নিয়ম অনুসারে মূলধনী যন্ত্র আমদানি করলে মুসক দিতে হবে না: শিল্প প্রতিমন্ত্রী 

নিউজ দর্পণ, ঢাকা:বর্তমানে কার্যকর নিয়ম অনুসারে মূলধনী যন্ত্র আমদানি করলে মুসক দিতে হবে না বলে জানিয়েছেন শিল্প প্রতিমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদার।

মূল্য সংযোজন কর (মূসক) সংক্রান্ত বৈষম্য তুলে ধরে তিনি বলেন, বর্তমানে কার্যকর নিয়ম অনুসারে মূলধনী যন্ত্র আমদানি করলে মুসক দিতে হবে না। আর স্থানীয়ভাবে তা উৎপাদন করলে মুসক দিতে হবে। এতে করে দেশীয় হালকা প্রকৌশল শিল্প মূসকের ক্ষেত্রে চরম বৈষম্যের স্বীকার হচ্ছে। আমদানি ও উৎপাদন- উভয় ক্ষেত্রেই মুসক একই থাকা যৌক্তিক।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে হালকা প্রকৌশল (লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং) খাত এ দেশেই আরও অনেক বেশি উৎপাদন করতে সক্ষম। কিন্তু নানা সমস্যার কারণে এ খাতটি মোটেও অগ্রসর হতে পারছে না। পুঁজির স্বল্পতা, অবকাঠামোর অভাবসহ অন্যান্য সমস্যার মধ্যে অন্যতম হল বাংলাদেশর শুল্ক বা কর কাঠামো। শুল্ক কাঠামো স্থানীয় ভাবে উৎপাদনের চেয়ে আমদানিকে উৎসাহিত করছে। যা জাতীয় অর্থনীতির জন্য মারাত্মক অশনি সংকেত।

আজ শনিবার লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং খাতের ভূমিকা, সম্ভাবনা, চ্যালেঞ্জ ও করণীয় নির্ধারণ বিষয়ক এক গোলটেবিল বৈঠকে (ভার্চুয়াল প্লাটফর্ম) প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। দৈনিক যুগান্তর, বিটাক ও এটুআইয়ের সমন্বিত উদ্যোগে অনুষ্ঠানটির আয়োজন করা হয়।

কামাল আহমেদ মজুমদার বলেন, বাংলাদেশের হালকা প্রকৌশল খাতের বাজারের পরিমাণ বছরে প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকার। এর মধ্যে দেশীয়ভাবে প্রায় আট থেকে নয় হাজার কোটি টাকার বিভিন্ন প্রকার যন্ত্র ও যন্ত্রাংশ উৎপাদন এবং সেবার মাধ্যমে জিডিপিতে অবদান রেখে চলেছে। সারা পৃথিবীর বাজারের পরিমাণ প্রায় আট ট্রিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি। এ খাতের গুরুত্ব অনুধাবন করে প্রধানমন্ত্রী ২০২০ সালকে হালকা প্রকৌশল পণ্যবর্ষ ঘোষণা করেছেন।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত হালকা প্রকৌশল পণ্য বর্ষ ২০২০ সফল করার লক্ষ্যে অর্থমন্ত্রীকে অনতিবিলম্বে একটি কমিশন গঠন করে সমস্ত লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং খাতের উপর বিদ্যমান শুল্ক বা কর বৈষম্য নিরসনের ব্যবস্থা করতে হবে। দেশের শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থানের স্বার্থে হালকা প্রকৌশল খাতের পণ্য ও কাঁচামাল আমদানির ক্ষেত্রে শুল্ক বা কর হারের যৌক্তিক সংস্কার অতি জরুরি।

অর্থমন্ত্রীর উদ্দেশে তিনি বলেন, শুধুমাত্র রাজস্ব আদায়কে বড় করে না দেখে দেশে উৎপাদন সম্ভব- এমন পণ্য আমদানিকে অধিকতর সুযোগ না দিয়ে বরং স্থানীয়ভাবে উৎপাদনকে উৎসাহিত করা উচিত। তাহলে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে এবং নানাভাবে রাজস্ব আহরিত হবে।

বিটাকের মহাপরিচালক ড. মো. মফিজুর রহমানের পরিচালনা ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন এসএমই ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. সফিকুল ইসলাম, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের প্রথম সচিব কাজী ফরিদ উদ্দিন, বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের সদস্য শাহ মো. আবু রায়হান আলবেরুনী, প্রফেসর মো. নুরুল আমিন, প্রফেসর মো. কামাল উদ্দিন (অব.) প্রমুখ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *