জিয়ার বিরুদ্ধে কুৎসা রটনা করে সরকার জনগণকে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা করছে: নজরুল

নিউজ দর্পণ, ঢাকা: শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের বিরুদ্ধে কুৎসা রটনার করে সরকার জনগণকে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান।

আজ শনিবার দুপুরে এক মানববন্ধনে তিনি এই অভিযোগ করেন। নয়া পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে জাতীয়তাবাদী যুবদলের উদ্যোগে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের বিরুদ্ধে কুতসা রটনার প্রতিবাদে এই মানবন্ধনে হয়। এতে সহসাধ্রিক নেতা-কর্মী রাস্তার এক পাশে ব্যানার নিয়ে দাঁড়িয়ে মানবন্ধনে প্রতিবাদ জানায়।

নজরুল ইসলাম বলেন, রাজনীতির নামে এই ধরনের নোংরা বিষোধগার, নোংরা আচরণ মানুষকে রাজনীতি সম্পর্কে ভীতি সন্ত্রস্ত করে তু্ল।ে জনগনকে বিভ্রান্ত করতে সরকার এই অপচেষ্টা করছে। তাদেরকে বলতে হবে এই অপচেষ্টায় কোনো লাভ নাই। তাদের চেয়ে বহু বড় বড় নেত্রীরা, তাদের চেয়ে বড় বড় নেতারা দিনের পর দিন, মাসের পর মাস, বছরের পর বছর শহীদ জিয়া, বেগম খালেদা জিয়া, তারেক রহমানের বিরুদ্ধে নানা অপপ্রচার চালিয়ে আসছেন। কোনো লাভ হয় নাই। জনগন তাদের কথা বিশ্বাস করে নাই।

তিনি বলেন, দেশে যে হারে নারী নির্যাতন চলছে। আইন ও সালিশ কেন্দ্র বলেছে, ৯ মাসে প্রায় এক হাজার নারী ধর্ষিতা হয়েছে।নিজের মা-বোনদেরকে ধর্ষণ থেকে রা করতে পারেন না, রাষ্ট্রের সম্পদ রা করতে পারেন না, শেয়ার মার্কেট লুট হয়ে যায়, সুইস ব্যাংকে হাজার হাজার কোটি টাকা পাঁচার হয়ে যায়, রাষ্ট্রয়াত্ব ব্যাংক লুট হয়ে যায়, বাংলাদেশ ব্যাংক পর্যন্ত লুট হয়ে যায়, নারী-শিশু লাঞ্ছিত হয়, রাস্তাঘাটে মানুষের লাশ পড়ে থাকে। আর আপনারা মনে করেন আপনারা ভালো আছেন। যে কাজ করছেন তাতে আপনারা লজ্জিত হন, আপনাদের লজ্জিত হওয়া উচিত। আগে নিজের ঘর সামলান, জনগনের কাছে কাছে মা প্রার্থনা করেন।
ইনডেমনিটি অডিন্যান্স জারির সঙ্গে জিয়াউর রহমানের কোনো সম্পর্ক নেই দাবি করে তিনি বলেন, জনগণকে বিভ্রান্ত করার এই অপচেষ্টা বন্ধ করুন, মিথ্যা অভিযোগ দেয়ার অপচেষ্টা বন্ধ করুন। মনে রাখবেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এদেশের ক্রান্তিকালে ত্রাণকর্তা হিসেবে জনগণের হৃদয়ে ছড়িয়ে আছেন, সেখান থেকে নামানোর মতা আপনাদের নাই। কারণ আপনাদের ইতিহাস অসংখ্য কলঙ্কে জর্জরিত। আপনারাই জরুরী অবস্থার আইন করেছেন, আপনারাই দেশের জন্য জরুরী অবস্থা জারি করেছেন, আপনাদের সময়ে দুর্ভি হয়েছে, আপনারাই গণতন্ত্র জবাই করেছেন, আপনারাই ইউনডেমনিটি আইন করেছেন, আপনরাই রীবাহিনী অত্যাচারে বহু লোককে হত্যা করেছেন, আপনাদের অনেক অপরাধ। আমরা দেশটাকে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে দেখতে চাই।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, এই সরকার নিজেই একটা নাটকবাজ সরকার। প্রধানমন্ত্রী যখন উন্নয়নের কথা বলে, জনগন বলে এটা উন্নয়ন না এটি একটি নাটক, প্রধানমন্ত্রী যখন কোনো কারণে ইন্সট্যান্ট কাঁদেন, তখন মানুষ মনে করে এটি একটি নাটক, প্রধান মন্ত্রী যখন একটি প্রতিশ্রুতি দেন জনগন মনে করে এটি একটি নাটক। এখন তার ফুরফুরে হাওয়া, তার হালুয়া-রুটির সামান্য অংশ পাওয়ার জন্য যারা আমাদের মুক্তিযুদ্ধের একজন বিশাল বীরের বিরুদ্ধে যখন কলঙ্ক লেপন করেন সেটাও আবার বড় নাট্যকার নয়, বটতলার নাট্যকারকে দিয়ে সরকার ইনডেমনিটি নাটক বানিয়েছেন। ওরা জানে না, বাংলার মাটি চৈত্র্ মাসে কঠিন রুপ ধারণ করে। ওই মাটি যখন আপনাদের দিকে নিপ্তি করবে জনগন, তখন আপনারা আর কোন জায়গায় আশ্রয় পাবেন না। মনে রাখবে, এই অন্যায়কে মানুষ গ্রহন করবে না।

তিনি বলেন, যেখানে সম্ভ্রমহানি নারীর সেখানে ছাত্রলীগ, যেখানে নারীর ওপর নির্যাতন সেখান ছাত্রলীগ। শুধু এমসি কলেজ নয়, গতকালও উত্তরায় ঘটেছে সেখানে ছাত্র লীগ নেতা। চারিদিকে কলঙ্কের বোঝা, চারিদিকে মানুষ ঝি ঝি করছে। এটা আড়াল করার জন্য তারা তাদের অনুগত কিছু মুসাহেব দিয়ে একটা চটি নাটকে বই, বস্তা পঁচা নাটক তৈরি কেের্ছ। যাতে এমসি কলেজের সেই ভয়ংকর নির্যাতনের কাহিনী সেটা যেন ঢাকা পড়ে, চারিদিকে যে নারীর সম্ভমহানি চলছে সেটা যেন ঢাকা পড়ে। শেখ হাসিনা আপনি মুখ রা করবেন কি করে? আওয়ামী লীগ মতায় থাকলে কারো কোনো নিরাপত্তা থাকবে না।

জাতীয়তাবাদী যুবদলের সভাপতি সাইফুল আলম নিরবের সভাপতিত্বে ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়নের পরিচালনায় মানববন্ধনে আরো বক্তব্য রাখেন, জাতীয়তাবাদী যুবদলের সিনিয়র সহ সভাপতি মোরতাজুল করীম বাদরু, সহ সভাপতি আবদুল খালেক, আলী আকবর চুন্নী, ঢাকা মহানগর যুবদল উত্তরের সভাপতি এসএম জাহাঙ্গীর, সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম মিল্টন, ঢাকা মহানগর যুবদল দক্ষিনের সভাপতি রফিকুল ইসলাম মজনু, সাধারণ সম্পাদক গোলাম মাওলা শাহীন প্রমুখ। এছাড়াও ঢাকা মহানগর যুবদল উত্তরের সিনিয়র সহ-সভাপতি রিয়াদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শরীফ উদ্দিন জুয়েলসহ কয়েক হাজার নেতাকর্মী মানবন্ধনে উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *