ফেব্রুয়ারিতে এসএসসি পরীক্ষা

নিউজ দর্পণ, ঢাকা: মহামারি নভেল করোনা ভাইরাসের কারণে দেশের শিক্ষাব্যবস্থা চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বিলম্বের মুখে পড়েছে বিভিন্ন স্তরের পাবলিক পরীক্ষা। তবে ২০২১ সালের এসএসসি পরীক্ষা শিডিউল অনুসারে অনুষ্ঠিত হবে, এমনকি করোনা পরিস্থিতির আরও অবনতি না হলে শিক্ষার্থীদের টেস্ট পরীক্ষায়ও বসতে হতে পারে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একাধিক সূত্রে এমন তথ্যই জানানো হচ্ছে।
এসএসসি পরীক্ষার বিষয়ে সিদ্ধান্ত প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। যেকোনও দিন ঘোষণা আসতে পারে- নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা এমনটিই জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে যশোর শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর মাধব চন্দ্র রুদ্র বলেন, ‘পরীক্ষার ঘোষণা যখনই হবে তখনই শিক্ষাবোর্ড প্রস্তত। তবে এখনও কোনও নির্দেশনা বোর্ডগুলোকে দেয়া হয়নি।’
২০২০ সালে সারা দেশে এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ২১ লাখ ৩৫ হাজার ৩৩৩ জন। আগের বছরের চেয়ে সেবার মোট পরীক্ষার্থী কমেছিল প্রায় সাড়ে ৮৭ হাজার। যার মধ্যে ছাত্রীসংখ্যা ছিল ৪১ হাজার ৪৭৬ জন। তবে করোনা পরিস্থিতির কারণে ২০২১ সালের এসএসসি পরীক্ষায় পরীক্ষার্থীর সংখ্যা গেল বছরগুলোর চেয়ে আরও কমতে পরে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ ব্যাপারে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সাবেক উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধুরী গণমাধ্যমকে বলেছেন, ‘করোনা পরিস্থিতিতে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী আরও পিছিয়ে পড়ছে। তবে সব থেকে বেশি প্রভাব পড়বে নারী শিক্ষার্থীদের ওপর। শুধু এসএসসি পরীক্ষাতেই নয়, সমগ্র শিক্ষাব্যবস্থা থেকেই নারীদের ছিটকে পড়ার হার বাড়বে।’

তবে এখনও এসএসসি পরীক্ষার রেজিস্ট্রেশন না হওয়ায় কী পরিমাণ শিক্ষার্থী কমবে সে বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কাছে কোনও তথ্য নেই বলে শিক্ষাবোর্ড কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

করোনা পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়ায় আগামী ১৪ নভেম্বর পর্যন্ত দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছুটি বাড়িয়েছে সরকার। এসএসসি ও এইচএসসি’র আসছে বছরের পরীক্ষার্থীদের কথা মাথায় রেখে ১৫ নভেম্বর থেকে সীমিত পরিসরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেয়া হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি।

গেল বৃহস্পতিবার এক ভার্চুয়াল প্রেস ব্রিফিংয়ে এসএসসি পরীক্ষা পেছানো হতে পারে কিনা- এমন প্রশ্নে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি আছে কিনা সেটি দেখবো। যদি প্রয়োজন হয় তখন পিছিয়ে যেতে পারে। সেটি পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে। পরীক্ষা পেছাবে কিনা আমরা এখনই বলতে পারছি না।’

এসএসসি পরীক্ষার দিনক্ষণ বিষয়ে কোনও মন্তব্য না করলেও আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় সাব-কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মু. জিয়াউল হক বলেছেন, ‘পরীক্ষা ঘোষণা যখনই আসুক, শিক্ষাবোর্ডগুলো পরীক্ষা আয়োজনে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *