জাতির পিতার নাম মুছে ফেলা হয়েছিল: প্রধানমন্ত্রী

নিউজ দর্পণ, ঢাকা: আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, কয়েকজন বেঈমান মুনাফিক ছাড়া এখনও বাংলার জনগণ বঙ্গবন্ধুর জন্য কাঁদে। তিনি বলেন, খুনিরা চেয়েছিল এ দেশের স্বাধীনতা যেন না থাকে, জাতীয় পতাকা যেন না থাকে। ইতিহাস বিকৃতির ন্যক্কারজনক ঘটনা আমরা দেখেছি। কিন্তু সত্যকে চাপা দিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৫তম শাহাদতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় অংশগ্রহণ (ভার্চুয়াল) করে তিনি এ কথা বলেন। গণভবন থেকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে আয়োজন করা হয় এ সভার।

অনুষ্ঠানের শুরুতেই শোকাবহ যন্ত্রসঙ্গীত পরিবেশন করা হয়। সূচনা বক্তব্য রাখেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির সমন্বয়ক ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী। এরপর বঙ্গবন্ধুর কর্মময় ও সংগ্রামী জীবনের ওপর একটি আলোকচিত্র প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে কবিতা আবৃত্তি করেন আসাদুজ্জামান নূর এমপি।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, যেদিন থেকে আমাদের বিজয় এসেছে তারপর থেকেই বোঝা যাচ্ছিল যে একটা গভীর চক্রান্ত কাজ করছিল। আমাদের এ বিষয়টা যেন আমরা ধরে রাখতে না পারি সে জন্যই তারা এ ষড়যন্ত্র করে আসছিল। জয়ের পতাকা লাখো শহীদের রক্তে রঞ্জিত উড্ডীয়মান হয়েছিল সেই পতাকা যেন না থাকে এটাই ছিল তাদের প্রচেষ্টা। জাতির পিতার নাম তো মুছে ফেলা হয়েছিল। এ নাম নেয়া যাবে না। ৭ মার্চের ভাষণ বাজানো যাবে না। স্বাধীনতার ঘোষক সৃষ্টি হলো। অর্থাৎ ইতিহাস বিকৃতির ন্যক্কারজনক ঘটনা আমরা দেখেছি। কিন্তু সত্যকে কেউ কখনো চাপা দিতে পারে না, মুছে ফেলতে পারে না- এটা প্রমাণিত। স্বাধীনতার জন্য দেয়া ডাক ৭ মার্চের ভাষণ আজ আন্তর্জাতিক প্রামাণ্য দলিলে স্থান পেয়েছে।

তিনি বলেন,বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী আমরা পালন করব। এ জন্য বিরাট আয়োজন। জাতিসংঘ আমাদের সঙ্গে যৌথভাবে এটা উদযাপন করবে। কিন্তু দুর্ভাগ্য আমাদের এই করোনাভাইরাস বিশ্বব্যাপী মানুষকে একেবারে স্থবির করে দিয়েছে। আপনাদের সঙ্গে উপস্থিত থেকে হয়তো এ সভা করতে পারতাম। কিন্তু করোনার কারণে আজ ভার্চুয়ালি করতে হচ্ছে। আজ আমরা অনলাইনে আলোচনা সভা করছি। সেটাও বলব যে, ২০০৮ সালে আমরা নির্বাচনী ইশতেহারে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তুলব বলে যে ঘোষণা দিয়েছিলাম তা বাস্তবায়ন করেছি বলেই আজ এ সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। ডিজিটাল বাংলাদেশ যদি না করতাম তাহলে আজ এই সুযোগে হয়তো হতো না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *