দেশ আজ নারী-শিশু ধর্ষণের রাষ্ট্রে পরিচিতি পেয়েছে: হাফিজ

নিউজ দর্পণ, ঢাকা: বিশ্ববাসীর কাছে বাংলাদেশ এখন নারী ও শিশু ধর্ষণের রাষ্ট্র হিসেবে পরিচিত পেয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মেজর অবসরপ্রাপ্ত হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীরবিক্রম।

আজ রোববার জাতীয় প্রেসকাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হক হলে কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান জেনারেল মোহাম্মদ ইব্রাহিমের জন্মবার্ষিকী উপলে ফুলেল শুভেচ্ছা বিনিময় সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

মেজর হাফিজ বলেন, এখন পত্রিকা খুলবেন এবং দেখতে পারবেন ধর্ষণের পর ধর্ষণ। এটি চালিয়ে যাচ্ছে সোনার ছেলেরা (ছাত্রলীগ)। দেশের প্রতিটি অঞ্চলে এরা ধর্ষণসহ নানা ধরনের অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে। কেয়ামত পর্যন্ত কি তাদের (ভারতের) ঋণ শোধ করতে হবে- এমন প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, ‘৭১’র সময় প্রতিবেশী দেশ আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছে। আমরা অবশ্যই তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ এবং ঋণী। কিন্তু এখন যা পরিস্থিতি, তাতে মনে হয় কিয়ামত পর্যন্ত দিলেও তাদের সে ঋণ শোধ হবে না। দেশের প্রবৃদ্ধির পথে প্রতিবেশী রাষ্ট্র এখন যেন বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তিনি বলেন, রাজনীতিতে এখন মেধাবীদের স্থান নেই, সেহেতু দুই নম্বর লোকের সমাবেশ হয়েছে। বাংলাদেশের রাজনীতিকে আজকে একটি মরুভূমির সঙ্গে তুলনা করা যায়। বাংলাদেশ যেন একটি মরুভূমিতে পরিণত হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ‘৭১ সালে যুবক তরুণরা মাথা উঁচু করে যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছে। আমরা আশা রাখি সেই যুবকরাই আবার দেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনবে। এই আধিপত্যবাদের অবসান ঘটাবে। যে লটি সামনে রেখে আমরা মুক্তিযুদ্ধ করেছি, ইনশাআল্লাহ একদিন সে স্বপ্ন পূরণ হবে।’

সভায় নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ‘ওরা (সরকার) আমাদের কথা বলাকে ভয় পায়। এটা স্বাভাবিক। কিন্তু কথা বলা কিভাবে ঠেকাবে? বোঝে না বলেই মূর্খেরা এভাবে বাধা প্রদান করে। কিন্তু কথাকে কিভাবে দমিয়ে রাখবে তারা!

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, ‘বাংলাদেশের সবাই এখন মুক্তিযোদ্ধা। যারা ৭১ সালের যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছেন তারা মুক্তিযোদ্ধা। মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় রাজাকারদের নাম দেওয়ার বিরুদ্ধে যারা লড়াই করছেন তারাও মুক্তিযোদ্ধা।

তিনি বলেন, ‘আমার অদ্ভুত এক দেশে বাস করছি। মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা করলেন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। সেই মন্ত্রণায় এখন রাজাকারদের পৃষ্ঠপোষকতা করছে।’

যুবদলের সাবেক এই সভাপতি বলেন, লোহার শেকল দিয়ে গুলশানে বেগম খালেদা জিয়াকে বন্দি করে রেখেছে আর গণভবনে সোনার শেকল দিয়ে শেখ হাসিনাকে বন্দি করে রেখেছে। শেকল এর মধ্যে একটি পার্থক্য আছে সোনা এবং লোহার। বন্দি পাখির শেকল খুলে দিয়ে খাঁচায় বন্দি করে রাখলে সে মুক্ত হয় না। সেখানে মানবতা থাকে না। বেগম খালেদা জিয়ার পায়ের শিকল খুলে দিয়েছেন। কিন্তু খাঁচা থেকে বের হতে দেন নাই এটা কোন মহানুভবতার মধ্যে পড়ে না। এটা একটি রাজনৈতিক অপকৌশল, ভ্রষ্ট নীতি, নষ্ট নীতি।

তিনি বলেন, চেতনা আর উন্নয়ন এমন হওয়া হয়েছে যে কালকেও দেখলাম মুন্সীগঞ্জের ৭২ বছরের এক বৃদ্ধা ওজু করতে গিয়েছিলেন। ওজু করে ফেরার পথে তাকে ধর্ষণ করা হয়েছে। ধর্ষণকারী সে কীর্তিমান পুরুষটা হচ্ছে স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতা। সব জায়গায় যেখানে হাত দিবেন সেখানে আওয়ামী লীগ। এত বাড়ন্ত হয়েছে এদের, এত বাম্পার ফলন হয়েছে এদের। এদের চেতনার বাম্পার ফলনের যন্ত্রণায় মা-বোনেরা কেউ নিরাপদ থাকতে পারছে না। টাকা লুটপাট থেকে শুরু করে, অর্থনৈতিক লুটপাট, দেশের সার্বভৌমত্ব একটা চরম ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দেওয়া হয়েছে। জাতীয় মতের ঐক্য ছাড়া এর থেকে বেরোনোর কোন উপায় নেই।

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল অবসরপ্রাপ্ত সৈয়দ মোহাম্মদ ইব্রাহিম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর প্রমুখ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *