ত্রাণ না পেয়ে কষ্টে আছেন আম্পানে ক্ষতিগ্রস্তদরা

নিউজ দর্পণ খুলনা : খুলনার কয়রায় ঘূর্ণিঝড় আম্পানে বেড়িবাঁধ ভেঙে লোনাপানিতে বন্দি অবস্থায় কর্মহীন দিন কাটছে অনেক মানুষের। এখনো ত্রাণনির্ভর জীবন কাটাচ্ছেন তারা। কিন্তু পর্যাপ্ত ত্রাণ না পাওয়ায় বেশ কষ্টে আছেন প্রত্যন্ত অঞ্চলের এসব মানুষ।

”সরকারেও তেমন কিছু দেয় না, ইনজিওগুলো (এনজিও) আশা পাশা দেয় কিন্তু আমাদের কিছু দেয় না। এই ভিতরে আর আসে না।” ত্রাণ না পেয়ে কষ্টে থাকা একজন অসহায় নারী এভাবেই ত্রাণ না পাওয়ার অভিযোগ করেন।

ঘূর্ণিঝড় আম্পানে খুলনার কয়রাবাসীর জীবনে রেখে গেছে অনেক ক্ষত চিহ্ন। তিন মাসেও স্বাভাবিক হয়নি তাদের জীবন। কৃষির পাশাপাশি মাছের ব্যাপক ক্ষতি হওয়ায় এই অঞ্চলে এখন কর্মহীন অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন সাড়ে আট হাজার মানুষ।

লোনা পানিতে বন্দি অবস্থায় থাকা এসব গৃহহারা মানুষ এখন তাকিয়ে থাকেন সরকারি-বেসরকারি ত্রাণ সহায়তার দিকে। তবে ত্রাণসামগ্রী নদী তীরবর্তী এলাকার মানুষের কাছে পৌঁছলেও প্রত্যন্ত এলাকার লোকজন ত্রাণবঞ্চিতই থেকে যাচ্ছে। আর পেলেও তা যথেষ্ট নয়।করোনা মহামারির কারণে ত্রাণ তহবিল কমে যাওয়ায় বেসরকারি সংস্থাগুলোর কাছ থেকে কম সহায়তা পাচ্ছেন ক্ষতিগ্রস্তরা।

সাতক্ষীরা এনজিও ‘লিডার’এর প্রধান নির্বাহী মোহন কুমার মন্ডল বলেন, ’করোনা মহামারীর কারণে এনজিওগুলো তেমন ফান্ড পাচ্ছে না। করোনার জন্যেই পর্যাপ্ত ত্রাণ পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয়নি।’

স্থানীয় সংসদ সদস্য আখতারুজ্জামান বাবু বলেন, ’ব্যক্তিগত ও সরকারি সহায়তা ঠিকভাবেই পৌঁছে দেয়া হচ্ছে সব এলাকায়। যদি কেউ পাইনাই এমন খবর পাওয়া যায় তবে সাথে সাথে স্থানীয় প্রশাসন দিয়ে ত্রাণ পাঠিয়ে দিচ্ছি।’

আম্পান পরবর্তী সময়ে বৈরী পরিবেশে টিকে থাকার জন্য কর্মহীন মানুষের কাছে ঠিকভাবে ত্রাণ পৌঁছে দিতে প্রশাসন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে এমন প্রত্যাশা কয়রাবাসীর।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *