ভারতের ২০ লাখ ডোজ করোনার ভ্যাকসিন দেশে পৌঁছেছে

নিউজ দর্পণ, ঢাকা : ভারতের উপহারের ২০ লাখ ডোজ করোনা ভ্যাকসিন দেশে পৌঁছেছে।
আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১১টা ২০ মিনিটে এই করোনা ভ্যাকসিন ভারত থেকে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছায়।
এয়ার ইন্ডিয়ার একটি ফ্লাইটে এই ভ্যাকসিন এসেছে। ফ্লাইটের ১৬৭টি বক্সে ২০ লাখ ডোজ ভ্যাকসিন রয়েছে। বিমানবন্দর থেকে মহাখালীর ওয়্যার হাউজে নেয়ার জন্য দুটি ফ্রিজার গাড়িও প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
প্রথম দফায় ২০ থেকে ২৫ জনের ওপর পরীক্ষামূলক প্রয়োগের পর, ফেব্রুয়ারিতেই করোনা টিকা প্রয়োগ শুরু হবে। প্রথম মাসেই দেয়া হবে ৬০ লাখ ডোজ।
সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে- ফেব্রুয়ারি মাসে ৬০ লাখ মানুষ পাবেন করোনার টিকা। যা সারা দেশে একযোগে দেয়া হবে সরকারি হাসপাতালগুলোয়।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কথা বিবেচনায় সরকারি হাসপাতালের বাইরে কোনো কেন্দ্র থাকবে না। টিকা পেতে আবেদন করতে হবে অ্যাপের মাধ্যমে। ‘সুরক্ষা’ নামের এই অ্যাপটি ২৫শে জানুয়ারি স্বাস্থ্য বিভাগের কাছে হস্তান্তর করবে আইসিটি বিভাগ।
১৮ বছরের নিচে দেশের ৩৭ ভাগ জনগোষ্ঠীসহ ৭ কোটি মানুষ ভ্যাকসিনের আওতার বাইরে থাকবে। এরপর ২৫শে জানুয়ারি বেক্সিমকোর মাধ্যমে আরো ৫০ লাখ ডোজ আসার কথা রয়েছে।
ভারত থেকে উপহার হিসেবে পাওয়া করোনা ভাইরাসের ভ্যাকসিন হস্তান্তর করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় পররাষ্ট্র ড. একে আবদুল মোমেন ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেকের হাতে এই টিকা হস্তান্তর করেন ভারতীয় হাই কমিশনার বিক্রম কুমার দোরাইস্বামী। ভ্যাকসিন হস্তান্তর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম এমপি এবং পররাষ্ট্র ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আজকে একটা আনন্দের দিন। কারণ, ৭১-এ বাংলাদেশের দুর্দিনে যেভাবে ভারত পাশে ছিল, আজকে করোনার দুর্দিনেও ভ্যাকসিন দিয়ে তারা পাশে থাকলো।
তিনি বলেন, এই ভ্যাকসিন উপহার পাওয়ার কোন আলোচনা ছিল না। এটা হাইকমিশনারের একান্ত চেষ্টাতেই এতো দ্রুত পাওয়া সম্ভব হয়েছে।
অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, উপহার হিসেবে পাওয়া ২০ লাখ এবং চুক্তির আওতায় বাণিজ্যিকভাবে আরও ৫০ লাখ ডোজ ভ্যাকসিন আসার পর ব্যাপকভিত্তিক ভ্যাকসিনেশন কার্যক্রম শুরু হবে।
তিনি বলেন, উপহার হিসেবে পাওয়া ভ্যাকসিন প্রদান কার্যক্রম প্রধানমন্ত্রী ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে উদ্বোধন করবেন। ইতিমধ্যে তার সময় চাওয়া হয়েছে।
তবে মন্ত্রী বলেন, এরইমধ্যে ভ্যাকসিন নিয়ে নানারকম গুজব ছড়ানো হচ্ছে। এই সমস্ত গুজবে কান না দিতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
ভারতীয় হাই কমিশনার বলেন, নেইবার হুড ফার্স্ট পলিসির আওতায় বাংলাদেশকে বন্ধুত্বের নিদর্শন হিসেবে এই ভ্যাকসিন দেয়া হয়েছে।
বাংলাদেশের জনসংখ্যার বিষয়টিও এখানে বিবেচনায় এসেছে। ভারতের ভ্যাকসিন কার্যক্রম শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বাংলাদেশ পাবে- এ ব্যাপারে মোদি সরকারের যে অঙ্গীকার ছিল, এটা তারও প্রতিফলন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *