ভোট দিতে দেয়া না হলে সরকার পতন আন্দোলন: এস এম জাহাঙ্গীর

নিউজ দর্পণ ঢাকা: গত সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে উত্তরের মেয়র পদের প্রার্থী হিসেবে অংশ নেয়া তাবিথ আউয়াল ও দক্ষিণের প্রকৌশলী ইশরাক হোসেনকে সাথে নিয়ে ১০ম দিনের মতো গণসংযোগ করেছেন ঢাকা-১৮ আসনের উপনির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন। তবে আজ রবিবার দক্ষিণ থানার ৪৭ নং ওয়ার্ডের কোটবাড়ি রেললাইন, ট্রান্সমিটার, গণ কবরস্থান, চৈতী গার্মেন্টস,মাটির মসজিদ, পেট্রোল পাম্প গণসংযোগ করার কথা ছিল। তবে আওয়ামী লীগের বাধার কারণে করতে না পেওে বিকল্প হিসেবে উত্তরা ৬ নম্বর সেক্টরে গণসংযোগ করেন এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন। উত্তরা ৬ নং সেক্টরে রাজউক স্কুল এন্ড কলেজ, এতিমখানা, উত্তরা টেলিফোন ভবন, উত্তরা কমিউনিটি ক্লাব, উত্তরা গার্লস হাই স্কুল এন্ড কলেজ, কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী হাসপাতাল এলাকায় গণসংযোগ করেন। বেলা সাড়ে এগারোটায় গণসংযোগ শুরু করেন ধানের শীষের প্রার্থী এস এম জাহাঙ্গীর।

একারণে উত্তরের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের অংশগ্রহণও ছিল বেশ উল্লেখ করার মতো। প্রচারের অংশ নিতে হাজার হাজার নেতাকর্মী সকাল থেকে গণসংযোগ এলাকা ও ধানের শীষের নির্বাচনী ক্যাম্পে জমায়েত হন নেতাকর্মীরা। প্রচার শুরুর সাথে সাথে গণসংযোগ জনসমূদ্রে রূপ নেয়।

উত্তরা বাংলাদেশ মেডিকেল সংলগ্ন এলাকায় তাবিথ ও ইশরাককে জনতার মেয়র উল্লেখ করে এস এম জাহাঙ্গীর পথসভায় বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, এই দুইজন হচ্ছে আমাদের তরুণ প্রজন্মের রূপকার। তাদের নিয়ে আমরা পাহারা বসাবো। আগামী ১২ নভেম্বর যদি ভোটাদের ভোট দিতে দেয়া না হয়, তাহলে সরকার পতন আন্দোলনের ডাক দেয়া হবে।

এ সময় বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিব, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য নাজিম উদ্দিন আলম, রফিক শিকদার, ঢাকা মহানগর উত্তরের বিএনপি’র মেয়র প্রার্থী তাবিথ আউয়াল, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের বিএনপি’র মেয়র প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন, তাঁতী দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যক্ষ বাহার উদ্দিন বাহার, কৃষক দলের সদস্য খলিলুর রহমান ভিপি ইব্রাহিম, ঢাকা মহানগর বিএনপি নেতা হাবিবুর রহমান রাব্বি, ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি ফখরুউদ্দিন রবিন, ছাত্রনেতা আমজাদ হোসেন শাহাদাত, বাংলা কলেজে ছাত্রদলের সভাপতি আইয়ূবসহ বিএনপি ও তার অঙ্গসংগঠনের কয়েক হাজার নেতাকর্মী গণসংযোগে অংশ নেন।
গণসংযোগ শেষে পথসভায় তাবিথ আউয়াল বলেন, এবার ঢাকা-১৮ আসনে উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে আমাদের নেতাকর্মী ও ভোটাররা ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। যত কিছুই হোক আগামী ১২ নভেম্বর ধানের শীষের বিজয় নিয়েই ঘরে ফিরব।

ইশরাক হোসেন বলেন, যতই বাধা আসুক আমরা আমাদের ঐক্য বজায় রেখে আমাদের প্রচার চালিয়ে যাব। আগামী ১২ নভেম্বর ভোটকেন্দ্রে পাহারা বসিয়ে সেখান থেকে গণভোট সৃষ্টি করবো।

গণসংযোগ থেকে ধানের শীষকে গণতন্ত্রের প্রতীক, ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনার প্রতীক এবং ধর্ষণ, দুর্নীতি ও সন্ত্রাস ও দুঃশাসনের বিরুদ্ধের প্রতীক উল্লেখ করে নানা শ্লোগাণে দিয়ে নেতাকর্মীরা ভোট প্রার্থণা করতে থাকেন। এ সময় ‘খালেদার জিয়ার ছালাম নিন, ধানের শীষে ভোটদিন’,‘তারেক রহমানের ছালাম নিন,ধানের শীষে ভোট দিন’,‘জাহাঙ্গীর ভাইয়ের ছালাম নিন, ধানের শীষে ভোট দিন’, ‘তাবিথ ভাইয়ের সালাম, ধানের শীষে ভোট দিন’ ‘ইশরাক ভাইয়ের সালাম নিল, ধানের শীষে ভোট দিন,’ ‘সিল মারো ভাই সিল মারো,ধানের শীষে সিল মারো’, ‘এলাকাবাসীকে বলে যাই, ধানের শীষে ভোট চাই,’ ‘মা-বোনদের বলে যাই, ধানের শীষে ভোট চাই,’ভোট দিবেন কিসে ধানের শীষে, ‘গণতন্ত্রের মার্কা, ধানের শীষ মার্কা’ ইত্যাদি নানা শ্লোগাণে শ্লোগাণে পুরো এলাকা মুখরিত করে তোলে নেতাকর্মী সমর্থকরা।

বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী সমর্থকদের অংশগ্রহনে গণসংযোগ এক বিশাল সমাবেশ রূপ নেয়। যে সড়ক দিয়েই ধানের শীষের প্রার্থী এস এম জাহাঙ্গীর হোসেনের নেতৃত্বে এ সমাবেশ যাচ্ছিল হাজারো মানুষ সড়কের দু’ধারে দাঁড়িয়ে হাততালি দিয় সমর্থন জানাচ্ছিল। বিভিন্ন ভবনের ছাদ থেকেও নারাী-পুরুষ হাত নেড়ে ধানের শীষের এ গণসংযোগকে সমর্থণ জানায়।
এস এম জাহাঙ্গীর বলেন, আমাদের সাথে জনতার মেয়র তাবিথ ও ইশরাক আছেন। তারা হচ্ছেন সারা বাংলাদেশের তরুণ সমাজের রূপকার। এই আসনে প্রচার শুরুর পর থেকে তারা ধানের শীষের গণসংযোগে অংশ নিচ্ছেন। আমরা বলতে চাই, আগামী ১২ নভেম্বর ঢাকা-১৮ আসনের উপনির্বাচনে জনগণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেবে। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগকে বলব, আপনারা যদি জনগণের এই সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করতে চান, জনগণকে যদি ভোট কেন্দ্রে আসতে দিতে না চান, তাহলে জনগণই ঐক্যবদ্ধভাবে সিদ্ধান্ত নেবে আগামী ১২ নভেম্বর দেশে কী হবে।

বিএনপির এই প্রার্থী নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, আমরা কী এই এলাকায় দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া সরকার যেভাবে উন্নয়ন করেছেন, দেশে সুশাসন দিয়েছেন তা দেখতে চাই? হ্যা। আমরা কী ৭২-৭৫-এ দুঃশাসন ছিল তা দেখতে চাই? না। আমরা কী আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের দুঃশাসন দুর্নীতি দেখতে চাই? না। এখন যে দুঃশাসন চলছে তা দেখ চাই? না। তাহলে ১২ নভেম্বর প্রমান করতে হবে ধানের শীষ মার্কায় ভোট দিয়ে সমোস্ত অপশাসনের অবসান ঘটাবে এই এলাকার জনগণ।

আওয়ামী লীগের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আমাদের বিরুদ্ধে প্রতিপক্ষ আওয়ামী লীগ অনেক অপপ্রচার করছে। আমরা যেখানে কর্মসূচি দেই সেখানে তারা পাল্টা কর্মসূচি দেয়। আমাদেও জনতার মেয়র তাবিথ আউয়াল আজ গণসংযোগস্থলে গিয়ে ফেরত এসেছে। সেখানে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা লাঠি হাতে দাঁড়িয়ে আছে।

আওয়ামী লীগের উদ্দেশ্যে বলতে চাই, কোনো রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করে আগামী ১২ নভেম্বর পর্যন্ত মাঠে আছি, মাঠে থাকবো। আগামী ১২ নভেম্বর যদি ভোট দিতে দেয়া না হয়, এখান থেকেই সরকার পতন আন্দোলন শুরু হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *