ধর্ষণ ও নারীর প্রতি সহিংসতার প্রতিবাদে উত্তাল দেশ: পুলিশের বাধা-লাঠিচার্জ

নিউজ দর্পণ, ঢাকা: নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে গৃহবধূকে বিবস্ত্র করে নির্যাতনসহ সারাদেশে নারীর প্রতি সহিংসতা, নির্যাতন ও ধর্ষণের প্রতিবাদে উত্তাল গোট দেশ। রাজধানীসহ দেশের অধিকাংশ জেলায় সকাল থেকেই এ প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নেন বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মী এবং নানা শ্রেণি পেশার মানুষ। এসব কর্মসূচি থেকে ধর্ষণ, নির্যাতন বন্ধ এবং অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়। নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে গৃহবধূকে বিবস্ত্র করে নির্যাতনসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে নারী নির্যাতন, ধর্ষণের ঘটনার প্রতিবাদে উত্তাল রাজধানীর শাহবাগ।
রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলের সামনের সড়কে ধর্ষণবিরোধী কালো পতাকা মিছিলে পুলিশের লাঠিপেটায় কমপে ১০ জন আহত হয়েছেন।

মঙ্গলবার বেলা ২টার দিকে পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে মিছিল নিয়ে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় অভিমুখে যাওয়ার সময় এ ঘটনা ঘটে। পুলিশের লাঠিপেটায় কমপে ১০ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি মেহেদি হাসান নোবেল। তিনি বলেন, আহতদের মধ্যে ছাত্র ইউনিয়নের জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নেত্রী আসমানি আশা, মহানগর কমিটির সদস্য মাহমুদা দীপা ও ধানমন্ডি শাখার সভাপতি সাজ্জাদ শুভকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। র্ষণবিরোধী মিছিলে পুলিশের লাঠিপেটার প্রতিবাদে তাৎণিক সন্ধ্যায় মশাল মিছিল ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কুশপুত্তলিকা পোড়ানোর কর্মসূচি পালন করে।
ছাত্র ইউনিয়ন সভাপতি বলেন, ‘মিছিলে হামলা করে ধর্ষণের পে অবস্থান নিয়েছে পুলিশ। আমরা আন্দোলনের মাধ্যমে গণজোয়ার সৃষ্টি করে দেশ থেকে ধর্ষণ শব্দটি মুছে দিতে চাই। এর আগে নোয়াখালীতে নারীকে বিবস্ত্র করে শ্লীলতাহানিসহ সারা দেশে একের পর এক ধর্ষণ ও নিপীড়নের ঘটনার বিচারের দাবিতে দুপুর ১২টার দিকে শাহবাগে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো জড়ো হন প্রগতিশীল ছাত্রসংগঠনসহ শিার্থীরা। শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে অবস্থান নিয়ে তারা ‘ধর্ষকের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ’ লেখা ব্যানারে ‘ধর্ষক লীগের আস্তানা ভেঙে দাও, গুঁড়িয়ে দাও/আমার মাটি আমার মা, ধর্ষকদের হবে না’ স্লোগান দিতে থাকেন। এছাড়া সারাদেশে ধর্ষণ প্রতিরোধ এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ‘ব্যর্থ হওয়ায়’ গণজমায়েত থেকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের পদত্যাগের দাবি জানানো হয়। এরপর পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী অনুযায়ী শাহবাগ মোড় থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি হয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় অভিমুখে কালো পতাকা মিছিল নিয়ে যাওয়ার সময় হোটেল সোনারগাঁওয়ের সামনে পুলিশ বাধা দেয়।
ধর্ষণ ও নারীর প্রতি সহিংসতার প্রতিবাদে উত্তাল দেশ :
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে গৃহবধূকে বিবস্ত্র করে নির্যাতনসহ সারাদেশে নারীর প্রতি সহিংসতা, নির্যাতন ও ধর্ষণের প্রতিবাদে উত্তাল গোট দেশ। রাজধানীসহ দেশের অধিকাংশ জেলায় সকাল থেকেই এ প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নেন বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মী এবং নানা শ্রেণি পেশার মানুষ। এসব কর্মসূচি থেকে ধর্ষণ, নির্যাতন বন্ধ এবং অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়। নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে গৃহবধূকে বিবস্ত্র করে নির্যাতনসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে নারী নির্যাতন, ধর্ষণের ঘটনার প্রতিবাদে উত্তাল রাজধানীর শাহবাগ। বিভিন্ন সংগঠনের কর্মীরা সকাল থেকে জড়ো হতে থাকেন । সহিংসতা বন্ধে শ্লোগানে শ্লোগানে মুখর হয়ে উঠে শাহবাগ। এ সময় ধর্ষকদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়। ঢাকায় বিােভ ও মানববন্ধন হয় উত্তরা ও ধানমন্ডিতেও। সেখানেও শ্লোগানে শ্লোগানে নারী নির্যাতনের প্রতিবাদ জানানো হয়। নারীর প্রতি সহিংসতা হত্যা, নির্যাতন, ধর্ষণ ও গণধর্ষণ বন্ধ এবং অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বন্দর নগরী চট্টগ্রামে নাসিমন ভবনে দলীয় কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন করে বিএনপির মহিলা দল চট্টগ্রাম শাখা। আর প্রেসকাবের সামনে বিােভ করেছে চট্টগ্রাম জেলা ছাত্র সমাজ। নোয়াখালীতে নারীকে বিবস্ত্র করে নির্যাতনের ঘটনার প্রতিবাদে মঙ্গলবারও জেলার বিভিন্ন স্থানে প্রতিবাদ সমাবেশ ও মানববন্ধন হয় । সকালে নোয়াখালী প্রেসকাবের সামনে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করে জেলা যৌন হয়রানি নির্মুলকরণ নেটওয়ার্ক। একই সময় জেলা জজ আদালত সড়কে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করে বিভিন্ন শিা প্রতিষ্ঠানের প্রাক্তন শিার্থীদের ফেরাম। ধর্ষণ ও নারীর প্রতি সহিংসতা বন্ধের দাবিতে বিােভ হয় রংপুর মহানগরীতেও। সকালে রংপুর মহানগরীর প্রেসকাব, লালবাগ, কাচারীবাজার এলাকায় ধর্ষণ ও নীপিড়ন বিরোধী ছাত্র জনতার ব্যানারে মানববন্ধন ও বিােভ সমাবেশ হয়। ধর্ষণ বিরোধী বিভিন্ন ধরনের লেখা প্লাকার্ড নিয়ে কয়েক হাজার শিার্থীও কর্মসূচিতে অংশ নেয়। প্রচলিত আইন পরিবর্তন করে দ্রুত বিচার আইনে ধর্ষকের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড করার দাবি জানিয়েছে ময়মনসিংহবাসী। নগরীর রেলওয়ে কৃষ্ণচূড়া চত্বরে আয়োজিত এক বিােভ কর্মসূচি থেকে এ দাবি জানানো হয়। বিভিন্ন শ্রেণিপেশার দুই শতাধিক মানুষ মাথায় ‘ধর্ষকবিরোধী’ স্লোগান সম্বলিত কালো ব্যাজ ও প্ল্যাকার্ড নিয়ে বিােভে অংশ নেন। অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন হয় যশোরে। প্রেসকাবের সামনে মানববন্ধনের আয়োজন করে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ যশোর জেলা শাখা। এছাড়া নেত্রকোনা, দিনাজপুর, পিরোজপুরসহ দেশের আরও অনেক জেলায় ধর্ষণের প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিােভ হয়।

ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড করার দাবি শাবি শিার্থীদের :
সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন স্থানে ঘটে যাওয়া ধর্ষণ ও নিপীড়নের প্রতিবাদ জানিয়েছে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিার্থীরা। এ সময় ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের দাবি জানান শিার্থীরা। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে বৃষ্টি উপো করে ‘শাবিপ্রবি শিার্থীবৃন্দ’ ব্যানারে অনুষ্ঠিত এক মানববন্ধনে এ দাবি জানান তারা। মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারী শিার্থীরা বিভিন্ন প্রতিবাদী লেখা সংবলিত প্লেকার্ড বহন করেন। ‘দাবি মোদের একটাই, ধর্ষণের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড চাই’, ‘আর কোনো দাবি নাই, ধর্ষকের ফাঁসি চাই’, ‘করোনার ভ্যাকসিন নয়, আগে ধর্ষণকারীদের ভ্যাকসিন চাই’, ‘১৯৭১ সালে ধর্ষণকারীদের পরিচয় ছিল রাজাকার, বর্তমান ধর্ষণকারীদের পরিচয় কি?’, ‘যে ইজ্জতের দামে স্বাধীনতা পেলাম, সে ইজ্জতগুলো যদি দেশের কুলাঙ্গারগুলা কেড়ে নেয়, তাহলে স্বাধীনতার মানে কী?’ ‘পাশবিকতার দণ্ড চাই, নির্মমতার বিচার চাই’ প্রভৃতি লেখা সংবলিত প্লেকার্ড এ সময় দেখা যায়। মানববন্ধন শেষে এক সংপ্তি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে বক্তব্য রাখেন- বাংলা বিভাগের শিার্থী মাহমুদুল হাসান লিটন, রাসেল সরকার, উজ্জ্বল দাশ ছিনু, লোকপ্রশাসন বিভাগের সুভা ঘোষ, পলিটিকাল স্টাডিজ বিভাগের শাহরিয়ার স্বপন প্রমুখ। বক্তারা বলেন, ধর্ষকের কোনো দল নেই। সে যেই হোক না কেন, তাকে সর্বোচ্চ শাস্তির আওতায় আনতে হবে। বিচারহীনতার সংস্কৃতির কারণে দেশে দিন দিন ধর্ষণের পরিমাণ বেড়েই চলছে। ধর্ষণ সংক্রান্ত পরিবর্তন এখন সময়ের দাবি। আইন পরিবর্তন করে ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড প্রণয়ন করলে ধর্ষণ অনেকটা কমে যাবে।

ধর্ষণ-নির্যাতনের প্রতিবাদে রাজশাহীতে রাজপথে ছাত্র-জনতার অবস্থান, বিােভ :
ধর্ষণকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়ে রাজশাহীতে মানববন্ধন, বিােভ ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে বিভিন্ন শিাপ্রতিষ্ঠানের শিার্থীরা। এই কর্মসূচিতে একাত্মতা প্রকাশ করে বিভিন্ন শ্রেণীর-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে নগরীর সাহেববাজার জিরো পয়েন্টে এই আয়োজন করা হয়। এতে শিক-শিার্থী, বিভিন্ন কর্মজীবী মানুষ বক্তব্য দেন।

মানববন্ধন, বিােভ ও অবস্থান কর্মসূচি থেকে দাবি জানানো হয়, দেশের সব ধর্ষণের বিচার দ্রুত করতে হবে। বিচারহীনতার কারণে ধর্ষণ বেড়েই চলেছে। ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের ঘটনাগুলোকে দ্রুত বিচারের আওতায় আনতে হবে। এজন্য সংসদে প্রয়োজনীয় আইন সংশোধন করে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। এছাড়া শিার্থীরা বিভিন্ন শ্লোগান সম্বলিত ব্যানার ও ফেস্টুন নিয়ে এই কর্মসূচি অংশগ্রহণ করেন। তাদের ব্যানার ও ফেস্টুনে লেখাছিলো- ‘আমার সোনার বাংলায়, ধর্ষকের ঠাঁই নাই। নো রেপ, নিরাপদে থাকুক সকল মা-বোন, বন্ধ হোক ধর্ষণ।
ধর্ষণ, নারী নির্যাতনের প্রতিবাদে বরিশালে রাজপথে ছাত্র-জনতা:
অব্যাহত হারে বৃদ্ধি পাওয়া ধর্ষণ, গণধর্ষন, নারীর প্রতি সহিংসতাসহ সকল প্রকার সামাজিক অনাচারের বিরুদ্ধে বরিশালে গণ অবস্থান ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। সাধারণ শিার্থীদের আয়োজনে গতকাল মঙ্গলবার বেলা ১১ টায় নগরের অশ্বিনী কুমার হলের সমানের সড়কে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। কর্মসূচিতে একাত্মতা প্রকাশ করে অংশগ্রহণ করেন সামাজিক প্রতিরোধ কমিটি, নারী নির্যাতন প্রতিরোধ জোট ও ব্লাস্ট বরিশাল ইউনিটের নেতৃবৃন্দ। পরাধীন বাংলায় বিরাঙ্গনা হয়েছি, তাই বলে ধর্ষিতা কেন এমন প্রশ্ন কর্মসূচিতে শিশু শিার্থীরা তাদের বক্তব্যে বলেন, আইন যেখানে সীমাবদ্ধ, ধর্ষণ সেখানে চলমান আর তাই মুক্তিটাও সেখানে অসম্ভব। বঙ্গবন্ধুর সোনার এই বাংলায় ধর্ষকদের ঠাই হবে না, ধর্ষণকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসি নিশ্চিত করতে হবে। আর যেহেতু ধর্ষককে ফাঁসি দিচ্ছেন না, তাহলে ধর্ষিতাকেই ফাঁসি দিন এদেশে জন্মাবার দোষে। বক্তারা বলেন, স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় আমাদের মা বোনেরা ধর্ষণের শিকার হয়েছিল তখন আমরা পরাধীন ছিলাম। কিন্তু স্বাধীন বাংলাদেশে ধর্ষণ করে পাড় পেয়ে যাওয়া এটা বিচারহীনতার কথা মনে করিয়ে দেয়। আমরা চাচ্ছি, ধর্ষণের বিরুদ্ধে কঠোর পদপে নেয়া হোক। এই কর্মসূচিতে বরিশালের বিভিন্ন কলেজের শিার্থীরা অংশ নেয়। এদিকে নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে বিবস্ত্র করে বর্বরোচিত নারী নির্যাতন এবং সাম্প্রতিক বিভিন্ন গণধর্ষণ, ধর্ষণ ও নারী নির্যাতন- নিপীড়ণের প্রতিবাদে ছাত্র-জনতার সম্মিলিত বিােভ কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। বরিশাল প্রেসকাবের সামনে গতকাল মঙ্গলবার বেলা ১১ টায় এ কর্মসূচির আয়োজন করে বাংলাদেশ ছাত্র ও যুব অধিকার পরিষদ বরিশাল শাখা।

ধর্ষকদের ফাঁসির দাবিতে ভোলায় রাজপথে শিার্থীরা :

নোয়াখালীসহ সারা দেশে নারী নির্যাতন এবং ধর্ষকদের ফাঁসির দাবিতে ভোলা প্রেসকাবের সামনে মানববন্ধন ও বিােভ সমাবেশ করেছেন শিার্থীরা। কলেজে সাধারণ শিার্থীদের ব্যানারে মঙ্গলবার বেলা ১১টায় এই মানববন্ধন শুরু হয়। শিার্থীরা ধর্ষণের একমাত্র শাস্তি মৃত্যুদণ্ড ও দ্রুত ট্রাইব্যুনালে এর বিচার দাবি করেন। তাদের দাবি, এভাবে ধর্ষণ ও নির্যাতনের ঘটনা যদি অব্যাহত থাকে, তা হলে দেশে সামাজিক অবস্থা ভেঙে পড়বে। এমন পরিস্থিতি চলতে দেয়া যায় না। এ সময় আলোচনায় বক্তব্য রাখেন সচেতন নাগরিক সমাজের সম্পাদক মো. সফিকুল ইসলাম, জেলা ক্রীড়া সংস্থার সম্পাদক ইয়ারুল আলম লিটন, সাংবাদিক মেজবাহ উদ্দিন শিপু, শিার্থীদের মধ্যে মেহেদী হাসান, তাহসিন, মনিরা বেগম, নূরে-আনজুম।

ধর্ষণের বিরুদ্ধে টাঙ্গাইল শহীদ মিনারে বিথীর সাহসী প্রতিবাদ:
সিলেট ও নোয়াখালীসহ দেশজুড়ে অব্যাহত ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের প্রতিবাদে টাঙ্গাইল শহীদ মিনারে বিভিন্ন ধরনের লেখা সম্বলিত ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ড নিয়ে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছে কলেজ শিার্থী ফাতেমা রহমান বিথী। সকাল নয়টা থেকে শুরু হওয়া এ অবস্থান কর্মসূচি বিকেল ৫টা পর্যন্ত চলবে বলে জানিয়েছেন তিনি। তার সাথে একাত্মতা প্রকাশ করে শহীদ মিনারে উপস্থিত হয়েছেন শতাধিক শিার্থী। এদিকে ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের প্রতিবাদে প্রেসকাবের সামনে থেকে একটি মিছিল বের করে সাধারণ শিার্থীরা। মিছিলটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদণি শেষে শহীদ মিনার চত্বরে এসে শেষ হয়।
ধর্ষণের প্রতিবাদে উত্তাল রংপুর :
সারাদেশে নারী ধর্ষণ, নিপীড়ন, সহিংসতা বন্ধ, নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে গৃহবধূকে বিবস্ত্র করে নির্যাতনসহ এবং ধর্ষকদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে রংপুর নগরী উত্তাল হয়ে উঠেছে। মঙ্গলবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত বৃষ্টি উপো করে রংপুর প্রেসকাবের সামনে ‘ধর্ষণ ও নিপীড়ন বিরোধী ছাত্র-জনতা’ ও সর্বস্তরের সাধারণ শিার্থী’র ব্যানারে পৃথক ভাবে এই কর্মসূচি পালন করা হয়। একই দাবিতে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে মানববন্ধন সমাবেশ করেছে বহ্নিশিখা ও গ্রীণ ভয়েসসহ বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। প্রায় ৪ ঘণ্টাব্যাপী চলা এই প্রতিবাদ কর্মসূচিতে বক্তারা ধর্ষকদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে সরকার প্রধানের প্রতি আহ্বান জানান। বক্তারা বলেন, সিলেটের এমসি কলেজে স্বামীকে আটকে রেখে গৃহবধূকে গণধর্ষণের পর নোয়াখালীতে গৃহবধূকে বিবস্ত্র করে নির্যাতন। এভাবে একের পর এক ধর্ষণ ও নারীর প্রতি নিপীড়ন, নির্যাতন বেড়েই চলছে। বিচারহীনতার সংস্কৃতি ও আইনি প্রক্রিয়ার দীর্ঘ সূত্রতার কারণে নারীরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল গঠন করে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিতে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করতে হবে। প্রেসকাব চত্বরে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে রংপুর জিলা স্কুল, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় ও কারমাইকেল কলেজের শিার্থীরা ও গণজাগরণ মঞ্চ, জাগো রংপুর, জনতার রংপুর, ছাত্র অধিকার পরিষদ, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ, কারমাইকেল কাইজেলিয়া শিা-সংস্কৃতি সংসদ, আমরাই পাশে রংপুর, সেবক বন্ধু স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনসহ ২৫টির বেশি সামাজিক সাংস্কৃতিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন কর্মসূচিতে অংশ নেন। এতে বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের রংপুর জেলা আহ্বায়ক হানিফ খান সজিব, যুগ্ম আহ্বায়ক ইমরান আহমেদ চাঁদ, ইমরান কবীর, সদস্য শাহ্ আলম, ইয়াসির আরাফাত প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। এছাড়াও রংপুর জেলার বিভিন্ন উপজেলাতেও থর্ষণ ও নারী নিয়াতন বিরোধী কর্মসূচি পালিত হয়।
ধর্ষণের প্রতিবাদে যশোরের রাজপথে জনতা :
শব্যাপী নারী ও শিশুর প্রতি অব্যাহত সহিংসতা, হত্যা, নির্যাতন, ধর্ষণ ও গণধর্ষণ বন্ধ এবং অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে যশোরে মানববন্ধন হয়েছে। সকালে প্রেসকাবের সামনে মানববন্ধনের আয়োজন করে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ যশোর জেলা শাখা। পরে মিছিল সহকারে যশোর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন যশোরের বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। এ সময় বক্তারা বলেন, সারা দেশে সংঘটিত নারীর প্রতি অব্যাহত সহিংসতা, নারী হত্যা, নির্যাতন বন্ধে অবিলম্বে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করে জড়িতদের অর্থাৎ ধর্ষকের একমাত্র শাস্তি মৃত্যুদণ্ড এবং তা দ্রুততম সময়ের মধ্যে কার্যকর করতে হবে। একই সঙ্গে দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠী নারী সমাজের সামগ্রিক নিরাপত্তা বিধানে সরকারকে ব্যবস্থা নিতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *