বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড সমর্থনযোগ্য নয়: প্রাণিসম্পদমন্ত্রী

নিউজ দর্পণ, ঢাকা: আইনের প্রশ্নে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয় বলে মন্তব্য করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ. ম. রেজাউল করিম।

আজ শনিবার দুপুরে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি ভবনের সংস্কারকাজের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি।

শ. ম. রেজাউল করিম বলেন, আইনের প্রশ্নে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়। যখনই কোনো অপরাধীর বিচার করবেন না, তাদের প্রশ্রয় দেবেন, দায়মুক্তি দেবেন, তখন অপরাধীরা ভেবে নেয় অপরাধ করলে কিছুই হয় না, করে যাই।

তিনি বলেন, কার্যকরভাবে স্বাধীনসত্তা নিয়ে কাজ করার জায়গা আছে বিচার বিভাগের। একাডেমিক্যালি বিচার বিভাগ এখন কার্যত সম্পূর্ণ স্বাধীন। বিচার বিভাগকে শক্তিশালী করতে হলে প্রয়োজন শক্তিশালী বার (আইনজীবী সমিতি)। বারে রাজনীতির প্রভাব কিছু কিছু সময় এত বেশি হয়ে যায়, তখন মনে হয় এটি কোনো রাজনৈতিক কার্যালয় হয়ে গেছে। আমাদের রাজনীতিকে রাজনীতির পরিসরে রাখা উচিত। বিচারিক অঙ্গনকে এমন কোনো পর্যায়ে নেয়া যাবে না, যেন একজন আইনজীবী আরেকজনের পক্ষে কথা বলতে না পারেন। এই অবনতি সাম্প্রতিক সময়ে ঘটেছে। এ অবনতির জন্য আমরাই দায়ী। তাই সেই অবনতি থেকে আমাদের উত্তরণ অবশ্যই প্রয়োজন। না হলে আমাদের বিচার বিভাগ থাকবে না।

বিচার বিভাগের স্বাধীনতার বিষয়ে মন্ত্রী আরও বলেন, বিচার বিভাগ যদি স্বাধীন ও শক্তিশালী না হয়, তাহলে সে দেশের গণতন্ত্র ও সুশাসন অর্থবহ হবে না। বিচার বিভাগকে কার্যকরভাবে স্বাধীন এবং শক্তিশালী করার ভেতর থেকেই আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত করতে হয়। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত করতে না পারলে গণতন্ত্র থাকে না, গণতন্ত্র না থাকলে মানবাধিকার থাকে না, মানবাধিকার না থাকলে সভ্যতা থাকে না এবং সভ্যতা না থাকলে আমাদের যা কিছু অর্জন সবকিছু ধ্বংস হয়ে যাবে। আমাদের সেই জায়গাটিকে ধারণ করতে হবে। বর্তমান সরকার বিচার বিভাগের স্বাধীনতাকে ভীষণভাবে বিশ্বাস করে। আমার পক্ষে এলে ঠিক আছে নইলে ঠিক নেই, বিচার বিভাগ নিয়ে এই প্রবণতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।

বিচার না করে অপরাধীদের দায়মুক্তি দেয়ার প্রসঙ্গ টেনে রেজাউল করিম বলেন, বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করার পর একটি ইনডেমনিটি অর্ডার জারি করেছিলেন খন্দকার মোশতাক। তাতে দুটি পার্ট ছিল। যার একটিতে বলা হয়েছিল, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের কৃতকর্ম নিয়ে কোনো প্রশ্ন তোলা যাবে না। আরেকটিতে বলা হয়েছিল, ওই হত্যাকাণ্ডে যারা জড়িত তাদের কৃতকর্ম বৈধ নাকি অবৈধ তা নিয়ে প্রশ্ন তোলা যাবে না। কৌশলগতভাবে বলা হয়েছে, খুন এবং ক্ষমতাকে প্রশ্ন করা যাবে না। এটি কোনো আইন ছিল না এবং এটি কার্যকর হয়নি।

‘১৯৭৯ সালের ৪ এপ্রিল সংসদে একটি বিল এলো। এরপর ৬ এপ্রিল এই বিলের ওপর আলোচনা হলো। কিন্তু সেই আইন করার বিষয়ে বিরোধিতা সত্ত্বেও ইনডেমনিটি অর্ডিন্যান্স পাশ করা হলো এবং ৯ এপ্রিল তৎকালীন রাষ্ট্রপতি (জিয়াউর রহমান) সেটিতে স্বাক্ষর দিয়ে আইনে পরিণত করলেন। যার ফলাফল দাঁড়ালো বঙ্গবন্ধু হত্যা, জেলহত্যায় জড়িতদের আর বিচার করা যাবে না। এই আইন করার পর খুনিরা উচ্চস্বরে বলেছে, আমরা খুন করেছি পারলে কেউ গ্রেফতার করুক। এরপর দেশে একের পর এক হত্যাকাণ্ড ঘটলো।’

মন্ত্রী বলেন, পুলিশ বা র্যাবের দ্বারা যে দলেরই নেতা-কর্মীরা ক্রসফায়ারের শিকার হোক না কেন, তাদের (আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী) জবাবদিহিতা করতে হবে। নারায়ণগঞ্জের সাত খুনের ঘটনার পর অনেকেই বলেছেন বিচার হবে না। সেই দাম্ভিকতা কিন্তু চূর্ণ হয়েছে। তিন সেনা কর্মকর্তার মৃত্যুদণ্ডের রায় দেয়া হয়েছে। বিডিআরকে নিয়ে অনেক শক্তি দেখানোর চেষ্টা হয়েছিল। কিন্তু সেটার বিচার হয়েছে। সে কারণেই অপরাধী যে দলেরই হোক, তাদের আমরা প্রশ্রয় দেবো না।

সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট এএম আমিন উদ্দিনের সভাপতিত্বে এবং সম্পাদক ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন সাবেক সম্পাদক ব্যারিস্টার এএম মাহবুব উদ্দিন খোকনসহ সমিতির নেতারা।

সমিতির সভাপতি এ এম আমিন উদ্দিন জানান, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি (বার অ্যাসোসিয়েশন) ভবন উন্নয়নে সরকারের তরফ থেকে ১৭ কোটি ৪৭ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *