পুনরায় নির্বাচনের দাবিতে বিএনপির দুই দিনের বিক্ষোভ

নিউজ দর্পণ,ঢাকা: সম্প্রতি পাবনা এবং গতকাল অনুষ্ঠিত ঢাকা-৫ ও নওগাঁ-৬ এর জাতীয় সংসদীয় উপনির্বাচনের ফলাফল প্রত্যাখ্যান এবং নির্বাচন বাতিল করে পুনরায় নির্বাচনের দাবিতে দুই দিনের বিক্ষোভ সমাবেশ ও মানববন্ধন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিএনপি।

আজ রোববার বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশান রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন। গতকাল শনিবার বিকাল ৫টায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির ভার্চুয়াল সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আমরা নির্বাচনের ফলাফল প্রত্যাখ্যান করেছি এবং সেই নির্বাচন বাতিল করে পুনরায় নির্বাচনের দাবী জানাচ্ছি। আর এই সব উপনির্বাচনের ফলাফল বাতিল করে পুনরায় নির্বাচনের দাবিতে আগামী ১৯ অক্টোবর (সোমবার) সারাদেশে মহানগর ও জেলা সদরে এবং ২০ অক্টোবর (মঙ্গলবার) থানা/ উপজেলা পর্যায়ে বিক্ষোভ সমাবেশ এবং মানববন্ধন কর্মসূচি দেয়া হলো।

সভায় সিদ্ধান্তের এবিষয়ে ফখরুল বলেন, বিনা ভোটে স্বঘোষিত সরকার একদলীয় শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার নীল নকশা বাস্তবায়নের জন্য ২০১৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর মধ্যরাতে ভোট ডাকাতির কৌশলে জনগণকে আবারও প্রতারিত করল। অযোগ্য এবং সরকারের বশংবদ নির্বাচন কমিশন ক্রীড়নকের থেকে এই ভূমিকা পালন করছে। সুপরিকল্পিতভাবে তারা বাংলাদেশের জনগণকে ভোটের অধিকার বঞ্ছিত করে দেশে একদলীয় শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এই অবৈধ সরকার রাষ্ট্র যন্ত্রকে ব্যবহার করে দেশে ত্রাসের রাজত্ব সৃষ্টি করে একদিকে নজীরবিহীন দুর্নীতি ও দুঃশাসন অন্যদিকে জনগণের সাংবিধানিক অধিকার হরণ করে ফ্যসিস্ট রাজত্ব কায়েম করেছে।

“পাবনা- ৪ এর নির্বাচনের ২ দিন আগে থেকেই নিজেরাই নিজেদের নির্বাচনী অফিসে আগুন দিয়ে বিরোধী দলের ওপর মিথ্যা মামলা দিয়ে নেতা-কর্মীদের গ্রেফতার হয়রানী ও ভীতি প্রদর্শন করেছে এবং নির্বাচনের দিনে ভোট কেন্দ্রগুলো দখল করে ধানের শীষের এজেন্টদের মার ধর করে বের করে জাল ভোট দিয়ে ভোট ডাকাতি করেছে। অন্যদিকে নির্বাচন কমিশন ইভিএম দিয়ে ভুয়া ফলাফল তৈরী করে আওয়ামী লীগের প্রার্থীকে বিজয়ী ঘোষণা করেছে।
একই ভাবে নওগাঁ -৬ উপ নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থীর এজেন্টদের বের করে দেয়। এখানে আওয়ামী সন্ত্রাসী, পুলিশ, বিডিআর ও র‌্যাব যৌথভাবে ধানের শীষের ভোটার ও কর্মীদের কেন্দ্র থেকে ত্রাস সৃষ্টি করে বের করে দেয়। নির্বাচন কর্মকর্তাদের সহায়তায় কাল্পনিক ফলাফল তৈরী করে।”

ঢাকা-৫ ডেমরা এর ব্যতিক্রম নয় উল্লেখ করে সভায় বলা হয়, নির্বাচনী প্রচারনায় প্রায় প্রতিদিন আওয়ামী প্রার্থী সন্ত্রাস সৃষ্টি করে, এমন কি প্রচারের শেষ দিনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের পথ সভায় হামলা করে। ভোটের দিন সকাল থেকেই ভোট কেন্দ্রগুলো থেকে এজেন্টদের জোর করে বের করে দেয়। ১৬২টি কেন্দ্র থেকে সকাল ৯টা থেকে ১০টার মধ্যেই সব এজেন্টদের বের করে দেয় এবং ভোটারদের ভোট কেন্দ্রে প্রবেশ করতে দেয় না। এরপর একইভাবে নির্বাচনী কর্মকর্তা ভোটের ফলাফল ঘোষণা করেন। নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ দেওয়ার পরেই নির্বাচন কমিশন কোনও ব্যবস্থা তো নেননি উপরন্ত প্রধান নির্বাচন কর্মকর্তা নিলর্জ্জের মতো বলেন যে, ভোট সুষ্ঠু হয়েছে।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, সভা মনে করে, চাল, ডাল, পেয়াজ, আলুসহ নিত্য প্রয়োজনীয় সকল পণ্যের অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধি সাধারণ নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত ও শ্রমজীবি মানুষকে চরম বিপাকে ফেলেছে। সরকারী দলের মদদপুষ্ট এক শ্রেণীর ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট ও সরকারী ব্যবস্থপনার ব্যর্থতায় ও দুর্নীতির কারণে দ্রব্যমূল্য বেড়েই চলেছে। দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির রাশ টেনে ধরতে সরকারের ব্যর্থতার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়।

সারাদেশ ব্যাপী ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের ব্যাপকতা বৃদ্ধি প্রতিরোধে সরকারের চরম ব্যর্থতা সংশ্লিষ্ট আইন সংশোধন করে মৃত্যুদন্ডের বিধান সংযোজন সমস্যা সমাধানের একমাত্র উপায় নয় বলেও সভা মনে করে। বলা হয়, ধর্ষকদের সরকারী দলের প্রশ্রয় অথবা ধর্ষকের সরকারী দলের সদস্য বলে কোনও বিচার হয় না। গতকাল ধর্ষণ বিরোধী লংমার্চের আন্দোলনকারীদের ওপর ফেনীতে পুলিশের সহায়তায় আওয়ামী সন্ত্রাসীদের হামলা প্রমান করেছে যে, পুলিশের গতকাল সারাদেশে ধর্ষণ বিরোধী সমাবেশ শুধুমাত্র লোক দেখানো। প্রকৃত পক্ষে সরকারের সদিচ্ছার অভাব এবং ব্যর্থতাই ধর্ষণের মত অপরাধ বৃদ্ধি করে। এর মূল কারণ হচ্ছে গণতন্ত্রহীন সংস্কৃতির জবাবদিহিতার অভাব এবং একনায়কতন্ত্রের ভয়াবহতা। দ্রুত বিচারের মাধ্যমে বিচার সুনিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।

মির্জা ফখরুল বলেন, সভায় সরকার ও আইন শৃঙ্খলা বাহিনী নিয়ে সামাজিক গণমাধ্যমে অপপ্রচার করলে ব্যবস্থা গ্রহণের হুমকি দিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যে বিজ্ঞপ্তি প্রদান করেছে তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলেও মনে করা হয়। এই ধরণের বিজ্ঞপ্তি সংবিধান বিরোধী। মৌলিক যে অধিকার মত প্রকাশের স্বাধীনতা এটা তার বিরোধী। দেশে গণতন্ত্রবিহীন একনায়কতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার অপপ্রয়াস। সরকার ইতিমধ্যে আরও কয়েকটি আইন বিধান ও বিজ্ঞপ্তি জারী করেছে যা সংবিধান সম্মত মত প্রকাশের স্বাধীনতার পরিপন্থি। অবিলম্বে এই বিজ্ঞপ্তি প্রত্যাহার করার জন্য আহ্বানও জানানো হয়।

এছাড়া সভায় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের দূর্গাপূজার শারোদীয় শুভেচ্ছা জানিয়ে আনন্দমুখর পরিবেশে এই ধর্মীয় উৎসব পালনের সকল ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে আহ্বান জানানো হয় বলেও জানান ফখরুল।

সভায় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিষ্টার মওদুদ আহমদ, ব্যারিষ্টার জমির উদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বেগম সেলিমা রহমান এবং ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *