খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের নেতৃত্বে দল সুসংগঠিত: সাক্ষাতকারে রিজভী

নিউজ দর্পণ, ঢাকা: বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে দল সুসংগঠিত আছে বলে দাবি করেছেন দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। 

রাজনৈতিক জীবনের শুরুতে বামপন্থী বিপ্লবী ছাত্র ইউনিয়ন সংগঠনের মাধ্যমে ছাত্র রাজনীতিতে প্রবেশ করেন। তিনি বিপ্লবী ছাত্র ইউনিয়ন রাজশাহী সরকারি কলেজ শাখার সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। পরবর্তীতে ছাত্রদল প্রতিষ্ঠা হওয়ার পর তিনি জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলে যোগদান করেন এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের প্রচার সম্পাদকের দায়িত্ব পান। পরবর্তীতে তিনি বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন এবং কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন রিজভী। রিজভী ১৯৮৯ সালের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) নির্বাচনে সহ-সভাপতি (ভিপি) নির্বাচিত হন। বর্তমানে তিনি বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব। নিউজ দর্পনের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে কথা হয় রুহুল কবির রিজভীর। 

নিউজ দর্পণ: অনেক দিন ধরে  বিএনপির পূর্নগঠন স্থাগিত রয়েছে।এর কারন কি দলে মধ্যে বিভাজন নাকি নেতৃত্বের অভাব ?

রুহুল কবির রিজভী: বিএনপির মধ্যে কোন বিভাজন কিংবা নেতৃত্বের অভাব নেই।বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে দল সংগঠিত আছে। তারেক রহমান লন্ডনে বসে দলসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত দিচ্ছেন। মহামারি করোনা ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের সহযোগিতা করার জন্য দলের নেতাকর্মীদের নির্দেশ দিয়েছেন। সে অনুযায়ী সারা দেশে নেতাকর্মীরা অসহায় মানুষের পাশে দাড়িয়েছেন। আর করোনাভাইরাসের কারনে দলের পূর্ণগঠন স্থাগিত করা হয়েছে। তারপরেও যে সব কাজ ভিডিও কনফান্সের মাধ্যমে করা যায় সেগুলো আমরা চালিয়ে যাচ্ছি। 

নিউজ দর্পণ: করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে সরকার যেসব ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে, সেগুলোকে আপনি কি যথেষ্ট বলে মনে করেন?

রুহুল কবির রিজভী: আমি মনে করি- সরকারি সব উদ্যোগ সম্পূর্ণ লোক দেখানো। যদি সরকারের ইতিবাচক উদ্যোগ গ্রহণ করার ইচ্ছা থাকতো তাহলে স্বাস্থ্য খাতের যে বিপর্যয়, এই বিপর্যয়ই হতো না। তিনি বলেন, স্বাস্থ্যখাতের বাজেট হচ্ছে একেবারেই নামমাত্র। একটি গুরুত্বপূর্ণ যে খাত, সেই খাতে উন্নত দেশগুলোতে যেসব ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে- বাংলাদেশে সেগুলোর কোন কিছু নেই। গরিব মানুষ ওষুধ কেনার অভাবে রাস্তা-ঘাটে মারা যায়! আর করোনার মতো যখন একটি বিশ্ব মহামারী থাবা যখন আসলো তখন একেবারেই এই সরকার চারিদিক থেকে ধসে গেছে। তারা কোন মোকাবেলা করতে পারেনি। আর এটার জন্য যেসব প্রাথমিক প্রতিরোধগুলো করা দরকার, সেই প্রতিরোধের জন্য পর্যাপ্ত ব্যবস্থা ছিল না। বরং আমরা দেখেছি, সরকারের যে স্বাভাবিক চরিত্র, প্রতারণা, জাল-জালিয়াতি ও দুর্নীতিগুলো যেন উন্মোচন হয়ে গেছে।

নিউজ দর্পণ: স্বাস্থ্যের ডিজির পদত্যাগকে আপনি কীভাবে দেখছেন?

রুহুল কবির রিজভী: এই লোকটা তো- আওয়ামী লীগের যে চিকিৎসকরা আছেন, সেখানকার মানুষ। পছন্দের লোককেই ডিজি করে দেয়া হয়েছে। আর এখন স্বাস্থ্য খাতে এমনভাবে অব্যবস্থাপনা, বিশৃঙ্খলা ও দুর্নীতি উন্মোচন হয়ে গেছে যে, বাধ্য হয়েই কাজটা করেছে। সরকার যখন দেখেছে, একেবারেই রাখা যাচ্ছে না তখন এই পদক্ষেপটা নিয়েছে। সুতরাং এখানে ক্রেডিটের কিছু না। কারণ এই লোকটাই বহাল তবিয়তে ডিজির দায়িত্ব পালন করেছেন। আর করোনা প্রতিরোধ যে ব্যবস্থা সেটা তো মহাপরিচালক জানবেন। কারণ তিনি তো একজন চিকিৎসক। কিন্তু এটা নিয়ে তিনি তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করেছেন।

নিউজ দর্পণ: দেশে করোনা নমুনা পরীক্ষা কমে যাওয়ার মূল কারণ কী। পরীক্ষা কম হওয়া কারণ কি ফি নির্ধারণ, না কি অন্য কোনো কারণ রয়েছে- এবিষয়টি আপনি কীভাবে দেখছেন?

রুহুল কবির রিজভী: মানুষ কেনো আসতে চাচ্ছে না, কেনো যাচ্ছে না? কারণ পরীক্ষার যে যথাযথ ফলাফল- সেটা আসছে না। যার নেগেটিভ তাকে পজিটিভ দিচ্ছে। আর যার পজিটিভ তাকে নেগেটিভ দিচ্ছে। আমরা রিজেন্ট হাসপাতাল ও জিকেজিতে যা দেখলাম, সেখানে মানুষ কেনো পরীক্ষা করতে যাবে? সুতরাং মানুষের মধ্যে ভীতি তৈরি হয়েছে যে, আমি যদি পরীক্ষা করতে যাই তাহলে আমার করোনা না থাকলেও বলে দেবে যে, আমার করোনা আছে। এই ভীতি থেকে মানুষ যাচ্ছে না। ‘আরেকটি হচ্ছে, সরকারও দেখছে, চূড়ান্ত বিশৃঙ্খলা। সেজন্য এখন আর ব্রিফিং করে না এবং কিছু বলেও না। কারণ এখানে সরকারের কোন নিয়ন্ত্রণ নেই। আর নিয়ন্ত্রণ করার মতো সরকারের যে দক্ষতা থাকা দরকার তা তাদের নেই। নিয়ন্ত্রণ নেই বলেই মানুষ বাঁচুক–মরুক তাতে তাদের কিছু যায় আসে না। তাই তারা (সরকার) সবকিছু ছেড়ে দিয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *