রাজপথের ব্যারিকেডে সরকার ক্ষমতায় থাকতে পারবে না: রিজভী

নিউজ দর্পণ, ঢাকা: ছাত্রদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ইসহাক সরকারের নি:শর্ত মুক্তির দাবি জানিয়ে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী সরকারের উদ্দেশে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন,’ইসহাক সরকারকে নিঃশর্ত মুক্তি দিতে হবে। এই মুক্তি যদি বাধাগ্রস্ত হয় আর ফুটপাত নয় এবার রাজপথের সমস্ত কনক্রিট উড়িয়ে আমরা এবার রাজপথে এমন ব্যারিকেড তৈরি করব,আপনি আর ক্ষমতায় থাকতে পারবেন না।

তিনি বলেন,’প্রধানমন্ত্রী আপনি তো ক্ষমতায় টিকে আছেন বন্দুকের নলের জোরে। বন্ধুক ও অনেক সময় কাজ করে না অকার্যকর হয়ে যায় জনগণের শক্তির কাছে।

আজ বুধবার দুপুরে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে গণতন্ত্র পুণরুদ্ধার আন্দােলন আয়োজিত ছাত্রদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ইসহাক সরকারের মুক্তির দাবিতে এক মানববন্ধনে তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী বলেন,’ইসহাক সরকার কি অপরাধ করেছে যে ওর নামে ৩০০ টি মামলা। সে তো ফরিদপুরে ছাত্রলীগ নেতার মত টাকা পাচার করে নি। সে তো খালেদ ,শামীম, সম্রাটের মত ক্যাসিনো ব্যবসা করেনি তার পরেও কেন আজ সে দুই বছরের অধিককাল কারাগারে। টাকা পাচারের সাথে জড়িত ইসহাক সরকার? সে কি ক্যাসিনোর সাথে জড়িত? যারা দীর্ঘ ১০ বছর প্রচণ্ড প্রতাপে ক্যাসিনো ব্যবসা করে আসছে এরা কারা? এরা সবাই ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরা।ছাত্রলীগের সভাপতি সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির সাথে টাকা নিয়ে দর কষাকষি করে যে ছাত্রলীগের জন্য এই টাকাটা দিতে হবে।

তিনি বলেন,’আপনি প্রধানমন্ত্রী ১৫ ই আগস্ট এবং একুশে আগস্ট নিয়ে কত কথাই বলছেন স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে নিয়ে এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে নিয়ে। তাদের দোষ কি রাজনৈতিক নেতা যখন স্বাধীনতা ঘোষণা করে করতে ব্যর্থ হয়েছেন তখন জিয়াউর রহমান স্বাধীনতা ঘোষণা করেছেন এটা সহ্য করতে পারছে না অবৈধ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।একজন সেনাবাহিনীর মেজর স্বাধীনতা ঘোষণা করলেন এটা তার সহ্য হচ্ছে না তাই তিনি জিয়াউর রহমানকে নিয়ে মনগড়া কথা বলছেন কারণ তিনি জানেন তিনি কথা বললে কেউ কিছু বলতে পারবে না কারণ সমস্ত মিডিয়া তার নিয়ন্ত্রণে।গণতন্ত্রের স্বাধীনতা গোরস্থানে মত প্রকাশের স্বাধীনতা হাওয়ায় ভেসে বেড়ায়।

বিএনপির এই নেতা প্রশ্ন রেখে বলেন,’ প্রধানমন্ত্রীর মনের ইচ্ছা কি আপনারা কি জানেন?তার মনের ইচ্ছা আমি যা বলব ওইটা বিশ্বাস করতে হবে আমি অন্যায় বলবো মিথ্যা বলবো কলংক লেপন করব বাজে কথা বলব দেশের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের বিরুদ্ধে সুতরাং আমার বিরুদ্ধে কেউ কথা বললে কি আছে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বিচারবহির্ভূত হত্যা গুম একটার পর একটা তিনি কর্মসূচি সাজিয়ে রেখেছেন।

গতকাল ফেনী জেলা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক রিয়াদের গ্রেপ্তারের ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়ে রুহুল কবির রিজভী বলেন,’কি অপরাধ করেছে ছাত্রদল নেতা অপরাধ হচ্ছে দেশের এই করোনাকালীন সময়ে বন্যা দুর্যোগের সময় তারা ত্রান নিয়ে যাচ্ছেন অসহায়দের দ্বারে দ্বারে। ফরিদপুরের ছাত্রলীগের নেতারা ২০০ কোটি টাকা পাচারের এর ঘটনা এটা তো ঢাকতে হবে।যারা ফরিদপুরের মতো শহরে মারসিটিস গাড়ি চালায় এগুলো পত্র পত্রিকায় এসেছে এগুলো তো ডাকতে হবে। জেকেজির সাবরিনা রিজেন্টের সাহেদ, সম্রাট,খালেদের তো ডাকতে হবে।এসব ঘটনা ডাকার জন্যই ছাত্রদল নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

রিজভী বলেন,’চারিদিকে এই সরকারের আর কোনো ভিত্তি নেই দেশের জনগণ থেকে তাঁরা সম্পূর্ণরূপে বিচ্ছিন্ন। প্রধানমন্ত্রী আপনার তো এত ক্ষমতা যাকে তাকে ক্রসফায়ার দিতে পারেন গুম করতে পারেন কিন্তু নির্বাচন সুষ্ঠু দিতে ভয় পান দিনের নির্বাচন রাত্রে করেন।সুষ্ঠু নির্বাচন দেবেন ওই সাহস আপনার নাই কারণ জনগণ আপনার শত্রু তাই জনগণকে ভয় করে রাতের অন্ধকারে চোরের মত নির্বাচন করে আজকে ইসহাকক সরকার দেরকে বন্দি করে রেখেছেন।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন,’
সরকারি পুজি ২১ আগস্ট এবং ১৫ ই আগস্ট দুটোকে একসাথে মেলাতে চাচ্ছেন এর কারণ হচ্ছে এছাড়া সরকারের হাতে কোন পুজি নেই।যে ব্যক্তি স্বাধীনতার ঘোষণা দিলেন বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করলেন এই যে টেলিভিশন এই যে পত্রপত্রিকায এটি কার অবদান এটি জিয়াউর রহমানের অবদান। তাই প্রধানমন্ত্রীর এত হিংসা।যিনি খন্দকার মোশতাককে রক্তাক্ত লাশ ডিঙ্গিয়ে শপথ পড়ালেন তিনি আজকে আপনার অ্যাডভাইজার তাকে তো আপনি খলনায়ক বলেন না।আপনার তাবেদারী করলে তার সব দোষ মাপ।সমস্ত দোষ কার জিয়াউর রহমানের কারণ তিনি দেশে গণতন্ত্র দিয়েছিলেন খবরের কাগজের স্বাধীনতা দিয়েছিলেন আর বেগম খালেদা জিয়ার কারণ তিনি আবার দেশে গণতন্ত্র দিয়েছেন।আজও তিনি লড়াই করছেন বর্তমান এই দুই নম্বর বাকশালী সরকারের বিরুদ্ধে গণতন্ত্রকে মুক্তি দেয়ার জন্য।

আয়োজক সংগঠনের সভাপতি আবদুস সাত্তার পাটোয়ারীর সভাপতিত্বে মানববন্ধনে আরো বক্তব্য রাখেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব-উন-নবী খান সোহেল, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবদুস সালাম আজাদ, নির্বাহী কমিটির সদস্য অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম, মৎস্যজীবী দলের সদস্য সচিব আব্দুর রহিম সহ- ছাত্রদলের কয়েক শত নেতাকর্মী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *