রাজনৈতিক ঐক্যে গণঅভ্যুত্থানেই সরকারের পতন ঘটাতে হবে: মির্জা ফখরুল

নিউজ দর্পণ, ঢাকা: বৃহত্তর রাজনৈতিক ঐক্যে গণঅভ্যুত্থানেই সরকারের পতন ঘটাতে হবে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
আজ শুক্রবার সকালেজাতীয়তাবাদী ছাত্রদলেরএক অনুষ্ঠানে নতুন বছওে তিনি এই অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের ৪২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ছাত্র দলের সভাপতি ফজলুর রহমান খোকন ও সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন শ্যামলকে নিয়ে সকাল সাড়ে ১১টায় শেরে বাংলানগরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মাজারে পুস্পমাল্য অর্পন করেন এবং শহীদ নেতার আত্মার মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা আপনাদেরকে বার বারই বলেছি যে, জনগণের বৃহত্তর ঐক্য, রাজনৈতিক দলগুলোর ঐক্যের মধ্য দিয়ে একটা গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে এই ফ্যাসিবাদী স্বৈরাচারকে পরাজিত করতে হবে। সেই লক্ষ্যে আমরা কাজ করছি এবং আমরা ইনশাল্লাহ এটাতে সফল হবো বলে বিশ্বাস করি এই ২০২১ সালে। আজকে ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীত আমরা শপথ নিয়েছি- আমরা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করবো এবং গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠা করবো ইনশাল্লাহ।
এক প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, আওয়ামী লীগ একটি ফ্যাসিবাদী রাজনৈতিক দল। তারা জনগণের ভোটের অধিকার থেকে তাদেরকে বঞ্চিত করে, জোর করে রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে তারা ২০১৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর রাতেই ভোট ডাকাতি করে নিয়ে গিয়ে একটি দখলদারি সরকার প্রতিষ্ঠা করেছে। তারা দমনের মাধ্যমে জনগণের যে ন্যায়সঙ্গত আন্দোলন গণতন্ত্রের জন্য তাকে তারা দমন করার চেষ্টা করছে। ইতিহাস প্রমাণ করে কখনোই দমনপীড়নের মধ্য দিয়ে কখন্ােই মানুষের ন্যায়সঙ্গত দাবিকে দমিয়ে রাখা যাবে না। বাংলাদেশের কখনো কোনোদিন পারেনি।আমরা বিশ্বাস করি, প্রতিটি বছর আমাদের জন্য নতুন শক্তি সঞ্চয় হবে এবং ফ্যাসিস্ট সরকারকে আমরা পরাজিত করতে সক্ষম হবো ইনশাল্লাহ।
তিনি বলেন, আজকে এই দিনে আমরা খুব স্পষ্ট করে বলতে চাই, বাংলাদেশের মানুষ এই দখলদারি এই সরকারকে মেনে নেবে না। অবিলম্বে একটি নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের পরিচালনায় সুষ্ঠু নির্বাচন দিতে বাধ্য করতে হবে। জনগণের যে সরকার ও জনগনের যে পার্লামেন্ট গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
এ সময়ে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আমান উল্লাহ আমান, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল, তথ্য বিষয়ক সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল, নির্বাহী কমিটির সদস্য নাজিম উদ্দিন আলম, আকরামুল হাসান, যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক আবদুল কাদির ভুঁইয়া জুয়েল প্রমুখ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে হলুদ গেঞ্জি ও টুপি মাথা দিয়ে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে আসা কয়েক হাজার ছাত্র দলের নেতা-কর্মী ব্যানার-ফেষ্টুন নিয়ে এই অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *