‘ঘরোয়া’ খেলা বন্ধ না হলে আন্দোলনে সফলতা আসবে না: গয়েশ্বর

নিউজ দর্পণ, ঢাকা: দলের অভ্যন্তরের ‘ঘরোয়া’ খেলা বন্ধ না হলে সরকার হটানোর আন্দোলনে সফলতা আসবে না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।
দলের তৃনমূল পর্যায়ে সংগঠন শক্তিশালী করার তাগিদ দিতে গিয়ে দুপুরে এক প্রতিনিধি সভায় তিনি এই মন্তব্য করেন। নয়া পল্টনে গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের চেম্বারের ঢাকা জেলা কৃষক দলের উদ্যোগে এই প্রতিনিধি সভা হয়।
গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করার জন্য যে দল গঠন করেছিলেন তার সেই রেখে যাওয়া দল ৪২ বছর পরে মানসিকভাবে খন্ড-বিখন্ড, সাংগঠনিকভাবে খন্ড-বিখন্ড। অর্থাৎ দল আছে কারো সাথে কারো মিল নাই। আমরা ওপেন মাঠে খেলতে পছন্দ করি না, আমি ঘরোয়া খেলতে পছন্দ করি। ঘরোয়া খেলা মানে একজন আরেক জনের বিরুদ্ধে লাগা, একজন আরেকজনকে খাটো করা, একজন আরেকজনকে ব্যর্থ করা।
গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, আমাদের কারো সাথে কারো যদি মিল না হয় তাহলে অবক্ষয় হয় তাহলে কর্মফল আদায় করা যায় না। যদি যেতো তাহলে আমরা ১২ বছর রাস্তায় থাকি না, ১২ বছর লাগার কথা না। বাংলাদেশের সিংহভাগ লোক বিএনপিকে পছন্দ করে, যে দল বাংলাদেশের সর্ববৃহত দল, সেই দল পরনির্ভরশীল একটা সরকারকে কিছুই করতে পারতেছে না। বরং তারা(ক্ষমতাসীন) ব্যাঙ্গাত্মক ভাষায় কথা বলে এটা আপনাদের সহ্য্ করতে ভালো লাগে। কেনো?
এই অবস্থা থেকে উত্তরণে ভেদাভেদ ভুলে সকলে পরস্পরেরে মধ্যে সহযোহিতার মনোভাব বাড়িয়ে সংগঠনকে আন্দোলনমুখী করার আহবান জানান তিনি।
তিনি বলেন, আপনাদের মনে রাখতে হবে একজন ব্যাক্তি যদি ব্যর্থ হয় পুরো দলটাই ব্যর্থ হয়। সেই কারণে কাউকে ব্যর্থ না করে সকলে একজন আরেকজনকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করি তাহলে আমরা শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করে এই সরকারের হাত থেকে গণতন্ত্রকে পুনরুদ্ধার করতে পারবো।
সকলের মতামত নিয়ে তৃনমূল পর্যায়ে দল ও অঙ্গসংগঠনের কমিটি গঠন করার পরামর্শ দেন গয়েশ্বর ।
কৃষক দলের যুগ্ম আহবায়ক নাজিমউদ্দিন মাস্টারের সভাপতিত্বে ও বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য নিপুণ রায় চৌধুরীর পরিচালনায় প্রতিনিধি সভায় আরো বক্তব্য রাখেন, কৃষক দলের সদস্য সচিব হাসান জাফির তুহিন, ঢাকা জেলা সভাপতি দেওয়ান মো. সালাহউদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক খন্দকার আবু আশফাক, সহসভাপতি তমিজউদ্দিন আহমেদ, কেরানীগঞ্জ জেলার মোজাদ্দেদ আলী বাবু ও আবদুল মান্নান রতন, কৃষক দলের সদস্য শরীফুল ইসলাম মোল্লা, মেহেদি হাসান পলাশ, এম জাহাঙ্গীর আলম, মীর মোমিনুর রহমান সুজন প্রমুখ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *