নেতা-কর্মীর উপস্থিতিতে সরব হয়ে উঠেছে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়

নিউজ দর্পণ ঢাকা: করোনা মহামারীর মনেতা-কর্মীর উপস্থিতিতে সরব হয়ে উঠেছে নয়া পল্টনের বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়।ধ্যেও শুক্রবার সকালে থেকে কয়েক হাজার নেতা-কর্মীর উপস্থিতিতে সরব হয়ে উঠেছে নয়া পল্টনের বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়।

ঢাকা-৫, ঢাকা-১৮, নওগাঁ-৬ ও সিরাজগঞ্জ-১ আসনের উপ-নির্বাচনের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা সকাল থেকে কর্মী-সমর্থক নিয়ে তাদের মনোনয়নপত্র জমা দেয়।

চার আসনের জন্য মনোনয়নপত্র বিক্রি হয়েছে ২৫ টি। এরমধ্যে দুপুর পর্যন্ত ঢাকা-১৮ আসনের জন্য মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি ইশতিয়াক আজিজ উলফাত, ঢাকা-৫ আসনে মহানগর দক্ষিনের সহসভাপতি নবী উল্লাহ নবীসহ ১২ জন মনোনয়প্রত্যাশী তাদের ফরম জমা দিয়েছেন।

মনোনয়নপত্রের মূল্যমান ১০ হাজার টাকা। ২৫ হাজার টাকা জমানতসহ প্রার্থীরা মনোনয়ন ফরম জমা দিচ্ছেন।

সকাল ৯টা থেকে ধানের শীষ, খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের ছবি নিয়ে কর্ম-সমর্থকরা মিছিল নিয়ে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সমবেত হয়।

মনোনয়ন প্রত্যাশীরা দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী কাছে তার মনোনয়নপত্র জমা দেন।

রিজভী বলেন, ‘‘ মনোনয়নপত্র জমা দিচ্ছেন মনোনয়নপ্রত্যাশীরা। বক্তব্য শুধু এটাই, যে দুঃশাসন চলছে ভয়ংকর নাতসীবাহিনীর শাসনের মধ্যে গণতন্ত্র প্রসারণের জন্য যেখানে আমরা যতটুকু সুযোগ পাবো সেটা ব্যবহার করবো।”

‘‘ আমরা এর আগেও দেখেছি, নির্বাচন, নির্বাচন কমিশন ও ভোট এগুলোকে জাদুঘরে পাঠানোর জন্য সরকার সকল আয়োজন সম্পন্ন করেছে। আমরা ১২ বছর নিরবিচ্ছিন্ন সংগ্রাম করছি গণতন্ত্র ফেরানোর জন্য। এক্ষেত্রে সর্বোচ্চ নেতা থেকে তৃণমূলের নেতা কারো ৫০ থেকে ২৫০-৩০০ মামলা নিয়ে এই সংগ্রামে অংশ নিচ্ছে। আমরা এসব উপনির্বাচনকে সংগ্রামের অংশ হিসেবে নিয়েছি।”

তিনি বলেন, ‘‘ সরকার তার রাষ্ট্রযন্ত্র ব্যবহার করে নানাকিছু করতে পারে। আমাদের বিশ্বাস ও আস্থার জায়গা হচ্ছে জনগন। আমরা জনগনের শক্তির ওপর ভর করে এই উপনির্বাচনে অংশ গ্রহন করব।”

‘‘ যদিও ক্ষমতাসীনরা রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে জনগনের ওপর অত্যাচার করে তাদের হয়ত সাময়িক লাভ হতে পারে। অবশেষ জনগনের শক্তিই চূড়ান্ত বিজয় হবে। সেই লক্ষ্যে আমরা এগুচ্ছি, ইনশাল্লাহ এসব উপনির্বাচনে বিএনপির বিজয়ী হবে।

জাহাঙ্গীর ঢাকা-১৮ আসন(উত্তরা) বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে অভিহিত করে বলেন, ‘‘ ১৯৯১ সালে এই আসন থেকে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন এবং প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন। এখানে যত উন্নয়ন হয়েছে সব বিএনপি সময়ে হয়েছে।”

‘‘ দল আমাকে মনোনয়ন দিলে ইনশাল্লাহ এই আসনে ধানের শীষ বিজয় করব। আমি বিশ্বাস করি দলের মনোনয়ন পেলে নেতা-কর্মী-সমর্থকদের ঐক্যবদ্ধ করে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে পারবো এবং আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনতে পারবো।”

তিনি বলেন, ‘‘ গত মেয়র নির্বাচনে আপনারা দেখেছেন, আমরা কিভাবে কাজ করেছি। আমাদের নেতা-কর্মীরা আজকে উজ্জীবিত। এই কারণে উজ্জীবিত যে, তারা মামলাগুলো ছিলো তাতে তারা জামিন আছে।সরকার ও তার দলকে বলব, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন করে একটি বার নিজেদের জনপ্রিয়তা যাছাই করুন।”

‘‘ যতই ষড়যন্ত্র করুক, তাদের দাঁত ভাঙ্গা জবাব দিয়ে আমরা ইনশাল্লাহ বিজয়ী ছিনিয়ে আনতে পারবো। ঢাকা-১৮ আসনে এমন ফলাফল হবে, যে ফলাফলে সারা বাংলাদেশে নেতা-কর্মীরা উজ্জীবিত হবে।”

নওগাঁ-৬ আসনের জন্য মনোনয়নপত্র জমা দেয়া আনোয়ার হোসেন বুলু বলেন, ‘‘ মুক্তিযুদ্ধে অংশ গ্রহন করেছি,বাংলাদেশের স্বাধীনতায় অবদান আছে আমার। আশা করি এই উপনির্বাচনে আত্রাই-রানীনগর থেকে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের বিজয়ের সংগ্রাম শুরু হবে আগামী নির্বাচনে আমার বিজয়ের মধ্য দিয়েই।”

‘‘ ২০০৮ সালে নির্বাচনের পরে ২টি থানা, ১৬টি ইউনিয়ন, ১৪৪টি ওয়ার্ড, ৪৫০টি গ্রামে বিএনপি, যুব দল, স্বেচ্ছাসেবক দল, ছাত্র দলের শক্তিশালী সংগঠন আছে এবং এই সংগঠনের নেতৃত্ব আম দিয়েছি। ইনশাল্লাহ দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানকে আগামী দিনে নওগাঁ-৬ আসন আমি উপহার দিতে পারবো।”

চার আসনে উপনির্বাচনের ধানের শীষে মনোনয়ন পেতে মোট ২৫ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন্।

ঢাকা-৫ আসনের জন্য আলহাজ্ব সালাহউদ্দিন আহমেদ, অধ্যক্ষ সেলিম ভুঁইয়া, নবী উল্লাহ নবী, মো. জুম্মন মিয়া ও আকবর হোসেন নান্টু এবং ঢাকা-১৮ আসনের জন্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন, এম কফিল উদ্দিন, ইশতিয়াক আজিজ উলফাত, ইসমাইল হোসেন, বাহাউদ্দিন সাদি, মোস্তফা জামান সেগুন, মো. আখতার হোসেন, আব্বাস উদ্দিন, নওগাঁ-৬ আসনে আনোয়ার হোসেন বুলু, আবদুস শুকুর, এম এম ফারুক জেমস, মাহমুদুল আরেফিন স্বপন, ইসহাক আলী, আতিকুর রহমান রতন মোল্লা, শেখ মো. রেজাউল ইসলাম, মো. শফিকুল ইসলাম, আবু সাঈদ রফিকুল আলম রফিক এবং সিরাজগঞ্জ-১ আসনে বিএ্ম তাহজিবুল ইসলাম, নাজমুল হাসান তালুকদার রানা ও রবিউল হাসান

মনোনয়নে প্রত্যাশীরা ১০ হাজার টাকা মূল্যমানে ফরম সংগ্রহ করে ২৫ হাজার টাকা জামানতসহ ফরম জমা দেন।

শনিবার বিকাল ৫টায় গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে হবে প্র্রার্থীদের সাক্ষাতকার।

নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী ঢাকা-৫ এবং নওগাঁ-৬ আসনে উপনির্বাচনে ভোট গ্রহন হবে ১৭ অক্টোবর

ঢাকা-১৮ ও সিরাজগনজ-১ আসনেরে উপ-নির্বাচনের তফসিল কমিশন এখনো ঘোষণা করেনি।

আওয়ামী লীগের হাবিবুর রহমান মোল্লার মৃত্যুতে ঢাকা-৫, ইসরাফিল আলমের মৃত্যুতে নওগাঁ-৬, মোহাম্মদ নাসিমের মৃত্যুতে সিরাজগনজ-১ এবং সাহারা খাতুনের মৃত্যুতে ঢাকা-১৮ আসন শূণ্য হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *