মুরগি- চাল-চিনি-সয়াবিন তেলসহ সব নিত্যপণ্যের দাম চড়া

নিউজ দর্পণ, ঢাকা: খোলা সয়াবিন তেলের দাম আবারও কেজিতে বেড়েছে ৪/৫ টাকা। সরকার বেধে দামে লোকসান হওয়ায় রাজধানীর পাইকারি বাজারে চিনি বিক্রি বন্ধ করে দিয়েছে অনেক দোকানি।

বাজার ঘুরে দেখা গেছে, খোলা সয়াবিন তেল দোকান ও মানভেদে বিক্রি হচ্ছে ১৪১/১৪২ টাকা কেজি। নিম্নমানের পামওয়েলের দামও বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ১৩৫/১৩৬ টাকা কেজি। বাড়তি চিনির দামও।

বিক্রেতারা বলছেন, চিনি পাইকারিতে কেনাই আছে ৭৪/৭৫ টাকা কেজি। সরকার বেধে দেয়া দামে বিক্রি করলে গুণতে হয় লোকসান। তাই বিক্রিই বন্ধ রেখেছেন অনেকে। অনেকে আবার ভ্রাম্যমান আদালতের জরিমানার ভয়ে দোকানের মজুত ফাঁকা করছেন লোকসানে। বেড়েছে আমদানি করা মসুর ডাল। পাইকারিতেই বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকা কেজি। এছাড়া আগে থেকেই চড়া আটা ও ময়দার দামও।

এদিকে, সপ্তাহ দুয়েক আগে সরকারের আমদানির অনুমতির খবরে চালের দাম কিছু কমলেও তা আবারও বেড়েছে।

বিক্রেতারা জানান, পাইকারিতেই চালের দাম বেড়েছে ২/৩ টাকা। বাজারে মিনিকেট ৫৮/৫৯, নাজিরশাইল মানভেদে ৬২/৬৭ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া পাইকারিতে বিআর আটাশ বিক্রি হচ্ছে ৪৮/৪৯ টাকা কেজি। আর মোটা স্বর্ণা চালের দাম ৪৬ টাকা।

রাজধানীর বাজারগুলোতে সপ্তাহের ব্যবধানে পাকিস্তানি কক বা সোনালি মুরগির দাম বেড়েছে। সেই সঙ্গে বেড়েছে বেশকিছু সবজির দাম। সোনালি মুরগির দাম কেজিতে ৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। আর বিভিন্ন সবজির দাম কেজিতে বেড়েছে ৫-১০ টাকা করে।

আজ শুক্রবার রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ব্যবসায়ীরা ব্রয়লার মুরগির কেজি গত সপ্তাহের মতো বিক্রি করছেন ১৪০ থেকে ১৪৫ টাকা। তবে পাকিস্তানি কক মুরগির কেজি বিক্রি হচ্ছে ২৭০ থেকে ২৮০ টাকা, যা গত সপ্তাহে ছিল ২২০ থেকে ২৩০ টাকা।

মুরগির দাম বাড়ার বিষয়ে খিলগাঁওয়ের ব্যবসায়ী মো. বাবু বলেন, হোটেল-রেস্টুরেন্ট সব কিছু খুলে দেওয়া হয়েছে। মানুষ এখন অনেকটাই স্বাভাবিক চলাচল করছে। হোটেলগুলোতে বিক্রি বেড়েছে। বিভিন্ন অনুষ্ঠানও হচ্ছে। ফলে মুরগির চাহিদা বেড়েছে। এ কারণেই দাম বেড়েছে।

কাপ্তান বাজারের ব্যবসায়ী আলী হোসেন বলেন, কয়েকদিন ধরে সোনালি মুরগির চাহিদা অনেক বেড়েছে। বাজারে মুরগির যে চাহিদা তার তুলনায় সরবরাহ কম। এটাই মুরগির দাম বাড়ার সব থেকে বড় কারণ। আমাদের ধারণা সামনে মুরগির দাম আরও বাড়তে পারে।

সবজির বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ব্যবসায়ীরা শিমের কেজি বিক্রি করছেন ১২০ থেকে ১৪০ টাকা, যা গত সপ্তাহে ছিল ১৬০ থেকে ২০০ টাকা। অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে শিমের দাম কেজিতে ৪০ টাকা পর্যন্ত কমেছে।

শিমের দাম কমলেও অপরিবর্তিত রয়েছে গাজর ও টমেটো দাম। গাজর ও টমেটোর কেজি বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১২০ টাকা।

দাম বাড়ার তালিকায় থাকা সবজির মধ্যে ঝিঙের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকা, যা গত সপ্তাহে ছিল ৪০ থেকে ৫০ টাকা। করলা বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৭০ টাকা, যা গত সপ্তাহে ছিল ৪০ থেকে ৫০ টাকা। চিচিঙ্গা বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকা কেজি, যা গত সপ্তাহে ছিল ৩০ থেকে ৪০ টাকা।

এছাড়া পটলের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকা, যা গত সপ্তাহে ছিল ৩০ থেকে ৪০ টাকা। ঢেঁড়সের কেজি পাওয়া যাচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকার মধ্যে, যা গত সপ্তাহে ছিল ৩০ থেকে ৪০ টাকা। বরবটির কেজি পাওয়া যাচ্ছে ৭০ থেকে ৮০ টাকা, যা গত সপ্তাহে ছিল ৬০ থেকে ৭০ টাকায়।

কাঁচা পেঁপের কেজি বিক্রি হচ্ছে ২০ থেকে ২৫ টাকা, কাঁচকলার হালি ২৫ থেকে ৩০ টাকা, লাল শাকের আঁটি ২০ থেকে ৩০ টাকা, মুলা শাকের আঁটি ১৫ থেকে ২০ টাকা, কলমি শাকের আঁটি ৫ থেকে ১০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। এগুলোর দাম সপ্তাহের ব্যবধানে অপরিবর্তিত রয়েছে।

সবজির দামের বিষয়ে কারওয়ানবাজারের ব্যবসায়ী মিজানুর বলেন, শীতের আগাম সবজির সরবরাহ বাড়লেও অন্যান্য সবজির সরবরাহ বাড়ছে না। যে কারণে আগাম সবজির দাম কিছুটা কমেছে। বিপরীতে পটল, করলাসহ কিছু সবজির দাম বেড়েছে।

মাছ বাজারে গিয়ে দেখা যায়, রুই মাছের কেজি বিক্রি হচ্ছে ২৮০ থেকে ৩৮০ টাকা। মৃগেল মাছের কেজি বিক্রি হচ্ছে ২৪০ থেকে ২৮০ টাকা। তেলাপিয়া বিক্রি হচ্ছে ১৬০ থেকে ১৮০ টাকা কেজি। পাবদা মাছের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪৫০ থেকে ৬০০ টাকা। পাঙাশ মাছ বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১৬০ টাকা।

এদিকে বাজারে এখন ছোট-বড় সব ধরনের ইলিশ মাছ পাওয়া যাচ্ছে। তবে দাম এখনো তুলনামূলক বেশি। বড় (এক কেজির ওপরে) ইলিশের কেজি বিক্রি হচ্ছে ১১০০ থেকে ১৩০০ টাকা। মাঝারি আকারের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা কেজি। আর ছোটগুলো ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। সপ্তাহের ব্যবধানে ইলিশের সরবরাহ বাড়লেও দাম কমেনি।

এ বিষয়ে কারওয়ানবাজারের ব্যবসায়ী মিলন বলেন, বাজারে ছোট, বড় সব ধরনের ইলিশ এখন পাওয়া যাচ্ছে। তবে ইলিশের ভরা মৌসুম এখনো আসেনি। আর কিছুদিন পর বাজারে ইলিশের সরবরাহ বাড়বে। তখন দাম একটু কমবে।

এদিকে, বাজারে নিত্যপণ্যের এমন চড়া দামে ক্ষুদ্ধ ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়ই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *