবার দেশকে বিপদের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। ২০০৯ সালের ফেব্রুয়ারী মাসে বিডিআর পিলখানার সুপরিকল্পিত সেনা হত্যাযজ্ঞের বিভীষিকাময় স্মৃতি জনগণ এখনো ভুলে যায়নি, সেই নারকীয় সেনা হত্যাযজ্ঞে দলীয়ভাবে আওয়ামী লীগ লাভবান হলেও অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে বাংলাদেশের। বিডিআর বিদ্রোহের নামে পিলখানায় সেনা হত্যাযজ্ঞ না ঘটলে, এতো বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে বাংলাদেশের দিকে কেউ ঠেলে পাঠানোর সাহস পেতো কিনা কিংবা অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহাকেও এভাবে পুলিশের হাতে নির্মমভাবে প্রাণ দিতে হতো কিনা এ নিয়ে জনমনে জিজ্ঞাসা রয়েছে। তারেক রহমান বলেন, মেজর সিনহার নির্মম হত্যাকান্ডে আবারো প্রমাণিত হয়েছে ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে বর্তমান সরকার পুলিশ বাহিনীর ভেতর একটি পেশাদার খুনি গ্রুপ তৈরী করেছে। পুলিশের ইউনিফর্ম পরা ‘পেশাদার খুনি গ্রুপ’টির কাছে বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, ভিন্নমতের মানুষ, পেশাজীবী, সাধারণ মানুষ কিংবা সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা সবাই সমান। এই খুনি গ্রুপটি যাকেই খুন করুক তাকে ‘সরকার বিরোধী’ প্রমান করা গেলেই সাত খুন মাফ।
তারেক রহমান সাহেব বলেন, মেজর সিনহা হত্যাকান্ড কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। বরং টেকনাফে ওসি প্রদীপের সাম্রাজ্যে এটি তার ২০৫ নম্বর হত্যাকান্ড। শুধু টেকনাফ থানাতেই নয়, দেশের প্রতিটি থানাতেই এভাবে হত্যাকান্ড চলছে। ভিন্ন দল কিংবা মতের হাজার হাজার মানুষকে গুম কিংবা খুন করা হয়েছে এবং হচ্ছে। জনগণ বিশ্বাস করে, বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিএনপি একটি রাজনৈতিক দল যাদের কাছে বাংলাদেশ নিরাপদ, গণতন্ত্র নিরাপদ, নিরাপদ মানুষের স্বাধীনতা ও সম্মান। এই দলটিই পারে দেশ বাঁচাতে মানুষকে বাঁচাতে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *