বিনা অপরাধে কৃষকের ১০০ দিন কারাভোগ

নিউজ দর্পণ, ঢাকা : ভুয়া পরোয়ানায় ঢাকার সাভারের এক কৃষক বিনা অপরাধে ১০০ দিন কারাভোগ করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। আটটি মামলার ভুয়া পরোয়ানার ফাঁদে পড়ে নিজের বসতভিটা বন্ধক রেখে স্ত্রী ও দুই সন্তান নিয়ে পথে পথে ঘুরছেন আজিজুর রহমান ওরফে আবদুল আজিজ নামের ওই কৃষক।

আজিজুর রহমান সাভারের ভাকুর্তা ইউনিয়নের ফিরিঙ্গিকান্দা গ্রামের গেদু মিয়ার ছেলে। নিজ বাড়িতে আজ সোমবার সকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বিনা অপরাধে কারাভোগ করার কথা জানান আজিজুর রহমান ওরফে আবদুল আজিজ।

আজিজুর রহমান বলেন, “আমি প্রবাসী ছিলাম, বিদেশ থেকে আসার পর কৃষিকাজ করি। ২০১৮ সালের ৬ মার্চ রাতে সাভার থানার এক এসআই আমার বাড়িতে এসে বলেন, ‘আপনার নামে ওয়ারেন্ট আছে। আপনি থানায় চলেন।’ পরে ওয়ারেন্টের প্রতি সম্মান দেখিয়ে আমি গেলাম। আমি ওয়ারেন্ট দেখতে চাইলেও উনি দেখাননি। পরে আমাকে চালান করে দিলেন।”

আজিজুর বলেন, ‘এরপর কেরানীগঞ্জে গেলাম জেলহাজতে। সেখান থেকে আমাকে গাজীপুর জেলা কারাগারে পাঠানো হয়। সেখান থেকে পাঠায় কাশিমপুর কারাগারে। সেখান থেকে আমাকে পাঠানো হয় চট্টগ্রাম। সেখান থেকে পাঠায় জামালপুরে। সেখানে নাকি দুটি মামলা আছে। জামালপুর থেকে পাঠায় মাদারীপুর। সেখান থেকে আবার কেরানীগঞ্জ পাঠায়। সেখান থেকে মোট ১০০ দিন জেলহাজত খাটার পর আমার মুক্তি মিলেছে। পরে আমি জানতে পারলাম, আমার নামে কোনো জায়গায় মামলা নেই। যে আদালতেই গিয়েছি, ওইসব জায়গার জজ বলেছেন, উনার নামে কোনো মামলা নেই। ভুয়া ওয়ারেন্টের কারণে উনি ভুগছেন।

আজিজ কাঁদতে কাঁদতে বলেন, ‘আমি একজন নিরপরাধ। আমি জীবনে গাজীপুর যাইনি। গাজীপুরে আমার নামে কীভাবে মামলা হলো? শুধু মামলাই নয়, দেওয়া হয়েছে মাদক মামলা। আমার জীবনে আমি সিগারেটও খাইনি, বিড়িও খাইনি। এলাকাবাসীর কাছে জিজ্ঞেস করেন, আমি মাদক নেই কিনা।’

মাদারীপুরের মুখ্য বিচারিক হাকিমের আদালত এক আদেশে জানান, আবদুল আজিজকে হয়রানির জন্য বিচারক ও আদালতের সিল-স্বার জাল করে ভুয়া পরোয়ানায় আটক করে রাখা হয়েছিল। পরে ওই পরোয়ানা বাতিল ও অকার্যকর বলে রায় দেওয়া হয়।

আজিজুর রহমান জানান, এভাবে আদালতের নির্দেশে আটটি মামলা থেকে তিনি মুক্তি পেলেও গাজীপুরের জয়দেবপুর থানার মাদকের মামলায় তিনি এখনো হাজিরা দিয়ে যাচ্ছেন। কোনো একটি মহল ভুয়া পরোয়ানা তৈরি করে তাঁকে হয়রানির উদ্দেশ্য নিয়ে এমনটি করে থাকতে পারে বলে ধারণা করছেন আজিজুর।

আজিজুরের স্ত্রী মাহিনুর বেগম কাঁদতে কাঁদতে বলেন, “আমার স্বামীকে রাতের বেলা ফোন করে ডাক দিয়ে নিয়ে যায়। আমি তখন সেটা জানতাম না, ঘুমিয়ে ছিলাম। এরপর বাজারের পাহারাদার আমাকে বলেন, তোমার স্বামীকে তো পুলিশ ধরে নিয়ে গেছে। আমি বলি, আমার স্বামীকে পুলিশ ধরে নিয়ে যাবে কেন? আমার স্বামীর নামে তো কোনো মামলা নেই। এরপর বাড়িতে থাকা একটি মোবাইল দিয়ে আমি আমার স্বামীকে ফোন দিয়ে জিজ্ঞেস করি, আপনি কোথায়? উনি বলেন, ‘আমাকে তো পুলিশ ধরে নিয়ে যাচ্ছে, এগুলো আমি সকালে বলব, তুমি থানায় আসো।’”

মাহিনুর বেগম বলেন, ‘আমি ভেবেছিলাম থানায় মামলা হয়েছে। কিন্তু থানায় কোনো মামলা নেই। এরপর আমি যাই অ্যাডভোকেট ফোরকানের কাছে। উনিও থানায় কোনো মামলা পাননি। তদন্ত করে পরে নাকি জানা যায়, গাজীপুরে মামলা। পরে জামিনে আর আমার স্বামী বের হয় না। দেখা যায় একটার পর একটা মামলা। আমার স্বামীকে এখানে থেকে ওখানে যাওয়া লাগে। আমি কোনো জায়গা চিনি না, মানুষ নিয়ে নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় দৌড়াদৌড়ি করেছি। আমার স্বামীকে এভাবে হয়রানি করা হয়েছে, আমি এর বিচার চাই।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *