জামিনের পর অভিভাবকের জিম্মায় সেই চার শিশু

নিউজ দর্পণ, ঢাকা: বরিশালের বাকেরগঞ্জে ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেফতার করে যশোর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানো চার শিশুকে বাড়িতে পৌঁছে দেয়া হয়েছে। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে সকাল থেকে উৎসুক জনতা এক নজর দেখার জন্য ভিড় করছেন ওই চার শিশুর বাড়িতে।

আজ শুক্রবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ওই শিশুদের যশোর থেকে একটি মাইক্রোবাসে করে বাকেরগঞ্জ উপজেলার রঙ্গশ্রী ইউনিয়নের রুনশী গ্রামে তাদের বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। এরপর ওই চার শিশুকে তাদের বাবা-মায়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এ সময় সন্তানদের ফিরে পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন তাদের বাবা-মা।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার রাতে বাকেরগঞ্জ থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে ধর্ষণের অভিযোগে ওই চার শিশুকে আসামি করে মামলা করেন স্থানীয় এক ব্যক্তি।

মামলায় ওই ব্যক্তি অভিযোগ করেন, রোববার বিকেলে খেলার কথা বলে বাড়ির পাশের বাগানে নিয়ে তার ৬ বছরের মেয়েকে ধর্ষণ করা হয়। এক শিশু তার মেয়েকে ধর্ষণ করে। ধর্ষণে সহায়তা করে অন্য তিন শিশু।

সোমবার রাতে তার মেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়লে মঙ্গলবার সকালে তাকে নিয়ে বাকেরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যান। সেখান থেকে পরে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। এরপর রাতে ওই ব্যক্তি থানায় মামলা করেন।

ওই রাতেই পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত চার শিশুকে গ্রেফতার করে। বুধবার দুপুরে তাদের আদালতে সোপর্দ করা হয়। বিকেলে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মো. এনায়েতউল্লাহ ওই চার শিশুকে যশোর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

মামলার এজহারে বাদী অভিযুক্ত চার শিশুর বয়স ১০ থেকে ১১ বছর উল্লেখ করেন। তবে স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি জানান অভিযুক্ত চার শিশুর বয়স ৭ থেকে ৯ বছরে বেশি হবে না।

এ নিয়ে গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশ হলে বিষয়টি উচ্চ আদালতের নজরে আসে। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) রাত ৯টার পর হাইকোর্টের বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি মহিউদ্দিন শামীমের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ স্বপ্রণোদিত হয়ে যশোর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে থাকা ওই চার শিশুকে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত মাইক্রোবাসে করে বৃহস্পতিবার রাতের মধ্যে তাদের অভিভাবকদের কাছে পৌঁছে দেয়ার নির্দেশ দেন।

একইসঙ্গে বরিশালের সংশ্লিষ্ট সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটকে তলব করেন হাইকোর্ট। আগামী রোববার (১১ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টায় সশরীরে তাকে উপস্থিত হওয়ার জন্য বলা হয়েছে।

এছাড়া বাকেরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) ওই চার শিশু ও তাদের অভিভাবকসহ একই তারিখে উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি বরিশাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালককে আগামী রোববার ভিকটিম শিশুর ধর্ষণ সংক্রান্ত মেডিকেল রিপোর্ট হাইকোর্টের এই বেঞ্চে প্রতিবেদন আকারে জমা দিতে বলেছেন আদালত।

সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের স্পেশাল অফিসার মোহাম্মদ সাইফুর রহমান জানান, হাইকোর্টের সকল নির্দেশনা বরিশালের শিশু আদালতের বিচারক, জেলা প্রশাসক, যশোর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রের কর্তৃপ, বরিশাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপ, চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, সংশ্লিষ্ট সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও বাকেরগঞ্জের ওসিকে টেলিফোনে রাতেই অবগত করা হয়। ওই আদেশ পেয়ে বরিশালের শিশু আদালত রাতেই ওই চার শিশুকে জামিন দেন।

বাকেরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মাধবী রায় জানান, যশোর থেকে একটি মাইক্রোবাসে করে সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ওই চার শিশুকে বাকেরগঞ্জ উপজেলার রঙ্গশ্রী ইউনিয়নের রুনশী গ্রামে তাদের বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। এরপর তাদের বাবা-মায়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

শিশুদের অভিভাবকরা জানান, সন্তানদের ফিরে পেয়ে আমরা অসম্ভব খুশি। সন্তানদের চিন্তায় তিন দিন নির্ঘুম রাত কাটেছে। এত তাড়াতাড়ি তারা বন্দিদশা থেকে মুক্তি পাবে এটা কখনো ভাবিনি। ওদের ফিরে পাওয়ার অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *