নিয়ম ভেঙে বিদ্রোহী মেয়র প্রার্থীর প্রস্তাবকারী সরকারি কর্মকর্তা!

নিউজ দর্পণ, টাঙ্গাইল: নির্বাচন কমিশনের নিয়ম ভেঙে টাঙ্গাইলের মির্জাপুর পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী মেয়র প্রার্থীর প্রস্তাবকারী হয়েছেন এক সরকারি কর্মকর্তা। একজন দায়িত্বশীল সরকারি কর্মকর্তা নিয়ম ভেঙে মেয়র প্রার্থীর প্রস্তাবকারী হওয়ায় নির্বাচন অফিসের কর্মকর্তাদের মধ্যে তোলপার শুরু হয়েছে। পৌর নির্বাচনে মেয়র ও কাউন্সিলর পদের প্রার্থীদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হওয়ায় ঐ মেয়র প্রার্থীর মনোয়নপত্র বাতিলের দাবি জানিয়েছেন।
গতকাল বৃহস্পতিবার নির্বাচন অফিস সূত্র জানায়, নির্বাচন কমিশনের তফসিল অনুযায়ী তৃতীয় ধাপে আগামী ৩০ জানুয়ারি মির্জাপুর পৌরসভার নির্বাচন। গত ৩১ ডিসেম্বর ছিল মনোনয়পত্র জমাদানের শেষ দিন। বাছাই ছিল ৩ জানুয়ারি, প্রত্যাহার ১০ জানুয়ারি এবং ১১ জানুয়ারি হবে প্রতীক বরাদ্দ। মেয়র পদে আওয়ামী লীগ মনোনীত বর্তমান মেয়র সালমা আক্তার শিমুল, বিএনপির মেয়র প্রার্থী দেওয়ান শফিকুল ইসলাম ফরিদ এবং আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী মেয়র প্রার্থী সাবেক মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. শহিদুর রহমান শহিদ এই তিনজন মনোয়নপত্র দাখিল করেছেন।
এছাড়া ৯ ওয়ার্ডে সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর পদে ১১ জন এবং সাধারণ কাউন্সিলর পদে ৩১ জন প্রার্থী রিটার্নিং অফিসারের নিকট মনোয়নপত্র দাখিল করেছেন। রিটার্নিং অফিসারের নিকট মনোয়নপত্র দাখিলে দেখা গেছে, মেয়র পদে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির মনোনয়ন বোর্ড থেকে দলীয় মনোনয়ন বঞ্চিত ও বিদ্রোহী মেয়র প্রার্থী সাবেক মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. শহিদুর রহমান শহিদের প্রস্তাবকারী হয়েছেন মো. ইয়াসির আরাফাত রহমান (রাজিব)।ইয়াসির আরাফাত একজন সরকারি কর্মকর্তা। তার পদবী হচ্ছে খাদ্য পরিদর্শক, সংরক্ষণ ও চলাচল সিরাজগঞ্জ। তিনি মেয়র প্রার্থী বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. শহিদুর রহমান শহিদের পুত্র এবং বর্তমানে খাদ্য কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। একজন সরকারি কর্মকর্তা নির্বাচন কমিশনের নিয়ম ভেঙে কিভাবে স্থানীয় নির্বাচনে একজন মেয়র প্রার্থীর প্রস্তাবকারী হয়েছেন এ নিয়ে নির্বাচন অফিসও পড়েছেন বিপাকে বলে জানা গেছে।
মির্জাপুর পৌরসভার সাবেক মেয়র অ্যাডভোকেট মো. মোশারফ হোসেন মনি এবং পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. আলম মিয়া বলেন, কোন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী জাতীয় ও স্থানীয় নির্বাচনে আত্মীয়-স্বজন ও কোন প্রার্থীর প্রস্তাবক বা সমর্থনকারী হতে পারবে না এটা সংবিধানে স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে। এছাড়া কোন প্রার্থীর পক্ষে গণসংযোগ ও ভোট চাইতেও পারবে না। এ ধরনের ঘটনা ঘটলে নির্বাচন আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল বলে গণ্য হবে।
এ ব্যাপারে টাঙ্গাইল জেলা সিনিয়র নির্বাচন অফিসার ও রিটার্নিং অফিসার এ এস এম কামরুল হাসান বলেন, কোন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কোন অবস্থাতেই জাতীয় নির্বাচন বা স্থানীয় নির্বাচনে কোন প্রার্থীর সমর্থক বা গণসংযোগে অংশগ্রহণ করতে পারবে না। ১৯৭২ সালের গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ১৩৩ অনুচ্ছেদের ক্ষমতাবলে রাষ্ট্রপতির সচিবালয়ের জন বিভাগের ২০ নভেম্বর ১৯৭৮ এর অধীনে অর্পিত রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা প্রয়োগ করিয়া উপরাষ্ট্রপতি এই বিধিমালাটি প্রণয়ন করেন। জাতীয় বা স্থানীয় নির্বাচনে সরকারি কোন কর্মকর্তা-কর্মচারী কোন রাজনৈতিক দলের বা কোন প্রার্থীর সমর্থন বা নির্বাচনী কাজে অংশগ্রহণ করিতে পারিবে না। মির্জাপুরে পৌর নির্বাচনের কোন সরকারি কর্মকর্তা মেয়র প্রার্থীর প্রস্তাবক বা সমর্থন বা গণসংযোগের অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে ঐ প্রার্থীর মনোয়নপত্র বাতিল হতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *