জাহাঙ্গীর বাহিনীর শাস্তির দাবিতে ভুক্তভোগী পরিবারের সংবাদ সম্মেলন

নিউজ দর্পণ, ঢাকা: ওয়ারেন্টভুক্ত আসামী সাংবাদিক নামধারী ভূমিদস্যু, চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসী জাহাঙ্গীর হোসেন ও তার বাহিনীকে অবিলম্বে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিয়ে নিরীহ এলাকাবাসীকে রার দাবি জানিযেছে এক ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য মো. ইব্রাহিম মিয়া। জাহাঙ্গীর হোসেনের বাড়ি টাঙ্গাইল জেলার মির্জাপুর উপজেলার কুমারজানি গ্রামে।
আজ সোমবার সকালে বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স এসোসিয়েশন (ক্র্যাব) মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব অভিযোগ করেন।

লিখিত অভিযোগে মো. ইব্রাহিম মিয়া বলেন, সাংবাদিক নামধারী ভূমিদস্যু, চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসী জাহাঙ্গীর হোসেন ও তার বাহিনীর হাতে আমরা দীর্ঘদিনযাবৎ জিম্মি। তার বাহিনীতে যারা রয়েছে তারা হলো- জাহাঙ্গীর হোসেনের পিতা মো. সিরাজ মিয়া, মহিলা কাউন্সিলর আফরোজা আলম, তার স্বামী আলম মিয়া, নুরুল ইসলামগং। তারা সন্ত্রাসী বাহিনী সিন্ডিকেট করে এলাকার নিরীহ মানুষকে জিম্মি করে অত্যাচার-নির্যাতন ও মিথ্যা মামলা দিয়ে মোটা অঙ্কের চাঁদা আদায় ও জমি জবরদখল করে চলেছে। ইতোমধ্যে জমির দালালী, প্রহসনমূলক বিচারের নামে টাকা আদায়, আদম ব্যবসা ও অবৈধ গ্যাস সংযোগের নামে নিরীহ লোকজনকে জিম্মি করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে জাহাঙ্গীর বাহিনী। এই ভূমিদস্যু ও চাঁদাবাজ জাহাঙ্গীর ও তার বাহিনীর কারো বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করলে তারা প্রাণনাশের হুমকি দেয় এবং মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করে। জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে প্রায় ডজন খানেক মামলা রয়েছে। কয়েকটি মামলার নম্বর হলো- ৭৭৭১/২০০৭, ৫৩/১৭-১৮, ১৬৯/২০১৬, সিআর নং-৩৬৯/১৮, ৩৭, ৫৩, ৫৭৮ ও নন জিআর ৩২/১৯ সহ আরো একাধিক মামলা। ইতোপূর্বে একটি মামলায় তার ৬ মাসের জেল হয় এবং ২৬৭৯ নং মামলায় জাহাঙ্গীর হোসেন ও তার বাহিনীর বিরুদ্ধে ২০১৯ সালে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি হয়। পরে তারা হাইকোর্ট থেকে জামিন নেয়। এছাড়া জাহাঙ্গীর হোসেন জাল দলিল করায় মির্জাপুর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) অফিসার মো. মঈনুল হকের কাছে ধরা পরে। রিভিউ মিস মোকদ্দমা নং ৫৩ ও নামজারী ও জমাভাগ মোকদ্দমা নং ২৭০৬ এর প্রেেিত জাল দলিলের নামজারী ও জমাভাগ মোকদ্দমাটি বাতিল করা হয়। বর্তমানে ৮২৮ নং জাল দলিলের ভিত্তিতে জাহাঙ্গীর হোসেন ও তার বাবা মো. সিরাজ মিয়া, মা মোছা. জাহিরন নেছা ও স্ত্রী মোছা. সেলিনা বেগমের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি ওয়ারেন্ট জারি করা হয়েছে। গত ৩ অক্টোবর ৪৬৮/৪৭১/৩৪ দন্ডবিধি আইনে তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি ওয়ারেন্ট জারী করা হয়। দুঃখজনক যে, জাহাঙ্গীরসহ অন্য আসামীরা প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা করলেও অদৃশ্য কারণে পুলিশ তাদের গ্রেফতার করছে না। এতে এলাকাবাসীর মনে চরম ােভ বিরাজ করছে। তিনি বলেন, জন্মলগ্ন থেকেই তারা মূলত বিএনপির সক্রিয় সদস্য ছিলেন। কিন্তু আওয়ামী লীগ মতায় আসার পর মুখোশ পাল্টে আওয়ামী লীগের নাম ব্যবহার করে এলাকায় নানা অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে। এতে এলাকায় সরকারের ভাবমূর্তি ও সুনাম ুন্ন হচ্ছে।
এই জাহাঙ্গীর বাহিনীর কবলে শুধু আমি নই, অনেকইে নির্যাতনের শিকার হয়েছে। সুবাস, মিজান, আজগর, শুকুরজান, হাতেম আলী, বারেক ও আনন্দসহ শতশত নিরীহ মানুষ এই জাহাঙ্গীর বাহিনী দ্বারা নির্যাতিত হয়েছে। এই বাহিনী প্রথমে চাঁদা দাবি করে। চাঁদা না দিলে ভূয়া দলিল বানিয়ে জমি জবরদখল করে। কেউ প্রতিবাদ করলে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করে। এছাড়া তার বাহিনীতে রয়েছে নারী সিন্ডিকেট। যাদের মাধ্যমে বিভিন্ন অনৈতিক কার্যকলাপ করিয়ে থাকে জাহাঙ্গীর। জাহাঙ্গীর বাহিনীর মাধ্যমে আমি নানাভাবে নির্যাতিত হয়েছি। মিথ্যা মামলায় আমাকে জেলও খাটিয়েছে। ৪টি ভূয়া ও জাল দলিল তৈরী করে প্রায় ২ কোটি টাকা মূল্যের ২৮ শতাংশ জমি জবরদখল করে রেখেছে। ভূয়া ও জাল দলিলগুলোর নাম্বার হলো- ২৬৭৯, ২৩৭৯, ৮২৮ ও ১১৮৬। জাহাঙ্গীর ও তার বাহিনী একটি স্ট্যাম্প করে নতুন করে ৩০ লাখ টাকা দাবি করেছে। যার স্ট্যাম্প নং- কট-৫২৮২৯৬৯ ও ৫২৮২৬৯৭। জমি দিবে বলে ৯ ল ৫০ হাজার টাকা নগদ নিয়েছে এখন জমিও দেয় না টাকা ও দেয় না এ ব্যাপারে মামলাও করা হয়েছে। এমতাবস্থায় আমরা এই চাঁদাবাজ, ভূমি জবরদখলকারী ও সন্ত্রাসী জাহাঙ্গীর ও তার বাহিনীর কবল থেকে রা পেতে চাই। এজন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ যথাযথ কর্তৃপরে নিকট আকুল আবেদন জানাচ্ছি যে, অবিলম্বে জাহাঙ্গীর ও তার বাহিনীকে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিন।
সংবাদ সম্মেলনে এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন- মোঃ আলমগীর, মোখলেছুর রহমান, জাহাঙ্গীর আলম।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *