মাধ্যমিকে বার্ষিক পরীক্ষা বাতিল: শিক্ষামন্ত্রী

নিউজ দর্পণ, ঢাকা: মাধ্যমিক পর্যায়ের শিার্থীদের বার্ষিক পরীক্ষা বাতিল করা হয়েছে। ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত পরবর্তী কাসে উন্নীত করতে এনসিটিবি নতুন করে একটি সংপ্তি সিলেবাস প্রণয়ন করেছে। তার আলোকে শিার্থীদের জন্য অ্যাসাইনমেন্ট করতে দেয়া হবে। এটি মূল্যায়নের মাধ্যমে মাধ্যমিক স্তরের শিার্থীদের পরবর্তী কাসে উন্নীত করা হবে।

আজ বুধবার ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি এ তথ্য জানান।

এ সময় শিা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী, শিা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদরাসা বিভাগের সচিব মো. আমিনুল ইসলাম খান, মাধ্যমিক ও উচ্চশিা অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক গোলাম ফারুক চৌধুরী এবং শিা বোর্ডের চেয়ারম্যানরা উপস্থিত ছিলেন।

শিামন্ত্রী বলেন, ‘জাতীয় শিাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) প্রণয়ন করা সিলেবাস থেকে চারটি অ্যাসাইনমেন্ট এক মাসের মধ্যে শেষ করতে হবে। এ সিলেবাসটি এনটিসিটির মাধ্যমে দেশের সব শিাপ্রতিষ্ঠান প্রধানদের কাছে পাঠানো হবে। শিকদের মাধ্যমে শিার্থীদের কাছে তা পৌঁছে দেয়া হবে। শিার্থীরা অনলাইনে বা খাতায় লিখে অ্যাসাইনমেন্ট জমা দিতে পারবে।’

তিনি আরও বলেন, এর বাইরে শিার্থীদের কোনো ধরনের বাসার কাজ দেয়া যাবে না। চার সপ্তাহে শুধু চারটি অ্যাসাইনমেন্ট তৈরি করে শিকদের কাছে শিার্থীরা পৌঁছে দেবে।

১ নভেম্বর থেকে শিার্থীদের অ্যাসাইনমেন্ট দেয়ার কাজ শুরু হবে জানিয়ে শিামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেন, ‘প্রতি সপ্তাহে একটি করে অ্যাসাইনমেন্ট তৈরি করে শিার্থী বা তার অভিভাবক সশরীরে বিদ্যালয়ে গিয়ে শিকদের হাতে পৌঁছে দিতে পারবেন। কেউ চাইলে অনলাইনের মাধ্যমেও শিকদের কাছে তা পৌঁছে দিতে পারবেন। যদি তা সম্ভব না হয় তবে শিা মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে একটি ই-মেইল ঠিকানা দেয়া থাকবে, সেখানে সাপ্তাহিক অ্যাসাইনমেন্ট পাঠাতে পারবেন। সব অ্যাসাইনমেন্ট জমা দেয়ার পর ধারাবাহিকভাবে শিকরা মূল্যায়ন করবেন।’

শিামন্ত্রী বলেন, ‘একজন শিার্থীর তার কাস থেকে পরবর্তী কাসে যেতে যতটুকু শিখনজ্ঞান প্রয়োজন তা বিশ্লেষণ করে ৩০ দিনের এ সংপ্তি সিলেবাস প্রণয়ন করা হয়েছে। এটি মূল্যায়ন করে সবাইকে পরবর্তী কাসে উন্নীত করা হবে। যেসব শিার্থী ভার্চুয়াল বা টেলিভিশন কাস থেকে একেবারে বঞ্চিত রয়েছে, তাদের এগিয়ে নেয়ার জন্য শিকদের মাধ্যমে ছোট ছোট দল করে সেই শিার্থীদের এগিয়ে নেয়া হবে।’

তিনি বলেন, ‘এরপরও যদি কেউ বঞ্চিত থাকে, তার কারণ ও তাদের কীভাবে এগিয়ে নেয়া যায় তা বিবেচনা করা হবে। আগামী বছরের জানুয়ারিতে সবাইকে নতুন কাসে উন্নীত করা হবে। তাদের মধ্যে কেউ পিছিয়ে থাকলে তাদের চিহ্নিত করে বাড়তি পরিচর্যা নেয়া হবে।’

করোনাভাইরাসের কারণে গত ১৭ মার্চ থেকে দেশের সব শিাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ। কিছু েেত্র অবশ্য অনলাইন ও টেলিভিশনে কাস নেয়া হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে এ বছরের প্রাথমিক শিা সমাপনী, ইবতেদায়ি সমাপনী, জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি), জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট (জেডিসি) এবং উচ্চমাধ্যমিক (এইচএসসি) পরীা অনুষ্ঠিত হচ্ছে না।

টানা সাত মাস ধরে দেশের সব শিাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় স্কুলগুলোতে বার্ষিক পরীা নিয়েও অনিশ্চয়তা দেখা দেয়। অবশেষে করোনা পরিস্থিতিতে মাধ্যমিকে বার্ষিক পরীা হচ্ছে না বলে ঘোষণা দিলেন শিামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। এদিকে প্রাথমিকে সরাসরি অটো প্রমোশন দেয়া হতে পারে বলে জানা গেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *