জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষ্যে বিএনপির কর্মসূচি ঘোষণা

নিউজ দর্পণ, ঢাকা: আগামী ৭ নভেম্বর ঐতিহাসিক জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষ্যে পাঁচ দফা কমসূচি গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি।
আজ মঙ্গলবার দুপুরে নয়া পল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় দফতরের চলতি দায়িত্বে থাকা সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স এ কর্মসূচি গ্রহণ করেন।
কর্মসূচিগুলো হলো :
১। ৭ নভেম্বর মহান জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে সকাল ৬ টায় নয়াপল্টনস্থ বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ সারাদেশে দলীয় কার্যালয়গুলোতে দলীয় প্রতাকা উত্তোলন করা হবে।
২। ৭ নভেম্বর সকাল ১১টায় বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমান বীর উত্তম এর মাজারে বিএনপি’র পক্ষ থেকে দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্যবৃন্দের পুস্পস্তবক অর্পণ ও দোয়া।
৩। করোনা পরিস্থিতির কারণে সীমিত আকারে স্বাস্থ্যবিধি মেনে দুপুর ১২টায় বিএনপি-ঢাকা মহানগর দক্ষিণ, ১২টা ১৫ মিনিটে বিএনপি-ঢাকা মহানগর উত্তর এবং ১২টা ৩০ মিনিটে অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন সমূহ শহীদ জিয়ার মাজারে পুস্পার্ঘ অর্পণ ও ফাতেহা পাঠ করবে।
৪। বেলা ৩টায় জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষ্যে ভার্চুয়াল আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে।
৫। অনুরুপভাবে দেশব্যাপী জেলা, মহানগর ও উপজেলা বিএনপি’র উদ্যোগে নিজ নিজ সুবিধানুযায়ী যথাযোগ্য মর্যাদায় ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভাসহ অন্যান্য কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে।
এসময় এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, ৭ নভেম্বর জাতীয় জীবনের এক ঐতিহাসিক দিন। ১৯৭৫ সালের এই দিনে সৈনিক-জনতা রাজপথে নেমে এসেছিলো জাতীয় স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র রক্ষার দৃঢ় অঙ্গিকার নিয়ে। আর এ কারণেই ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক তৎপর্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বিএনপির বিরুদ্ধে মিথ্যাচার না করে করোনার দ্বিতীয় ধাপ মোকাবিলার জন্য এ বিষয়ে নজর দিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রিন্স বলেন, ‘আমরা সরকারের মন্ত্রীদের উদ্দেশ্যে বলতে চাই- বিএনপি’র বিরুদ্ধে মিথ্যাচার না করে করোনার দ্বিতীয় ধাপ মোকাবিলায় নজর দিন। প্রথম ধাপের মতো একের পর এক ভুল সিদ্ধান্ত না নিয়ে সকল রাজনৈতিক দল, বিশেষজ্ঞ, চিকিৎসকদের মতামত আমলে নিয়ে বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত নিয়ে জনগণকে রক্ষায় তাদের পাশে দাঁড়ান।’
তিনি বলেন, ‘চরম এক দুঃসময়ে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালন করতে যাচ্ছে। গণতন্ত্র, আইনের শাসন, বাক-ব্যক্তি ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতাসহ সকল মৌলিক অধিকারের পথ সংকুচিত করে চলছে স্বাধীনতা পরবর্তীকালের মতো ভয়াবহ দুঃশাসন। জনগণের কাছ থেকে দেশের মালিকানা কেড়ে নিয়ে নির্বাচন ও গণতন্ত্রকে নির্বাসনে পাঠিয়ে মাস্তানতন্ত্র কায়েম করা হয়েছে। যেখানে কোনও শ্রেণি-পেশার মানুষের জীবনের নিরাপত্তা এবং সম্মান নেই।’
তিনি বলেন, ‘ক্ষমতাসীনদের লাগামহীন ব্যর্থতা, দুর্নীতি, লুটপাট, দখল, সন্ত্রাস, অনিয়ম ও অনাচার-অবিচারের বিরুদ্ধে মুখ খুললেই বা সত্য কথা লিখলেই রাষ্ট্রীয় ও দলীয় পৃষ্ঠপোষকতায় হত্যা, গুম, অপহরণ, নির্যাতন, মামলা, গ্রেফতারসহ ভয়ভীতি প্রদর্শন চলছে।
প্রিন্স বলেন, ‘সম্প্রতি জাতিসংঘ ঘোষিত ‘সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে অপরাধের দায়মুক্তি অবসান দিবস’ পালিত হবার পরের দিন অপহৃত চট্টগ্রামের সাংবাদিক গোলাম সারোয়ারকে সীতাকুন্ডের একটি ব্রীজের নীচ থেকে গুরুতর আহত ও মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধারের সময় ধারণকৃত গোলাম সারোয়ারের যে ভিডিও ভাইরাল হয়েছে, সেখানে তিনি কান্নাজড়িত কন্ঠে বারবার বলছিলেন ‘আমাকে মাইরেন না, আমি আর নিউজ করবো না’। সাংবাদিক গোলাম সারোয়ারকে অপহরণ করা হয়েছিল পেশাগত কারণেই। অপহরণের পর সন্ত্রাসীরা তাকে নির্যাতনের সময় আর নিউজ না করার অঙ্গীকার আদায়ে বারবার চাপ দিয়েছিল। তার এই আকুতি, সংবাদ প্রকাশের জেরে সাংবাদিকদের ওপর নির্যাতন এবং স্বাধীন ও সাহসী সাংবাদিকতার কন্ঠরোধে ভয়াবহ মধ্যযুগীয় বর্বরতার বাস্তব প্রমান। গণমাধ্যমের সার্বিক বর্তমান ভয়াবহ অবস্থার প্রতিচ্ছবি ফুটে ওঠেছে সাংবাদিক গোলাম সারোয়ারের আর্তনাদে। গোলাম সারোয়াকে অপহরণ করা হয়েছিল ক্ষমতাসীন প্রভাবশালীদের জমি দখল, অনিয়ম, দুর্নীতি, নির্যাতনের বিরুদ্ধে সত্য সংবাদ প্রকাশের জন্য। এটি কোন বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এটি স্বাধীন মত প্রকাশের ওপর ক্ষমতাসীনদের দমন-পীড়নেরই ধারাবাহিকতা।’
‘সম্প্রতি পটুয়াখালীর বাউফলে স্থানীয় আওয়ামী লীগের এক নেতা কর্তৃক তার পছন্দ মতো কাজ না করায় উপজেলা কৃষি অধিদফতরের একজন কর্মকর্তাকে লাঞ্ছিত করেন। প্রতিনিয়তই দেশে এধরণের ন্যাক্কারজনক ও পেশী শক্তির ঘটনা ঘটছে। বিএনপি’র পক্ষ থেকে সাংবাদিক গোলাম সারোয়ারের ওপর নির্যাতনসহ সরকারী কর্মকর্তাদের লাঞ্ছিত করার ন্যাক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা, ধিক্কার ও প্রতিবাদ জানাই। গোলাম সারোয়ারকে অপহরণ ও নির্যাতনকারী প্রকৃত সন্ত্রাসীদের অবিলম্বে গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবি জানাচ্ছি’- যোগ করেন প্রিন্স।
বিএনপির এই নয়া মুখপাত্র বলেন, ‘সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের জন্য প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাঁর ভাষায় বিভ্রান্তিমূলক সংবাদ প্রকাশ না করতে সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। বিনয়ের সাথে বলতে চাই- ক্ষমতাসীনদের কাছে তাদের ব্যর্থতা, দুর্নীতি, লুটপাট, দখল, দমন-নিপীড়ণ, গণতন্ত্র ও জনবিরোধী কর্মকাণ্ডের সংবাদ ‘বিভ্রান্তিমূলক’ হতে পারে। কিন্তু জনগণের কাছে তা সত্য। সরকারের সর্বোচ্চ জায়গা থেকে এধরণের কথা বলে একদিকে যেমন স্বাধীন সাংবাদিকতা পেশাকে প্রচ্ছন্ন হুমকির মুখে ফেলা দেয়া হচ্ছে, পাশাপাশি মাস্তানতন্ত্রের স্টেক হোল্ডারদেরকে সত্য প্রকাশে বাধাসহ দমন-নিপীড়নে উৎসাহিত করা হচ্ছে। সাংবাদিক নির্যাতন অতীতের সকল রেকর্ড ভঙ্গ করেছে। আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আশাক) এর হিসেবে এ বছরের প্রথম ৯ মাসে রাষ্ট্রীয় ও ক্ষমতাসীন দলীয় বাহিনী দ্বারা ২০৯ জন সাংবাদিককে হুমকি, হামলা ও নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে।’
প্রিন্স আরও বলেন, ‘সম্প্রতি লালমনিরহাটের পাটগ্রামে মিথ্যা গুজব ছড়িয়ে শহীদুন্নবী জুয়েল নামে একজন নাগরিককে স্বার্থান্বেষী মহল কর্তৃক পুড়িয়ে নির্মমভাবে হত্যার ঘটনায় আমরা গভীরভাবে মর্মাহত। এই নৃশংস ঘটনায় নিন্দা জানানোর ভাষা আমাদের জানা নেই। ধর্মের নামে গুজব ছড়িয়ে ধর্মান্ধতা সৃষ্টির মাধ্যমে যারা ফায়দা লুটতে চায় তারা দেশ ও জনগণের শত্রু। ইসলাম শান্তির ধর্ম, ইসলামে এই ধরণের সন্ত্রাসী কার্যক্রম কখনোই অনুমোদন করে না। বিএনপি এই ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছে এবং অবিলম্বে এই ঘটনার সাথে জড়িত প্রকৃত অপরাধীদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *