পদ্মা সেতুতে বিশ্ব ব্যাংক টাকা দিলে দুর্নীতির করার সুযোগ থাকতো না: মান্না

নিউজ দর্পণ, ঢাকা: পদ্মা সেতুকে সরকারের ভালো উদ্যোগ অভিহিত করে এর নির্মাণ ব্যয় নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন  নাগরিক ঐক্যের আহবায়ক মাহমুদুদুর রহমান মান্না।

শুক্রবার সকালে এক আলোচনা সভায় তিনি এই প্রশ্ন তুলেন।জাতীয় প্রেস ক্লাবের মাওলানা আকরম খাঁ হল বাংলাদেশ সার্বভৌমত্ব পরিষদের প্রথম কেন্দ্রীয় সম্মেলন উপলক্ষে ‘আমরা সবাই বাংলাদেশী, সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ঐক্য গড়ি’ শীর্ষক এই আলোচনা সভা হয়।

মাহমুদুদুর রহমান মান্না বলেন, যত গালি দেন, উনি(শেখ হাসিনা) পদত্যাগ করবে না। আমি এজন্য ঠিক করেছি, তাকে একটা প্রশংসা করি। এটা কোনো দালালি করছি না। সত্যি সত্যি আমি মনে করি, পদ্মাসেতু একটা ভালো কাজ হয়েছে। এটা একটা তো স্বপ্নের সেতু তো বটেই, অন্তত দক্ষিনাঞ্চলের জন্য তো বটেই। কিন্তু এই সেতুর নির্মাণ নিয়ে কথা আছে।”

তিনি বলেন, আমাদের পাশে আসাম এবং অরুনাচল এই দুইটা রাজ্যের মাঝামাঝি একটা ব্রিজ করা হয়েছে এটার নাম ভুপেন হাজারিকা সেতু। ৯ দশমিক ১৫ কিলোমিটার লম্বা। পদ্মাসেতু হচ্ছে ৬ দশমিক ২৫ কিলো মিটার। ৯ দশকির ১৫ কিলো মিটার লম্বা সেতু নির্মাণ করতে লেগেছে ১১শ ২৮ কোটি টাকা। আর আমাদের সোয়া ৬ কি্লো মিটার ব্রিজ এখনো হয় নাই-এটা শুরুতে প্রাক্কলন ধরা হয়েছিলো ১০ হাজার কোটি টাকার মতো।

‘‘ এখন পর্যন্ত ঠিক কত হাজার কোটি টাকা খরচ করা হয়েছে একদম আপডেটেড হিসাব করা হয়নি। সবাই হিসাব মনে করছেন, সর্বশেষ যেটা বলেছিলো ৩০ হাজার কোটি টাকা, তার সাথে আরো ১০/২০ হাজার কোটি টাকা যুক্ত হয়েছে। কমপ্লিট করতে আরো হয়ত ২০ হাজার কোটি টাকা লাঘবে। তার মানে ৬০/৭০ হাজার কোটি টাকা লাগবে এই সোয়া ৬ কিলো মিটার লম্বা সেতু বানাবার জন্য।

তিনি বলেন, ‘‘ আমি বলতে কী পারি না- ওরা যদি সোয়া ৯ কি্লো মিটার দীর্ঘ সেতু ১১‘শ ২৮ কোটি টাকা দিয়ে করতে পারে, এখানে(পদ্মা সেতু) এতো টাকা লাগবে কেনো?”

‘‘ খুব ডাট মারায়। আমরা কাউকে কেয়ার করি না, নিজেদের টাকায় করেছি।কেনো? আপনারা তো চীন থেকে লোন নিয়েছেন। ওই টাকার মধ্যে চীনা কোম্পানি নাই তারা করেছে না। তারা সুদ দিচ্ছে না। সুদের হার কত? মিনিমাম ৪%।”

মান্না বলেন, ‘‘ আর বিশ্বব্যাংক যে টাকা দিতো সেই টাকার সুদের হারের পরিমান ছিলো পয়েন্ট দুই ফাইভ পারসেন্ট থেকে পয়েন্ট ফাইভ জিরো। মানে পয়েন্ট ফাইভ। নেননি কেনো সেই টাকা?”

‘‘ ওরা(বিশ্ব ব্যাংক) একটা দুর্নীতির অভিযোগ করেছিলো। দুর্নীতির তদন্ত করেননি। শুধু গায়ের জোরে বলেছেন-নেবো না তোমাদের টাকা। কেনো? কারণ বিশ্বব্যাংক যদি টাকা দিতো তাহলে বিশ্ব ব্যাংক এটা মনিটর করতো এবং তখন এই্ ধরনের দুর্নীতির করার সুযোগ থাকতো না। এখন এই যে ৬০/৭০ হাজার কোটি টাকা খরচ করে সেতুটা হচ্ছে এই সম্পর্কে কোনো হিসাব চাইতে পারবো? চাইলে সরকার দেবে?”

তিনি বলেন, ‘‘ এই দেশের কত টাকা বছরে লুট হয় তার কোনো হিসাব আছে। একটা হিসাব সরকারি ব্যাংক গুলো দিয়েছে, ব্যক্তি মালিকানা যে সমস্ত ব্যাংক দিয়েছে, তারা বলেছে যে, প্রত্যেক বছর অন্তত ৭০ হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাঁচার হয়ে যায়।”

‘‘ যদি আপনি আরো যে হুন্ডি-টুন্ডির মাধ্যমে যায় ওটা সোয়া লক্ষ কোটি টাকা। সোয়া লক্ষ কোটি টাকা বাদ দেন ৭০ হাজার কোটি টাকা যে প্রতিবছর পাঁচার হয়ে যায় ওই টাকা হলে প্রত্যেক বছর একটা করে পদ্মাসেতু বানাতে পারি। এতো গল্প কেনো? একটা স্পেন বসান আর হুলুস্তুল লাগিয়ে দেন। অথচ প্রত্যেক বছর একটা করে পদ্মাসেতু পাঁচার হয়ে যাচ্ছে সে ব্যাপারে কোনো ব্যবস্থা নেন না।”

মান্না বলেন, ‘‘ শেখ হাসিনা বলেছিলেন, কারা কারা বিদেশের ব্যাংকে টাকা জমা রাখে তা আমি জানি। জেনে আপনি কি পকেটের মধ্যে রেখে দিয়েছেন। কারা কারা বিদেশী ব্যাংকে চুরি করে টাকা রাখে বলেন। তাদের হিসাব নেন। দুর্নীতি দমন কমিশনকে লাগিয়ে দেন। যারা চোর আমার টাকা বিদেশে পাঁচার করে দেয় তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেন।”

‘‘ উনি সেই ব্যবস্থা নিচ্ছেন না। ২ হাজার কোটি টাকা একটা জেলা ছাত্রলীগের নেতা কামাই করল। অথচ সেই লোককে সেই ছেলেকে গ্রেপ্তার করা হয়নি, কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। আর বেগম খালেদা জিয়া দুই কোটি না আড়াই কোটি টাকা-তাও আবার চুরি করেননি, লুট করেননি। একটা ব্যাংক থেকে আরেকটা ব্যাংকে রেখেছেন। এখন সেটা হয়ে গেছে ফুলে ফেপে হয়ে গেছে ৮ কোটি টাকার উপরে। ১৫ বছরের সাজা দিয়েছে তাকে। তাহলে ছাত্রলীগের সেই ছেলেটাকে সাজা দিলেন না কেনো? িসারা দেশজুড়ে একটা অন্যায় দুঃশাসন চালাচ্ছেন তিনি।”

এই অবস্থা থেকে উত্তরণে জনগনকে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনে নামার আহবান জানান নাগরিক ঐক্যের এই নেতা।

সংগঠনের আহবায়ক সুভাষ চন্দ্র দাসের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরো বক্তব্য রাখেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, কেন্দ্রীয় নেতা অর্পনা রায়, প্রকৌশলী ইশরাক হোসেন, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, ডাকসুর ভিপি নুরুল হক নুর প্রমুখ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *