পাপুলসহ ৪ জনের ব্যাংক হিসাব জব্দ ও সম্পত্তি ক্রোকের নির্দেশ

নিউজ দর্পণ, ঢাকা:  লক্ষ্মীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য কাজী শহিদুল ইসলাম পাপুলসহ ৪ জনের ৬১৭টি ব্যাংক হিসাব জব্দ ও ৯১টি তফসিলভুক্ত সম্পত্তি ক্রোকের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। অপর তিনজন হলেন- পাপুলের স্ত্রী এমপি সেলিনা ইসলাম, শ্যালিকা জেসমিন প্রধান ও মেয়ে ওয়াফা ইসলাম।
আজ রবিবার এ সংক্রান্ত দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) এক আবেদনের শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ কেএম ইমরুল কায়েশ এ আদেশ দেন। এদিন আদালতে আবেদনের ওপর দুদকের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর মাহমুদ হোসেন জাহাঙ্গীর।
এর আগে গত ১১ নভেম্বর আসামিদের বিরুদ্ধে ২ কোটি ৩১ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদ ও ১৪৮ কোটি টাকার লন্ডারিংয়ের অভিযোগ এনে এই মামলা করেন দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১ এ সংস্থাটির অনুসন্ধান কর্মকর্তা উপ-পরিচালক সালাহউদ্দিন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, আসামিদের বিরুদ্ধে ২ কোটি ৩১ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদ ও ১৪৮ কোটি টাকার লন্ডারিংয়ের অভিযোগ আনা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানের আড়ালে জেসমিন প্রধানের ৫টি ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে ২০১২ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত ১৪৮ কোটি টাকা লন্ডারিং হয়। অথচ মাত্র ২৩ বছর বয়সী জেসমিনের নিজের আয়ের কোনও উৎস নেই।
এছাড়া এফডিআর হিসাবের ২ কোটি ৩১ লাখ ৩৭ হাজার ৭৩৮ টাকার কোনও উৎস শ্যালিকা জেসমিন দাখিল করতে পারেননি। যে কারণে অবৈধ সম্পদের অভিযোগে পাপুল, তার স্ত্রী সেলিনা, শ্যালিকা জেসমিন ও মেয়ে ওয়াফা ইসলামের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে দুদক।
জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করে তা ভোগ দখলে রাখার অপরাধ প্রাথমিকভাবে প্রমাণ হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে দুদক আইন ২০০৪ এর ২৭ (১) ধারায় অভিযোগ এবং প্রায় ১৪৮ কোটি টাকা হস্তান্তর, রূপান্তর ও স্থানান্তরের মাধ্যমে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের ২০১২ এর ৪(২) এবং ৪(৩) ধারায় এজাহারে অভিযোগ আনা হয়।
এদিকে দুদকের করা মামলায় পাপুলের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম এমপি ও তার মেয়ে ওয়াইফা ইসলামকে আগামী ২৮ ডিসেম্বরের মধ্যে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। গত ২২ ডিসেম্বর বিচারপতি নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি আহমেদ সোহেলের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ সময় বেঁধে দেন।
অর্থ ও মানবপাচারের অভিযোগে বর্তমানে কুয়েতের কারাগারে আছেন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য পাপুল।
চলতি বছরের ২৬ ফেব্রুয়ারি পাপুলের বিরুদ্ধে মানবপাচারসহ জ্ঞাত-আয়বহির্ভূত শত শত কোটি টাকার সম্পদ অর্জন করে হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশে পাচারের অভিযোগ অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয় দুদক।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *