মার্কিন নির্বাচন থেকে বিরোধীদেরও শেখার আছে: কাদের

নিউজ দর্পণ, ঢাকা: মার্কিন নির্বাচন থেকে সরকার ও নির্বাচন কমিশনকে শিক্ষা নিতে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের দেয়া পরামর্শের জবাবে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের জানিয়েছেন, শুধু নির্বাচন কমিশন নয়, মার্কিন নির্বাচন থেকে বিরোধী দলগুলোরও শিক্ষা নিতে হবে।
আজ বুধবার তার সরকারি বাসভবনে নিয়মিত ব্রিফিংয়ে এ কথা বলেন।
মির্জা ফখরুলকে উদ্দেশ্য করে কাদের আরও বলেন, ‘দেশের নির্বাচন কমিশন একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান, সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই কমিশন কাজ করছে। বিএনপিকে জয়ী হওয়ার নিশ্চয়তা দিলেই নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষ ও ভালো।’
কাদের বলেন, ‘গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করতে বিএনপির যেই দলগত ভূমিকা জণগণ প্রত্যাশা করে, তা থেকে তারা বহুদূরে অবস্থান করছে। গণতন্ত্রকে এগিয়ে নেয়ার পথে বিরোধীদল হিসেবে বিএনপি এ পর্যন্ত কী ভূমিকা রেখেছে? সবকিছুতেই সরকারের বিরুদ্ধে বিষোদগার আর সমালোচনা করা ছাড়া বিএনপির আর কিছু নেই।’
তিনি বলেন, ‘সরকারের কোনও একটা ভালো কাজের প্রশংসা তাদের মুখ দিয়ে বের হয় না, তারা সাদাকে সাদা আর সত্যকে সত্য বলতে পারে না। বিরোধীতাই তাদের একমাত্র রাজনৈতিক কৌশল। বিএনপি কিভাবে গণতন্ত্রের বিকাশমান রংধনুতে রং যুক্ত করবে? বিএনপির রাজনীতির পথ ষড়যন্ত্রের, গণতন্ত্রের নয়। এ দলটি জন্ম থেকে এ পর্যন্ত প্রমাণ করেছে বারবার।’
বিচার বিভাগ নিয়ে মির্জা ফখরুল যে মন্তব্য করেছেন, তার জবাবে কাদের বলেন, ‘বিচার বিভাগ সম্পূর্ণ স্বাধীন এবং চাপমুক্ত হয়ে কাজ করছে। সাম্প্রতিক নানা ঘটনায় দলীয় নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে রায় এসেছে এবং শাস্তি ভোগ করছে৷ সরকার কোন কিছুতেই হস্তক্ষেপ করেনি। এ থেকেই প্রমাণ হয় বিচার বিভাগ স্বাধীনভাবেই কাজ করছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘বিএনপির পক্ষে রায় গেলে তারা বিচার বিভাগকে ধন্যবাদ জানায়, আর বিপক্ষে গেলে সরকার হস্তক্ষেপ করেছে বলে অভিযোগ করে। দুর্নীতি দমন কমিশনও স্বাধীনভাবে কাজ করছে। সরকারি দলের বিভিন্ন পর্যায়ের জনপ্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করছে, শাস্তিও হয়েছে। এ থেকে স্পষ্ট, দুদকের ওপরও সরকারের কোনও হস্তক্ষেপ নেই।
ঢাকা-১৮ আসনের উপনির্বাচন বিষয়ে বিএনপির অভিযোগ প্রসঙ্গে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘নিজেদের ভরাডুবি টের পেয়ে বরাবরের মতো নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে তারা নানা ধরণের অপপ্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছে। মির্জা ফখরুল সাহেব বলেছেন, ‘সরকার জণগণের মনের ভাষা বুঝতে পারে না।’ শেখ হাসিনার অবস্থান জণগণের মণিকোঠায়। এদেশের রাজনীতিতে ৭৫ পরবর্তী সময়ে সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং জনঘণিষ্ঠ রাজনীতিবীদের নাম শেখ হাসিনা।
আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘আওয়ামী লীগ মাটি ও মানুষের রাজনীতি করে বলেই জনগণের মনের ভাষা বুঝতে পারে। পক্ষান্তরে বিএনপি জণগণের মনের ভাষা বুঝতে পারা তো দূরের কথা, নিজ দলের নেতাকর্মীদেরই মনের ভাষা বুঝতে পারে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *