মায়ার্সের ডাবল সেঞ্চুরিতে ঐতিহাসিক জয় ওয়েস্ট ইন্ডিজের

নিউজ দর্পণ, ঢাকা: সত্যিই অকল্পনীয়, অবিশ্বাস্য, বিস্ময়জাগানিয়া। জিততে হলে করতে হবে ৩৯৫ রান। পঞ্চম দিনে লক্ষ্যটা দাঁড়ালো এমন, ২৮৫ রান, হাতে সাত উইকেট। এমন লক্ষ্য দাপটের সাথে পেরিয়ে যাবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ, তা হয়তো কেউ ভাবেনি। কিন্তু বাস্তবে তাই করে দেখালো ক্যারিবীয়নরা। অভিষিক্ত কাইল মায়ার্সের মহাকাব্যিক ডাবল সেঞ্চুরি। সাথে বনার ও সিলভাদের প্রবল প্রতিরোধ। সব মিলিয়ে চট্টগ্রাম টেস্টে ঐতিহাসিক এক জয়ই পেল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। বাংলাদেশকে তিন উইকেটে হারিয়ে সিরিজে এগিয়ে গেল ব্রাথওয়েট শিবির।

টেস্ট ক্রিকেটে চতুর্থ ইনিংসে চারশর বেশি রান তাড়া করে জেতার রেকর্ড আছে ওয়েস্ট ইন্ডিজের, সেটি অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে। চট্টগ্রামে যা করল ওয়েস্ট ইন্ডিজ, তা দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জয়। আবার উপহাদেশে সর্বোচ্চ রান করে জেতার রেকর্ড। হলো মায়ার্স-বনারের অভিষিক্ত রেকর্ড জুটি। আবার টেস্ট ইতিহাসে ষষ্ঠ ব্যাটসম্যান হিসেবে অভিষেকে ডাবল সেঞ্চুরি করলেন মায়ার্স। টেস্টে অভিষেকেই সর্বশেষ ডাবল সেঞ্চুরিয়ান দক্ষিণ আফ্রিকার রুডলফ। ২০০৩ সালে এই চট্টগ্রামেই বাংলাদেশের বিরুদ্ধে চমকজাগানিয়া ইনিংস খেলেছিলেন তিনি। ২২২ রানে রুডলফ ছিলেন অপরাজিত, সেই চট্টগ্রামে মায়ার্স থাকলেন ২০৭ রানে অপরাজিত। সত্যিই অসাধারণ।

৩ উইকেটে ১১০ রানে চতুর্থ দিনের খেলা শেষ করেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ৩৭ রানে মায়ার্স ও ১৫ রানে বনার ছিলেন অপরাজিত। শেষ দিনে জিততে ওয়েস্ট ইন্ডিজের দরকার ছিল ২৮৫ রান। বাংলাদেশের চাই সাত উইকেট। হিসাব মতে, জয়ের পরিস্কার দাবিদার ছিল বাংলাদেশই। কিন্তু সব হিসাব উল্টে দিলেন মায়ার্স-বনার জুটি।

টানা দুটি সেশন অবিচ্ছিন্ন এই জুটি। বাংলাদেশের বোলারদের নাভিশ্বাস করে ছেড়েছেন দু’জন। শুধুমাত্র টিকে থাকার লড়াই না, দুজনের ব্যাটিং দেখে মনে হচ্ছিল জয়ের লক্ষ্যেই এগুচ্ছেন। মাঝে বাংলাদেশের ফিল্ডারদের ক্যাচ মিসতো আছেই। ছিল রিভিউ না নেয়ার বোকামিই।

শেষ পর্যন্ত এই জুটি অভিষেকে রেকর্ড গড়েই বিচ্ছিন্ন হন। রান আসে ২১৬। তাইজুলের বলে বোল্ড হন বনার, তৃতীয় সেশনে। এই জুটি বল মোকাবেলা করেছে ৪৪২টি। ২৪৫ বলে ৮৬ রান করে ফেরেন বনার। ওয়েস্ট ইন্ডিজের দলীয় রান তখন ২৭৫। কিন্তু থেকে যান ভয়ংকর মায়ার্স। এরপর আউট হন ব্লাকউড। নাঈম হাসানের বলে বোল্ড। ৯ রান করেন ব্লাকউড। বাংলাদেশ শিবিরে তখন নতুন আশা।

কিন্তু না। জশুয়া ডি সিলভার সাথে দারুণ জুটি গড়ে তোলেন মায়ার্স। এই জুটি স্কোরে যোগ করে ১০০ রান। ১৩১ বলে। ম্যাচ তখন ওয়েস্ট ইন্ডিজের মুঠোয়। ডাবল সেঞ্চুরি করে ফেলেছেন ততক্ষণে মায়ার্সও। শেষের দিকে সিলভা ও রোচকে ফিরিয়ে খানিক উত্তেজনা তৈরি করেছিল বাংলাদেশ। কিন্তু তা ধোপে টিকেনি।

জয়সূচক রান আসে মায়ার্সের ব্যাট থেকেই। বীরের বেশে মাঠ ছাড়েন মায়ার্স। ততক্ষণে তার নামের পাশে জ্বলজ্বল করছে ৩১০ বলে ২১০ রানের অপরাজিত ইনিংস। হাকিয়েছেন বিশটি চার, সাতটি ছক্কা। শেষের দিকে তো ওয়ানডে স্টাইলে খেলেছেন মায়ার্স। পাত্তাই দেননি কোনো বোলারকে। কয়েকবার বল পাঠান গ্যালারিতে। মহা কাব্যিক ইনিংস খেলার সুবাদে ম্যাচ সেরার পুরস্কার পান কাইল মায়ার্সই।

চার দিন ধরে টেস্টে নিয়ন্ত্রণ ছিল বাংলাদেশের। শেষ দিনে মায়ার্স বীরত্বে ধূলিস্যাত বাংলাদেশের সব আশা। চোটের কারণে দুটি দিন মাঠে বাইরে ছিলেন সাকিব। তার বোলিং খুবই মিস করলো বাংলাদেশ, তা বলাই যায়।

সংক্ষিপ্ত স্কোর :
বাংলাদেশ ১ম ইনিংস: ৪৩০
ওয়েস্ট ইন্ডিজ ১ম ইনিংস: ২৫৯
বাংলাদেশ ২য় ইনিংস: ২২৩/৮
ওয়েস্ট ইন্ডিজ ২য় ইনিংস: (লক্ষ্য ৩৯৫, আগের দিন ১১০/৩) ৯৭ ওভারে ২৬৬/৩ (বনার ৮৬, মায়াস ২১০*, ব্ল্যাকউড ৯, জশুয়া ২০, রোচ ০, ; মোস্তাফিজ ১৩-১-৭১-০, তাইজুল ৩৪-১৭-৩৬-০, মিরাজ ৩৫-৩-১১৩-৪, নাঈম ৩৪-৪-১০৪-১)।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *