যৌতুক না পেয়ে স্ত্রীর চুল কর্তন, শরীরে খুন্তির ছ্যাঁকা!

নিউজ দর্পণ, বরগুনা: বরগুনার তালতলীতে দুই লাখ টাকা যৌতুকের দাবিতে স্ত্রী মার্জিয়ার (৩০) শরীরে গরম খুন্তির ছ্যাঁকা ও চুল কেটে দিয়েছে স্বামী মানিক খান।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে তাকে উদ্ধার করে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

এর আগে বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) রাতে যৌতুকের টাকা নিয়ে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে স্ত্রীর গায়ে গরম খুন্তির ছ্যাঁকা দিয়ে মাথার চুল কেটে দেয় স্বামী, শাশুড়ি ও ননদ।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০০৯ সালে তালতলী উপজেলার বড় আমখোলা গ্রামের আব্দুল খালেক খাঁনের মেয়ে মার্জিয়ার বরগুনা সদর উপজেলার ধুপতি গ্রামের আনোয়ার খানের ছেলে মানিক খাঁনের সঙ্গে বিয়ে হয়। বিয়ের পরে শ্বশুর খালেক খাঁন জামাতা মানিককে বাড়ি নির্মাণের জন্য দুই লাখ টাকা দেন। ওই টাকা দিয়ে মানিক শ্বশুরবাড়ির পাশে বাড়ি নির্মাণ করে বসবাস করে আসছেন। মানিক দম্পতির দুইটি মেয়ে সন্তান রয়েছে। তিন বছর আগে মানিক ঢাকায় চলে যান। ওই সময় থেকেই মানিক তার স্ত্রী মার্জিয়া ও দুই মেয়ের কোনো খোঁজ খবর নিচ্ছে না।

বৃহস্পতিবার মানিক শ্বশুরবাড়িতে আসেন এবং স্ত্রীকে তার বাড়িতে নিয়ে যান। ওইদিন রাত ১১টার দিকে মানিক ব্যবসার কথা বলে মার্জিয়ার বাবার কাছ থেকে ফের দুই লাখ টাকা এনে দিতে বলেন। এ টাকা দিতে অস্বীকার করায় মানিক প্তি হয়ে মার্জিয়াকে বেধরক মারধর শুরু করেন। একপর্যায়ে মানিক, তার বোন জাকিয়া ও মা আলেয়া মিলে মার্জিয়ার শরীরের ১২ স্থানে গরম খুন্তির ছ্যাঁকা দেয় এবং চুল কেটে দেয়। চিৎকার শুনে প্রতিবেশী এবং স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে পরের দিন শুক্রবার সকালে গুরুতর আহত অবস্থায় আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।

হাসপাতালে গিয়ে দেখা গেছে, গরম খুন্তির ছ্যাঁকায় মার্জিয়ার শরীরের বিভিন্ন যায়গায় দগদগে ঘা হয়ে ফুলে গেছে। শরীর ব্যথায় নড়াচড়া করতে পারছেন না। যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছেন। শরীরের অন্যান্য জায়গায়ও আঘাতের ফলে কালচে দাগ হয়ে আছে। মাথার চুল কেটে দিয়েছে।

প্রত্যদর্শী পার্শ্ববর্তী সূর্যভানু বলেন, রাতে মানিক খানের বাড়িতে চিৎকার শুনে ছুটে যাই। গিয়ে দেখি মার্জিয়াকে স্বামী, শাশুড়ি ও ননদ মিলে মারধর করছে। তারা মার্জিয়ার শরীরে গরম খুন্তির ছ্যাঁকা দিয়েছে। তিনি আরো বলেন, আমি যাওয়ার পরে তারা মার্জিয়াকে ছেড়ে দেয়।

মার্জিয়ার বাবা আবদুল খালেক খান বলেন, বিয়ের পর থেকে আমার মেয়েকে বিভিন্নভাবে নির্যাতন করে আসছে জামাতা মানিক। গত তিন বছর ধরে আমার মেয়ের কোনো খোঁজ খবর নেয়নি।

হঠাৎ বৃহস্পতিবার রাতে এসে আমার মেয়েকে তার বাড়িতে নিয়ে যায়। পরে জামাতা মানিক, তার বোন জাকিয়া ও মা আলেয়া মিলে আমার মেয়েকে নির্মম নির্যাতন করেছে। গরম খুন্তির ছ্যাঁকা দিয়েছে। পার্শ্ববর্তী লোক না গেলে ওরা আমার মেয়েকে মেরেই ফেলতো। আমি এ ঘটনার বিচার চাই।

গুরুতর আহত মার্জিয়া কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, বিয়ের পর আমার বাবা আমার স্বামীকে দুই লাখ টাকা যৌতুক দেন। ওই টাকা দিয়ে আমার বাবার বাড়ির পাশে বাড়ি নির্মাণ করেন। তিন বছর আগে বিভিন্ন মিথ্যা অপবাদ দিয়ে আমাকে ফেলে রেখে ঢাকা চলে যান। আমার কোনো খোঁজ খবর নেননি। বৃহস্পতিবার রাতে আমার বাবার বাড়িতে এসে কৌশলে আমাকে তাদের বাড়ি নিয়ে যান এবং ব্যবসার কথা বলে দুই লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন। আমি এ টাকা দিতে অস্বীকার করায় আমাকে স্বামী, শাশুড়ি ও ননদ মিলে মারধর করে শরীরে গরম খুন্তির ছ্যাঁকা দেন। মাথার চুল কেটে দেন। আমার চিৎকার শুনে লোকজন ছুটে আসে তারা না এলে আমাকে মেরেই ফেলত। আমি এ ঘটনার বিচার চাই।

অভিযুক্ত স্বামী মানিক খাঁন যৌতুক চাওয়ার কথা অস্বীকার করে বলেন, সামান্য ঝগড়াঝাটি হয়েছে মারধর কিংবা কোনো খুন্তির ছ্যাঁকা দেইনি।

আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিক্যাল অফিসার নিখিল চন্দ্র বলেন, মার্জিয়ার শরীরের ১২ স্থানে আগুনে ঝলসে যাওয়ার চিহ্ন রয়েছে। তার মাথায় পেছনের চুলও কাটা।

তালতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামরুজ্জামান বলেন, এ বিষয়ে আমি কোনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *