ত্রিপুরায় সহিংসতায় নিহত ২, আহত ২৩

নিউজ দর্পণ ডেস্ক : ব্রু শরণার্থী বিরোধী গোষ্ঠী ও পুলিশের সাথে সংঘর্ষে উত্তপ্ত ভারতের ত্রিপুরা। ওই সহিংসতায় এখনও পর্যন্ত ২ জন নিহত হয়েছে, আহতের সংখ্যা কমপক্ষে ২৩। এর মধ্যে ৫ জনের অবস্থা সঙ্কটজনক।

জানা গেছে ত্রিপুরায় ব্রু শরণার্থীদের পুনর্বাসন দেওয়ার বিরোধিতা করে একটি গোষ্ঠী গত সোমবার (১৬ নভেম্বর) থেকেই উত্তর ত্রিপুরার একাধিক জায়গায় প্রতিবাদে সামিল হয়। সরকারি কার্যালয়, মার্কেট-এর সামনে বিক্ষোভ দেখানোর পাশপাশি মিছিল, মিটিং’এ অংশ নেয় ১০ হাজারের বেশি মানুষ। শনিবারও উত্তর ত্রিপুরার পানিসাগরে বিক্ষোভ দেখাতে থাকে কয়েক শতাধিক বিক্ষোভকারী। প্রায় চার ঘণ্টা ধরে ৮ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধ করে রাখা হয়। সেসময় ঘটনাস্থলে পুলিশ আসলে তাদেরকে লক্ষ্য করে বিক্ষোভকারীরা পাথর-ইঁট নিক্ষেপ করা হয় বলে অভিযোগ। বিক্ষোভকারীদের হাতে আক্রান্ত হয় পুলিশ। এসময় তাদের নিরস্ত্র করতে পুলিশ আচমকাই গুলি চালালে পরিস্থিতি রণক্ষেত্র হয়ে ওঠে। ওই সংঘর্ষে শনিবারই ৪৫ বছর বয়সী শ্রীকান্ত দাস নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়। রবিবার নিহতের সংখ্যা বেড়ে হয় ২। তাতে মৃত্যু হয় ৪০ বছর বয়সী পেশায় ফায়ার সার্ভিসের সদস্য বিশ্বজিত দেববর্মা।

ওই ঘটনার পরই ম্যাজিস্ট্রেট পর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে রাজ্য সরকার। সেইসাথে উত্তর ত্রিপুরায় বড় জমায়েতও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বিক্ষোভরত অবস্থায় নিহত ব্যক্তির পরিবারকে আর্থিক ক্ষতিপূরণেরও ঘোষনা দিয়েছে রাজ্য সরকার।

উল্লেখ্য, ১৯৯৭ সালে জাতিগত সংঘর্ষের ফলে কয়েক হাজার ব্রু শরণার্থী মিজোরাম ছেড়ে ত্রিপরায় পালিয়ে আসে। সেই থেকেই ত্রিপুরার কাঞ্চনপুর ও পানিসাগর মহুকুমার কয়েকটি ত্রাণ শিবিরেই আশ্রয় নিয়ে আছে। কিন্তু ত্রিপুরাতেই স্থায়ী ভাবে বসবাসের জন্য ব্রু শরণার্থীদের দীর্ঘদিনের দাবি মেনে চলতি বছরের জানুয়ারীতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, ত্রিপুরা রাজ্য সরকার ও মিজোরাম রাজ্য সরকারের মধ্যে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। যদিও সরকারের ওই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে স্থানীয়রা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *