ভোটারবিহীন ২০১৪ ও ১৮র ভোট হতে দেয়া হবে না : জাহাঙ্গীর

নিউজ দর্পণ, ঢাকা: ধানের শীষের গণজোয়ারে ভীত হয়ে আওয়ামী লীগ, নির্বাচন কমিশন ও লোকাল প্রশাসন মিলে আগামী ১২ নভেম্বর ঢাকা-১৮ আসনের উপনির্বাচনে ভোটারবিহীন নির্বাচন করতে চায় বলে জানিয়েছেন বিএনপি প্রার্থী এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন।

তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আমরা এটা হতে দেব না। জণগণের ভোটাধিকার রক্ষা করেই ঘরে ফরব। আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ থেকে কেন্দ্র থাকব। ভোটারবিহীন ২০১৪ ও ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন এসব কথা বলেন। বক্তব্য শেষ করার আগে ধানের শীষের পক্ষে এলাকাবাসীর দোয়া ও ভোট প্রার্থণা করে এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন ভোটারদের কেন্দ্রে এসে নিজের ভোট পছন্দের প্রার্থীকে দেয়ার আহ্বান জানান।
গণসংযোগ শুরুর আগে ৯ নম্বর সেক্টরের হোয়াইট প্লাজ হোটের সামনে সংক্ষিপ্ত পথসভায় ধানের শীষের এই প্রার্থী আরো বলেন, গত ২৪ অক্টোবর থেকে এই আসনের নির্বাচনী প্রচার শুরু হযেছে। এরপর থেকে পুলিশের পুলিশের অনুমতি নিয়ে যেখানেই কর্মসূচি দেই, সেখানেই সংঘাত বাধাতে সেখানে আওয়ামী লীগ পাল্টা কর্মসূচি দেয়। আমাদের ধানের শীষের গণজোয়ার দেখে আমাদের মিছিলে হামলা করেছে, মামলা করেছে। এমনকি আমাদের মহিলা কর্মীরা প্রচারে গেলেও তাদের বাধা দেয়া হয়। আপনারা জানেন, এই ঢাকা-১৮ আসনে জনগণ দির্ঘদিন গণসংযোগ থেকে উপেক্ষিত, ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত। আমরা বিশ্বাস করি আগামী ১২ নভেম্বর ঢাকা-১৮ আসনের সকল ভোটাররা ভোট কেন্দ্রে যাবেন এবং ধানের শীষ মার্কায় ভোট দিবে।

তিনি বলেন, এখানে যত অনিয়ম হচ্ছে, সন্ত্রাস হচ্ছে প্রশাসন কোনো সহযোগিতা করছে না। নির্বাচন কমিশনও কোনো সহযোগিতা করছে না। আমরা বার বার নির্বাচন কমিশনের জানিয়েছি। আমরা যখন থানায় যোগাযোগ করি তখন তারা উপরের কথা বলে। আমরা উপর বলতে তো নির্বাচন কমিশনকে বুঝি। র্নির্বাচনের সময় সব কিছুই তো নির্বাচন কমিশনের অধীনে থাকে। সিইসি ও লোকাল প্রশাসন একত্রিত হয়ে ওই আওয়ামী লীগ সন্ত্রাসীদের সহযোগিতা করছে। তারা ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির মতো ভোটারবিহীন নির্বাচন করার পাঁয়তারা করছে। যেভাবে ২০১৮ সালে আমাদের সবার নামে নজিরবিহীনভাবে গায়েবি মামলা দিয়েছে ঠিক সেভাবে গায়েবি মামলা দেয়া হচ্ছে। গতকাল আমাদের ২৩৫ জনের বিরুদ্ধে এ ধরণের একটা মামলা করেছে। আমাদের সাতটি থানার সমস্ত নেতাদের আসামী করা হয়েছে। তারা আমাদের নেতাকর্মীদের এলাকা ছাড়া করতে চায় এবং ঘর ছাড়া করতে চায়। পুলিশ ও আওয়ামী লীগ সন্ত্রাসীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে হুমকি দিচ্ছে ভোটের দিন পর্যন্ত এলাকায় থাকা যাবে না। আমরা বিশ্বাস করি, এসব হুমকি-ধমকি উপেক্ষা করে ভোটাদের যে ভোট দেয়ার যে আকাংখা, সেখান থেকে তারা আওয়ামী লীগের সকল অন্যায়, অত্যাচার, দুর্নীতি দুঃশানের বিরুদ্ধে গিয়ে ধানের শীষে ভোট দিয়ে গণতন্ত্রেও প্রতীক ধানের শীষে ভোট দেবে।

সরকারের উদ্দেশ্যে এস এম জাহাঙ্গীর বলেন, শেখ হাসিনা এবার ঢাকা-১৮ আসনে ২০১৪ সালের নির্বাচন হবে না, করতে দেয়া হবে না। ভোট কেন্দ্রে ভোটাররা যাবে না, কেউ থাকতে পারবে না সেটা ঢাকা-১৮ আসনে হবে না। গণতন্ত্রেও জন্য, জনগণের জানমালের নিরাপত্তা দিতে প্রয়োজনে নিজের রক্ত দেব এরপর জনগণকে সাথে নিয়ে সকল অনিয়ম মোকাবেলা করবো।

ঢাকা-১৮ আসনে এখানো নির্বাচনের কোনো পরিবেশ নেই উল্লেখ করে এস এম জাহাঙ্গীর বলেন, এখনো নির্বাচন কমিশন এখানে নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি করতে পারেনি। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সন্ত্রাস করার কারণ হচ্ছে যাতে জনগণ ভোট কেন্দ্রে না যায়। তারা কোনোভাবেই চাচ্ছেন না আমাদের নেতাকর্মীরা মাঠে থাক এবং ভোটাররা ভোট কেন্দ্রে যাক। ভোটাররা ভোট কেন্দ্রে গেলে তারা ধানের শীষে ভোট দেবে-এ কারণেই আওয়ামী লীগ সন্ত্রাস করছে। আমরা সুন্দর পরিবেশ সৃষ্টির চেষ্টা করছি। আমাদের বক্তব্য স্পষ্ট আমাদের নেতাকর্মীরা ভোট কেন্দ্রে যাবে, ভোটারও যাবেন। তারা ধানের শীষের গণজোয়ার দেখে ভীত হয়ে অতীতে যেমন গায়েবি মামলা দিয়েছে,একই রকমভাবে গতকাল শুরু করেছে। পুলিশ প্রশাসন বাড়ি বাড়ি যাচ্ছে এবং থ্রেট করতেছে।

তিনি বলেন, আমরা নির্বাচন কমিশনে গিয়েছি, পুলিশ প্রশাসনকে জানিয়েছি। তারা একজন আরেকজনের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। আমরা ভোটাদের আশ্বস্ত করেছি, যতই রক্তচক্ষু দেখাক, আপনারা ভোট কেন্দ্রে আসবেন, যাকে পছন্দ তাকে ভোট দিবেন আমাদের নেতাকর্মীরা মাঠে থাকবে। আপনারা ভোট দিয়ে আপনাদের প্রিয় মার্কা ধানের শীষ ভোট দিয়ে বিজয় করবেন। আওয়ামী লীগকে উদ্দেশ্য করে বলেন, আপনারা কেন সন্ত্রাস করছেন? এই নির্বাচনে হেরে গেলে তো আপনাদের ক্ষমতা হারাতে হচ্ছে না। বরং ভোটাদের সুষ্ঠু পরিবেশে ভোট দিতে দিলে আপনাদেরই লাভ।

ঢাকা ১৮ আসনে নির্বাচনে বিএনপির সমন্বয়ক আমান উল্লাহ আমান বলেন, এই নির্বাচন আমরা বিনা চ্যালেঞ্জে ছেড়ে দেব না। প্রতিটি ভোট কেন্দ্রের ভেতরে আমাদের পোলিং এজেন্ট থাকবে, নেতাকর্মীরা কেন্দ্রে বাইরে থাকবেন। কোনো ধরণের অনিয়ম করার চেষ্টা করলে তা প্রতিরোধ করা হবে। যদি ধানের শীষের বিজয় ছিনিয়ে নেয়া হয় তাহলে এখান থেকেই সরকার পতন আন্দোলন শুরু হবে। বক্তব্য শেষ করে উত্তরা ৯ নম্বর সেক্টরের বিভিন্ন সড়ক ও ৫০ নম্বর ওয়ার্ড, এয়ারপোর্ট, জসীমউদ্দিন এলাকায় গণসংযোগ করেন ধানের শীষের প্রার্থী। বেলা ৩ টায় গণসংযোগ শুরুর আগে ধানের শীষের র্নির্বাচনী কার্যালয়সহ আশপাশে ধানের শীষের পক্ষে জনস্রােত নামে। অর্ধ-লক্ষাধিক নেতাকর্মী ও সমর্থক নিয়ে গণসংযোগ শুরু হলেও সময়ের সাথে আরো বেড়ে লাখ ছাড়িয়ে যায়। এস এম জাহাঙ্গীর হোসেনের সাথে ছিলেন আরো ছিলেন চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমান, আবদুস সালাম, হাবিবুর রহমান হাবিব, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, হাবিব উন নবী খান সোহেল, সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. সাখাওয়াত হাসান জীবন, প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, স্বনির্ভর বিষয়ক সম্পাদক শিরীন সুলতানা, বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল, সাবেক সংসদ সদস্য নাজিম উদ্দিন আলম, বিএনপির ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক আমিনুল হক, সহ জলবায়ু বিষয়ক সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল, সহ সাংগঠনিক বিষয়ক সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদ, শহীদুল ইসলাম বাবুল, নির্বাহী কমিটির সদস্য রফিক শিকদার, সালাউদ্দিন ভূইয়া শিশির, রাজিব আহসান, আকরামুল হাসান, ঢাকা মহানগর উত্তরের বিএনপির মেয়র প্রার্থী তাবিথ আউয়াল, ঢাকা মহানগর বিএনপি নেতা কাজী আবুল বাশার, বজলুল বাছিত আনজু, একেএম মোয়াজ্জেম হোসেন, আব্দুল আলিম নকী, শামীম পারভেজ, ভিপি হানিফ, সোহেল রহমান, ইকবাল হোসেন, অধ্যাপক আনোয়ার হোসেন মন্ডল, যুবদলের সভাপতি সাইফুল আলম নিরব, সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু, সাংগঠনিক সম্পাদক মামুন হাসান, স্বেচ্ছাসেবক দলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোস্তাফিজুল রহমান, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম ফিরোজ, ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি ফখরুল ইসলাম রবিন, ছাত্রদলের সভাপতি ফজলুর রহমান খোকন, সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন শ্যামল, সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফ মাহমুদ জুয়েল, ঢাকা মহানগর পশ্চিম ছাত্রদলের সভাপতি কামরুজ্জামান জুয়েল, জাসাসের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন রোকন, মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ, প্রচার সম্পাদক নাজনীন মাহমুদ, আদাবর থানা মহিলা দলের সাংগঠনিক সম্পাদক তাহমিনা আফরিন নিতা, গাজীপুর সিটি করপোরশনের মেয়র মান্নানের ছেলে এম মঞ্জুরুল করিম রনি।

গণসংযোগে অংশ নেতাকর্মীদের মুখে উল্লেখযোগ্য শ্লোগাণ ছিল ‘জিয়া তুমি আছ মিশে, সারাদেশের ধানের শীষে’ ‘খালেদার জিয়ার সালাম নিন, ধানের শীষে ভোটদিন’,‘তারেক রহমানের সালাম নিন, ধানের শীষে ভোট দিন’,‘জাহাঙ্গীর ভাইয়ের সালাম নিন, ধানের শীষে ভোট দিন’, ‘১২ নভেম্বর সারাদিন, ধানের শীষে ভোট দিন,’ ‘সিল মারো ভাই সিল মারো, ধানের শীষে সিল মারো’, ‘এলাকাবাসীকে বলে যাই, ধানের শীষে ভোট চাই,’ ‘গণতন্ত্রের মার্কা, ধানের শীষ মার্কা’ ইত্যাদি নানা শ্লোগাণে পুরো এলাকা মুখরিত কওে তোলে নেতাকর্মী সমর্থকরা। শ্লোগাণের বাড়তি আকর্ষণ ছিল ‘মা-বোনদের বলে যাই, ধানের শীষে ভোট চাই,’ ‘ও চাচা-মামা,নানা-নানী,দাদা-দাদী,মা-বাবা, ভাই-ভাবী, আপা-দুলাভাই, ভাই-বোনকে উদ্দেশ্য করে করোতালি ও গানে গানে এলাকাবাসীর উদ্দেশ্যে ‘ভোট দিবেন কিসে ধানের শীষে’ নেতাকর্মীদেও দেয়া শ্লোগাণ বেশ আকৃষ্ট করে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *