বিভিন্ন আইনে বাংলাদেশের গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রিত: মির্জা ফখরুল

নিউজ দর্পণ, ঢাকা: বিভিন্ন আইনে বাংলাদেশের গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রিত বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

আজ বৃহস্পতিবার সকালে রিপোর্টার্স ইউনিটির রজতজয়ন্তী উতসবের শোভাযাত্রার উদ্বোধনকালে তিনি এই অভিযোগ করেন।

তিনি বলেন, ‘‘ আজকে বাংলাদেশের সঙ্গে সঙ্গে সারা বিশ্বে গণমাধ্যম কর্মীদের ওপরে একটা চাপ সৃষ্টি শুরু হয়েছে এবং বাংলাদেশে সেই চাপ অনেক বেশি আমরা লক্ষ্য করছি। আমরা মনে করি, গণতন্ত্রের জন্য এই যে গণমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণ করা। এজন্য যে আইনগুলো তৈরি করা হয়েছে ইতিমধ্যে, সেই আইনগুলো কখনো স্বাধীন গণমাধ্যমে কাজ করার জন্য কখনো উপযোগী নয়।”

‘‘ আমরা দূ:খের সঙ্গে লক্ষ্য করেছি যে, বাংলাদেশে গণমাধ্যম, মত প্রকাশের স্বাধীনতা, ভিন্নমতকে সহ্য করার যে সহনশীলতা তা ধীরে ধীরে একেবারেই নিচ্ছিন্ন হয়ে যাচ্ছে।”

বাংলাদেশে গণমাধ্যমের অবস্থা তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘‘ আমরা এখানে দেখেছি, শুধুমাত্র রাজনৈতিক কারণে অনেক সংবাদ কর্মী তাদেরকে নিগৃত হতে হয়েছে তাদেরকে প্রাণ দিতে হয়েছে এবং তাদেরকে অনেক সময় কারাগারে যেতে হয়েছে, সংবাদ প্রতিষ্ঠানগুলো অর্থাত সংস্থাগুলো অনেক সময়ে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।”

র‌্যাব কর্মকর্তাদেরে ওপর ‘নিষেধাজ্ঞা’ চেয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেনেটরদের চিঠির প্রসঙ্গ টেনে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘‘ আজকে খুব লজ্জার সঙ্গে আমরা একটা খবর লক্ষ্য করলাম যেটা আজকে পত্র-পত্রিকায় এসেছে যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটের ১০ জন সদস্য তারা তাদের পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে চিঠি দিয়ে্ছে-বাংলাদে্শের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একটির হাতে প্রায় ৪‘শ মানুষ বিনা বিচারে নিহত হয়েছেন এবং তা নিয়ে তাদের বিরুদ্ধে একটা সেনশন দেওয়ার অনুরোধ তারা জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্টের কাছে।”

‘‘ আমাদের দূঃখ হয় যে, আজকে বাংলাদেশে রাজনৈতিক অবস্থার প্রেক্ষিতে এই বিষয়গুলো আজকে বিশ্বের কাছে যাচ্ছে, বিদেশের কাছে যাচ্ছে এবং বিশ্বসভার কাছে যাচ্ছে যা আমাদের জন্য কখনোই সুখকর নয়।”

তিনি বলেন, ‘‘ আমরা সবসময় বলে আসছি যে, বাংলাদেশে গণতন্ত্র প্রায় অনুপস্থিত। এখানে মানুষের স্বাধীনতাকে নিশ্চিত করতে হবে, সংবাদপত্রের স্বাধীনতাকে নিশ্চিত করতে হবে।”

‘‘ আমরা সবসময় বহুদলীয় গণতন্ত্র, আমরা সবসময় সংসদীয় গণতন্ত্র, গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে এসেছি । আমরা এটা অতীতে প্রমাণও করেছি।”

১৯৯৫ সালের ২৬ মে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি প্রতি্ষ্ঠা লাভ করে।

গত ২৫ অক্টোবর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল গ্রান্ড বলরুমে রজতজয়ন্তী উতসবের ভার্চুয়াল উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

৩০ ও ৩১ অক্টোবর অনুষ্ঠানমালায় রয়েছে কাকরাইলে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্সের মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি মিলনায়তনে ‘বাংলাদেশে সাংবাদিকতার সংকট ও সম্ভাবনা: বর্তমান প্রেক্ষিত’ শীর্ষক স্মারক বক্তৃতা, ‘নারী সাংবাদিকতার চ্যালেঞ্জ’, ‘ গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও গণমাধ্যমের আইন’ এবং ‘রিপোর্টার্স চ্যালেঞ্জ: রিয়েল নিউজ ভার্সেস ফেক নিউজ’ শীর্ষক চারটি সেমিনার, ‘রিপোর্টার্স একরোস দ্যা গ্লোভাল’ শীর্ষক ভার্চুয়াল কনফারেন্স, বঙ্গবন্ধু ডিআরইউ বেস্ট রিপোর্টিং অ্যাওয়ার্ড প্রদান, ডিআরইউ‘র সাবেক সভাপতি/সাধারণ সম্পাদক বনাম বর্তমান কমিটির মধ্যে প্রীতি ক্রিকেট ম্যাচ, মওলানা ভাসানী হকি স্টেডিয়ামে নারী সদস্যদের স্টাম্প ভাঙা প্রতিযোগিতা এবং শিল্পকলা একাডেমীতে ডিআরইউ‘র সাবেক কর্মকর্তা ও সদস্যদের সন্মাননা প্রদান, সমাপনী ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

রজতজয়ন্তী উপলক্ষে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সদস্যদের শুভেচ্ছা জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘‘ আপনারা দেশের এই দুঃসময় একদিকে যখন কোবিড-১৯ করোনাভাইরাস আমাদের সমগ্র বিশ্বকে একেবারে গ্রাস করে ফেলেছে, মানব সভ্যতাকে বাধা প্রদান করেছে এই সময়ে আপনারা অত্যন্ত দায়িত্বশীলতার সঙ্গে করোনার বিরুদ্ধে যে যুদ্ধ সেই যুদ্ধে ফ্রন্ট লাইনার হিসেবে কাজ করেছেন, অনেকে মৃত্যুবরণ করেছেন। আমি তাদের প্রতি শ্রদ্ধা ও তাদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি।”

‘‘ সেই সঙ্গে যারা আজকে সমস্ত বিপদকে সামনে নিয়ে যারা লড়াই করছেন তাদেরকে অভিনন্দন জানাচ্ছি।”

ডিআরইউ‘র চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের প্রশংসা করে তিনি বলেন, ‘‘বর্তমানে বাংলাদেশে যে বিভাজনের চিন্তাভবনার যে সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে সর্বক্ষেত্রে ,শুধু রাজনীতি অঙনে নয়, সর্বক্ষেত্রে তার একটা কুফল আমরা দেখতে পারছি। যার ফলে সমাজ বিভক্ত হয়ে যাচ্ছে, মানুষ বিভক্ত হচ্ছে এবং এটা আমাদের জন্য খুব বেশি সুখকর বিষয় নয়, আমাদের ভবিষ্যতের জন্য তা খুব আনন্দময় বিষয় নয়।”

‘‘ ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি এখন পর্যন্ত তারা যেভাবে তাদের কার্য্ক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন নিসন্দেহে আমাদের জন্য আশার একটা আলো দেখায়। আমরা বিশ্বাস করি যে, গণমাধ্যম হচ্ছে- গণতন্ত্রের জন্যে, একটি দেশের উন্নয়নের জন্যে, তার সামগ্রিক সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য সবচাইতে বড় ভুমিকা রাখতে সক্ষম হয়। আমি প্রত্যাশা করি, আপনাদের যে চরিত্র সেই চরিত্র অক্ষুন্ন রাখবেন এবং সত্যিকার অর্থে গণতন্ত্রের সেবা করার জন্য, জনগনের সেবা করার জন্য আপনারা সামনের দিকে এগিয়ে যাবেন-এই হোক আজকের দিকে আপনাদের শপথ।”

পরে বিএনপি মহাসচিব রিপোর্টার্স ইউনিটির শোভাযাত্রার শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন। বর্ণাঢ্য এই শোভাযাত্রায় পুরনোর ঢাকার ঐতিহ্যবাহী ঘোড়ার গাড়িও যুক্ত হয়। শোভাযাত্রাটি সেগুনবাগিচার কার্যালয় থেকে কাকরাইলের ডিপ্রোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউট এসে শেষ হয়।

শোভাযাত্রায় রজতজয়ন্তী কমিটির চেয়ারম্যান শাহজাহান সরদার, ডিআরইউর সভাপতি রফিকুল ইসলাম আজাদ, সাধারণ সম্পাদক রিয়াজ চৌধুরী, রজতজয়ন্ত্রী কমিটির সদস্য শফিকুল করীম সাবু, সাখওয়াত হোসেন বাদশা, ইলিয়াস হোসেন, শাহনেওয়াজ দুলাল, মুফদি আহমেদ, নজরুল ইসলাম মিঠু, কাদের গনি চৌধুরী, আবু দারদা যোবায়ের, মোরসালীন নোমানী, রাশেদুল হক, মশিউর রহমান, তোফাজ্জল হোসেন, ডিআরইউর জিয়াউল হক সবুজ, হাবিুর রহমান, জাফর ইকবাল, মাইদুর রহমান রুবেল, সাখাওয়াত হোসেন সুমন, এইচএম আখতার, খালেদ সাইফুল্লাহ, মইনুল আহসান, আহমেদ মুশফিকা নাজনীন, কামরুজ্জামান বাবলু, মা্ইনুল হাসান সোহেল প্রমূখ উপস্থিত ছিলেন।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *